Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৫-২০১২

ডিবি কার্যালয়ে মজিনা: বাংলাদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটি নেই

ডিবি কার্যালয়ে মজিনা: বাংলাদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটি নেই
বাংলাদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর কোন ঘাঁটি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি স্থাপন সংক্রান্ত সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টকে ভিত্তিহীন ও কল্পিত বলে দাবি করেছেন তিনি। গতকাল সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে রাষ্ট্রদূত বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা রয়েছেন মর্মে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অ্যাডমিরাল রবার্ট উইলার্ডের কংগ্রেসে দেয়া বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য এখানে আসা-যাওয়া করেন। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশীয় বাহিনীর সদস্যদের তারা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় উল্লেখ করে মজিনা বলেন, যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ছাড়াও সমুদ্রসীমা ও স্থলসীমান্তে পাহারা জোরদার করতে এদেশের বাহিনীগুলোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা বহু বছর ধরে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে বলে জানান তিনি।
১ কোটি ৯০ লাখ ডলার সহায়তা: মার্কিন সহায়তায় স্পেশাল ট্রেনিংপ্রাপ্ত পুলিশের কামান্ডো ফোর্স সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং নবগঠিত  সন্ত্রাসবিরোধী আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন ইউনিট-সিটিটিইউসি’র সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তৃতায় বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে অংশীদার হিসেবে পেয়ে আমেরিকা গর্বিত। বাংলাদেশ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে বিগত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত এক কোটি ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তা বাংলাদেশের হাজার হাজার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে ঢাকা মহানগর পুলিশকে তিনটি ইউনিট গঠনে এবং নানা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এ ইউনিটগুলোর মধ্যে থাকা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তের ওপর প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। সোয়াট বাহিনী যে কোন সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুপ্রশিক্ষিত, সশস্ত্র এবং সুসজ্জিত। নবগঠিত সন্ত্রাসবিরোধী ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন ইউনিট কার্যকর তদন্তকাজ পরিচালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। মজিনা বলেন, আমি গর্বিত, আমার সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এ লড়াইয়ে আমেরিকা ও বাংলাদেশের জোরালো অংশীদারিত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশী, আমেরিকান এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ আমরা সবাই বর্তমানে আগের চাইতে অধিকতর নিরাপদ। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে কিছু মানুষ ‘সোনালি ভবিষ্যৎ’ গড়ার স্বপ্ন  দেখার বিরোধী। আসলে তারা দেশে শান্তি, সৌহার্দ্য ও গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে চায়। আমরা তাদের সন্ত্রাসী বলে থাকি। এসব সন্ত্রাসী বাংলাদেশের শত্রু, আমেরিকার এবং বিশ্বের প্রতিটি গণতান্ত্রিক  দেশের শত্রু। এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই তাদের মোকাবিলা করবে।
বাংলাদেশ এক মহান দেশ: বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি মহান দেশ এবং আশার দেশ হিসাবে আখ্যায়িত করে মজিনা তার বক্তৃতার শুরু করেন। বলেন, আমার আশাবাদ, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখানে ঊজ্জ্বল। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দুই-এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। সেই সঙ্গে এ দেশ হবে অধিকতর সমৃদ্ধশালী, উন্নত হবে নাগরিকদের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং শিক্ষার মান। বাংলাদেশকে আমরা জানি ও ভালবাসি শান্তিপূর্ণ, সহিষ্ণু, একতাবদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে। যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য কার্যকর, সৎ এবং সেবাকেন্দ্রিক পুলিশ অপরিহার্য উল্লেখ করে মজিনা বলেন, গত সপ্তাহে আমি সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সফর করেছি, যেখানে আমেরিকা পুলিশিং-এর একটি নতুন ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিতে বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তা করছে। সেবার ওপর ভিত্তি করে একটি বাহিনী গড়ে উঠছে, যা পুলিশিং-এর প্রচলিত ধারণা থেকে আলাদা। সেই কমিউনিটিকে সেবা দেয়ার জন্য, যাদের রক্ষার জন্য পুলিশ বাহিনী শপথ নিয়েছে। বাংলাদেশ যেভাবে কমিউনিটি পুলিশিং-এর ধারণা গ্রহণ করছে তা দেখে আমি গর্বিত। বাংলাদেশের পুলিশ সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে আমেরিকা সহায়তা করছে। মজিনা তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বলেন, পুলিশকে আরও উন্নত ও আধুনিকীকরণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের নেতৃত্বের দৃঢ় মনোবল দেখে আমি খুশি। তাদের এ দৃঢ় মনোভাব দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য সুফল বয়ে আনবে। মজিনা জানান, সোয়াট বাহিনীর ৪৮ সদস্যই যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। নতুন আরও ৪৮ জনকে প্রশিক্ষণ  দেয়ার আগ্রহ আমাদের রয়েছে। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বাংলাদেশের প্রয়োজন। সরকারও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন ডিএমপি কমিশনার। অনুষ্ঠানে ডিবি’র জয়েন্ট কমিশনার শেখ মারুফ হাসান এবং উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বক্তৃতা করেন।  
বিপণিকেন্দ্রের উদ্বোধন: দুপুরে বনানীতে মার্কিন পণ্যসামগ্রীর একটি বিপণিকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে এদেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অবস্থান প্রসঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে  জোরালো সহযোগিতার আওতায় তারা আসা যাওয়া করেন। এখানে তাদের কোন অফিস রাখা জরুরি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রথম প্যারা কমান্ডো গঠনে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক সহায়তা করা হয়েছে। ৫৪৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন আছে আরও ১১৬টি। মজিনা বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য বাংলাদেশকে কার্যকর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে দু’দশের সহযোগিতা অব্যহত আছে। বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অফিস খোলার কোন চিন্তা তার সরকারের আছে কিনা? এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, এর কোন প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, কার্যকর প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার মাত্রা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের ঝুঁকি আছে কিনা, জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, কেবল বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্র বলে কথা নয়, বিশ্বের যে কোন গণতান্ত্রিক দেশই এই ঝুঁকিতে রয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে