Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৫-২০১২

‘ইতিহাস বিকৃতিও রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিকৃতিকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত’

ইলিয়াস সরকার


‘ইতিহাস বিকৃতিও রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিকৃতিকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত’
ঢাকা, ৫ মার্চ : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের মামলায় সোমবার আদালতে হাজির হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর হারুন-অর-রশিদ।

আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সৈয়দ হায়দার আলী।

শুনানিতে আদালত সৈয়দ হায়দার আলীর উদ্দেশে বলেন, ‘আজ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে এমএলএম পদে নিয়োগের জন্য একটি মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় স্বাধীনতার ঘোষকের নাম জিজ্ঞাসা করা হলে ৯০ শতাংশ প্রার্থী জিয়াউর রহমানকে ঘোষক বলেছেন। এর দায় কার? প্রফেসররা বই লেখেন জিয়াউর রহমানকে ঘোষক বলে। আর কোমলমতি ছেলেরা তাই পড়েন। যারা এসব ইতিহাস বিকৃতি করেন, তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত। তাদের একমাত্র শাস্তি হলো ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো।’

আদালত আরো বলেন, ‘আমরা জানি, যখন স্বাধীনতা ঘোষণা হচ্ছে, তখন জিয়াউর রহমান সোয়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানি অস্ত্র খালাস করতে যাচ্ছিলেন। পরে সৈন্যদের প্রতিরোধের মুখে তিনি আর যাননি। এটা মেজর রফিকও বলেছেন।’

আদালত বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যারা এ কাজ করেছেন, হয় তারা আহাম্মক, না হলে তারা ইচ্ছে করে এ কাজ করেছেন। এতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। যতোদিন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বইতে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক লেখা ছিল, ততোদিন শিক্ষার্থীরা এ বিষয়টিই জেনেছে। এটা এখন আর তাদের মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। বা তাদেরকে আবার ওই ক্লাসে ভর্তি করিয়ে সংশোধন করে পড়ানো যাবে না।’

এ সময় হায়দার আলী বলেন, ‘যারা এটা করেছেন, তাদের শাস্তি দাবি করছি।’

আদালত বলেন, ‘এমন বিশ্বাসঘাতকতা কিভাবে হলো? যারা করেছেন, তাদের ফাঁসি দেওয়া উচিত।’

এক পর্যায়ে আদালত জানতে চান ২০০২ সাল থেকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি  ও রেজিস্ট্রার কে ছিলেন?

এরপর প্রফেসর হারুন-অর-রশিদ আদালতে বলেন, এ ধরনের দুষ্কর্ম যারা করেছেন, ‘তারা স্বাধীনতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ২০০০ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় আমি ও প্রফেসর শওকত আরা হোসেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র বইটি লিখি। ওই সময় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন প্রফেসর আমিনুল ইসলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের কথা লিখেছিলাম এবং ওই দিনে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাও বইটিতে উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রফেসর ড. এরশাদুল বারী ভিসি হন। তারপর ২০০২ সালে আমাদের বিষয়টিকে তারা বিকৃতি করে দেন। আর এটা চলে ২০০৯ সাল পর্যন্ত।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘তার মানে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ ইতিহাস বিকৃতি চলে।’

এরপর হারুনুর রশীদ আগে ও পরে প্রকাশিত বইগুলো দেখান। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এরশাদুল বারী, ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এম ফরিদ আহাম্মেদ, ২০০৮-২০০৯ সালে রুহুল আমিন আকন্দ এবং ২০০৯ থেকে আমিনুর রশীদ উপাচার্য রয়েছেন। এ ঘটনার জন্য সকল উপাচার্যই দায়ী।

তিনি বলেন, ‘এইচএসসির বই হওয়ার কারণে এটা আমরা খেয়াল করিনি।’ তখন আদালত বলেন, ‘আপনি বিষয়টি কখন জেনেছেন?’ জবাবে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘২০০৯ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরে আমি জেনেছি। পরে ওই বছরের ২২ নভেম্বর আমি তাদের (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) চিঠি দিয়েছি। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে আমি একটি মামলাও করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা বইটি পরে পরিবর্তন করেছেন। বিকৃত বইটি এখন আর নেই। ২০১০ সাল থেকে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ভার্সনের বই প্রকাশিত হচ্ছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত আমিও তাদের শাস্তি দাবি করছি। বই পাইরেসি করতে পারে। কিন্তু বিকৃতিতো করতে পারে না।’

এ সময় আদালত আবারো বলেন, ‘দে শুড বি হ্যাং’।

শুনানি শেষে আদালত ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এরশাদুল বারীকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ১২ মার্চ তলব করেন।
 
প্রসঙ্গত, পাঠ্য বইয়ে ইতিহাস বিকৃতি করার অভিযোগে করা রিটের রুলের শুনানি চলছে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বইতে বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপনের অভিযোগে ২০১০ সালে আদালতে এ রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আলতাফ উদ্দিন।

হারুন-অর-রশীদ ও শওকত আরা যৌথভাবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র বই লেখেন। ওই বইটি বিকৃত করে পরে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ গ্রেফতারের পর জনতা দিক-নির্দেশনার অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে। জাতির এ সঙ্কটকালে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’

অন্যদিকে সাবিহা সুলতানা, মাহফুজা চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একই  প্রোগ্রামের সমাজ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বই লেখেন।

ওই বইয়ের ‘বাংলাদেশের জন্ম ও ক্রম বিকাশ’ অধ্যায়ের এক অংশে বলা হয়, ‘অকুতোভয় মেজর জিয়া তার সহসঙ্গী বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে কেবল পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামই গড়ে  তোলেননি। তিনিই প্রথম চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’

পরে হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘আমরা যখন ২০০০ সালে বইটি লিখেছিলাম, তখন উপরোক্ত কথাগুলো ছিল না। এটা বিএনপির সরকারের সময় বিকৃত করা হয়েছে। যারা এ বিকৃতি করেছেন, তাদের শাস্তি দাবি করছি।’

সোমবার আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন ড. বেলাল হোসেন জয়, প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের পক্ষে সৈয়দ হায়দার আলী। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যটার্নি জেনারেল এবিএম আলতাফ হোসেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে