Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩০ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (108 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৪-২০১২

ইতালিতে ইউরোপের প্রথম শহীদ মিনার

পলাশ রহমান


ইতালিতে ইউরোপের প্রথম শহীদ মিনার
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি এলেই গাছে গাছে লাল শিমুল ফোটে। ফাগুনের হু হু করে বয়ে যাওয়া দখিনা বাতাস যেন ছুঁয়ে যায় বাঙালির অস্তিত্ব। নিজেকে নতুন করে চিনে নেয়ার শক্তি যোগায়। ঘড়ির কাঁটা যখন মধ্যরাত অতিক্রমের ঘোষণা দেয়, সব পথ গন্তব্য খোঁজে শহীদ মিনারের দিকে। সব কণ্ঠ গেয়ে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ সারিবদ্ধভাবে মিছিলের পর মিছিল এগিয়ে চলে। একটি-দুটি করে লাখো স্তবক নিবেদিত হয় শহীদ মিনারের বেদীতে। গোলাপ, গাঁদা, গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, ডালিয়া, চামেলী, চন্দ্রমল্লিকা যে নামেই ডাকি সে অগ্রজ শহীদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা জড়ানো শ্রদ্ধার্ঘ্য। এমন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার আয়োজন এখন আর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে। এশিয়া থেকে ইউরোপ, ইউরোপ থেকে আমেরিকা। সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের অগ্রজ শহীদদের প্রতি ভালোবাসা। পৃথিবীর সকল মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার।
 
এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের আদলে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয় ইতালিতে। আদরিয়াতিকো সাগরের কূলঘেঁষা বন্দর শহর ‘বারি’। যেখানে এক হাজারেরও কম বাংলাদেশির বসবাস। সেখানেই নির্মিত হয় ইতালির প্রথম শহীদ মিনারটি। স্থানীয় পৌরসভার জায়গায় এবং বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ সমিতির অর্থায়নে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে। এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী। শহীদ মিনারটি নির্মাণের জন্য যাবতীয় অর্থ যোগান দেয় বারিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরপর ইতালির রাজধানী রোমে নির্মিত হয় দ্বিতীয় শহীদ মিনার। ভিয়া পানামার ইসহাক রবিন পার্কে এটি নির্মিত হয় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সাত মিটার দৈর্ঘ্য ও দুই দশমিক দশ মিটার প্রস্থের এই শহীদ মিনারটি নির্মাণের যাবতীয় খরচ বহন করে বাংলাদেশের সরকার।
 
ঢাকার জাতীয় শহীদ মিনারের মূল নকশায় তৈরি এ শহীদ মিনার নির্মাণে ইস্পাত, মোজাইক ও মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। শহীদ মিনারের গায়ে বিশ্বের প্রধান প্রধান ভাষাগুলোর নাম খোদাই করে লিখা হয়েছে এবং সর্ব প্রথম চূড়ায় বাংলায় লিখা হয়েছে ‘মা’। ইতালির রাজধানী রোমে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশকে, বাংলা ভাষার ইতিহাসকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার নতুন একটি ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মজার বেপার হচ্ছে ইতালিতে লক্ষাধিক বাংলাদেশি বসবাস করে এবং এদের বেশির ভাগ বসবাস করে রোম, ভেনিস, মিলানো, পালেরমো, ভিচেন্সা বা ব্লোনিয়ার মতো বড় বড় শহরে। অথচ প্রথম শহীদ মিনারটি নির্মিত হলো ‘বারি’ শহরে। যেখানে মাত্র ৫ থেকে ৭শ বাংলাদেশি বসবাস করে। ভেনিস, মিলানো, পালেরমোর মতো বড় শহরগুলোতেও স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চালান হচ্ছে। সফলতা না আসার পেছনের কারণ হিসেবে অনেকে চিহ্নিত করেন বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথাগত অনৈক্যকে।

ইতালি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে