Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৫-২০১২

পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ

পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ
ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এক বছরের সুদের (২০১১-২০১২ অর্থবছর সময়ে উদ্বৃত্ত সুদের) ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যাদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ আছে এবং এর বিপরীতে ঋণ নিয়েছেন, তারাই এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া পুঁজিবাজারে ঋণ নেয়া এবং না নেয়া দুই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর জন্যই ২০১২ ও ২০১৩ সালে যত শেয়ারের আইপিও আসবে, সেখানে ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ থাকবে। এই কোটায় সব শ্রেণীর ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত কোটার চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে তাদের মধ্যে লটারি করে কোটা বরাদ্দ দেয়া হবে। আজ রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য গঠিত স্কিম কমিটির প্রধান এবং আইসিবির এমডি এম ফায়েকুজ্জামান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিনিধি ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারিজ হাউসসহ সংশ্লিষ্ট ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবসমূহের এক বছর সময়ে অর্জিত সুদের ৫০ শতাংশ মওকুফ করতে পারবে। বাকি যে ৫০ শতাংশ সুদ থাকবে তা একটি সুদবিহীন বস্নক অ্যাকাউন্ট হিসেবে স্থানান্তর করে তিন বছরে সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে শোধ করার সুযোগ দেয়া হবে। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারিজ হাউসগুলো সুদ মওকুফ করতে বাধ্য কিনা এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা সবাই কথা দিয়েছে যে তারা সুদ মওকুফ করবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অবশ্যই সুদ মওকুফ করবে। ২০১১ সাল অথবা ২০১১-২০১২ অর্থবছরে যারা ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছেন, তারা ঋণ মওকুফের এ সুবিধা পাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেয়া হবে, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারিজ হাউসগুলো তা নিজেরা ঠিক করবেন। এটি তারা নিজের খরচ হিসাবেই দেবেন। এজন্যে তারা সরকারের কাছ থেকে কর সুবিধা পাবেন। গভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সিদ্ধান্তের লিখিত কপিতে বলা হয়েছে, মার্জিন হিসাবে ৩০ নভেম্বর ২০১১ ডেবিট ব্যালেন্স হতে মোট সুদ (মওকুফযোগ্য ও প্রাপ্য) বাদ দেয়ার পরে অবশিষ্ট অর্থ ভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করে যুক্তিসঙ্গত হারে (সবোচ্র্চ ১০ শতাংশ হারে) তিন বছরের সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধের জন্যে পুনঃতফসিল করার সুযোগ থাকবে। এই আলাদা তহবিলে স্থানান্তরিত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা এবং পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ সীমা থেকে বাদ দিয়ে হিসাব করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হবে। নতুন করে মার্জিন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এই আলাদা করে রাখা তহবিলের অর্থ বিবেচনায় না নিয়ে প্রচলিত নিয়মে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবে নতুন করে মার্জিন ঋণ দিয়ে লেনদেনের সুযোগ দেবে। এসব সিদ্ধান্তে বাজার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এরপর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এক বছর দুই মাসে তিন দফায় দরপতন হয় প্রায় ৬০ শতাংশ। এর মধ্যেই গত ১৬ নভেম্বর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাজার স্থিতিশীল করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিভিন্ন সুপারিশ প্রণয়ণের লক্ষ্যে সরকারের ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে