Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৫-২০১২

বাংলাদেশে অনুমতি ছাড়াই কাজ করছে বিদেশিরা : বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে বাইরে

জামাল উদ্দীন


বাংলাদেশে অনুমতি ছাড়াই কাজ করছে বিদেশিরা : বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে বাইরে
বাংলাদেশে অনুমতি ছাড়াই বিদেশিদের কাজ করার সুযোগ যেন অবারিত। বিনিয়োগ বোর্ডেও সঠিক পরিসংখ্যান নেই, আসলে কি পরিমাণ বিদেশি এ দেশে কাজ করছে। তবে বিনিয়োগ বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, কমপক্ষে কয়েক লাখ লোক এখানে কাজ করছে। এদের অনেকেই ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশে এসেছে। কেউ বা ওয়ার্ক পারমিট নিলেও পরবর্তীতে আর নবায়ন করছে না।

অনুমোদনহীনভাবে এ দেশে কাজ করা ও বসবাস করার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। কিন্তুু এসব দেখভাল করার দায়িত্ব যাদের তাদেরও তত্পরতা তেমন একটা চোখে পড়ে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সূত্রমতে, বাংলাদেশে শিল্প ও সেবা খাতে প্রচুর পরিমাণ বিদেশি কাজ করছে। এদের সবার কাজ করার অনুমতি নেই। এরমধ্যে যেমন আছে চিকিত্সাখাতে, তেমন আছে বস্ত্রখাতে, আছে অন্যান্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিংবা সেবাখাতে। এমন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেখানে সিংহভাগই বিদেশি। এরা মোটা অংকের বেতন ভাতাও নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তুু সেভাবে তারা সরকারকে কর দিচ্ছে না। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের এ সময়ে দেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে এমনিতেই মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু এডিশন কম। সেখানে এ খাতে কর্মরত বিদেশিদের জন্য উচ্চ বেতন দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এমনকি বাংলাদেশি যোগ্য নির্বাহীরাও বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে। বাংলাদেশিরাই বরং বিদেশিদের চেয়ে বেশি দক্ষ এবং বেশি শ্রম দিয়ে থাকে। বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও বিষয়টি নিয়ে খুশি নন। বিভিন্ন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানে বায়িং হাউজে কর্মরত বিদেশিরাও কখনো কখনো চাপ সৃষ্টি করে তাদের স্বজনদের চাকরি দিতে। ফলে, নিরূপায় হয়ে বেশি বেতন দিতে হয়। এরা কাজ কম করলেও কিংবা কম দক্ষ হলেও বেশি পারিশ্রমিক নিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করা অবৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থা সঠিকভাবে কাজ করে না। কখনো বা তাদের পরিদর্শক দল পরিদর্শনে গেলে তাদের সঙ্গে ‘দফারফা’ করা হয় বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসবের প্রতিবাদ করেও কোন লাভ হয় না। বরং বাংলাদেশিরাই ওই বিদেশিদের ‘ভুয়া’ কাগজপত্র তৈরি করে দেয় এবং প্রমাণ করতে সচেষ্ট থাকে যে, তারা বৈধ। কিন্তু কেন তারা এমনটি করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে একটি গার্মেন্টসের নির্বাহী এমদাদুল হক মিয়াজী বলেন, কোম্পানির স্বার্থে এটি করতে হয়।

সূত্রমতে, বিদেশিরা যে প্রতিষ্ঠানেই কাজ করুক না কেন, তাদের সঠিক পদবিও সরকারের ঘরে লেখা থাকে না। বিশেষত যারা শুরুতে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আসে, তাদেরকে দেখানো হয় ‘টেকনিশিয়ান’ পদে। বাস্তবে এদের অনেকেই উচ্চতর নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করে থাকে। এর কারণ হিসাবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, উচ্চ পদ দেখালে বেশি বেতন দেখাতে হয়। তাই নিম্নপদ দেখানো হয়। সূত্রমতে, কেউ কেউ ৫ লাখেরও বেশি টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু সরকারকে দেখানো হয় ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা ‘ভিন্ন’ পন্থায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।

একইভাবে অন্যান্য খাতেও সমান অবস্থা। পরামর্শ ফির নাম করে প্রচুর পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। তবে গার্মেন্টস খাতে এই অবস্থার অবসানে একটি ফোরাম গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশি নির্বাহীরা নিজেদেরকে অনেক দক্ষ মনে করে এবং তাদের মতে বিদেশিদের চেয়ে তারা বেশি যোগ্য। কাজেই দেশ থেকে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা যাতে চলে যেতে না পারে সে ব্যবস্থা করা হোক।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সিকিউটিভ এসোসিয়েশন (বিজিইএ) নামে ঐক্যবদ্ধ তারা। বিষয়টি গার্মেন্টস মালিক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএকেও জানিয়েছেন তারা। এই সংগঠনের সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই বিদেশিরা এদেশে সঠিকভাবে কাজ করুক। কিন্তুু সংখ্যায় তারা যত বেশি, তত আসলে আমাদের দরকার হয় না। এমনিতেই আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। তাদের কারণে আমাদের তরুণদের কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই আমরা মনেকরি কথা বলার সময় এসেছে।’ তিনি বলেন, এভাবে অন্যান্য খাতের লোকরাও যদি এগিয়ে আসে, তাহলে দেশ উপকৃত হবে। বিদেশিরা কাজ করলে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই করতে হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে