Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ , ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (48 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৬-২০১৪

আগারগাঁওয়ের শাহজালাল জেনারেল হাসপাতাল সিলগালা

আগারগাঁওয়ের শাহজালাল জেনারেল হাসপাতাল সিলগালা

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর- রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শাহজালাল জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ ভূয়া ডাক্তার, ১ ভূয়া নার্স ও ২ ভূয়া টেকনিশিয়ানসহ ৬ জন কে ২ বছর করে কারাদন্ড ও ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপর হাসপাতালটিও সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ভূয়া ডাক্তার মাসুম, সুজন ও সুমন, ভূয়া নার্স মিতু জয় ধর ও ভুয়া টেকনিশিয়ান পঙ্কজ চন্দ্র ও সুব্রত বালা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা। এছাড়াও অভিযানে অংশ নেন র‌্যাব-২ এর মেজর নাসির উদ্দিন আহমেদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডা. স্বপন কুমার তপাদার।

র‌্যাব-২ এর মেজর নাসির উদ্দিন বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শাহজালাল জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাব-২ এর নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযুক্ত ছয় জনকে তাৎক্ষণিকভাবে ২ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

হাসপাতালটি চালাচ্ছিল ভূয়া ডাক্তার, ভূয়া নার্স ও ভূয়া টেকনিশিয়ানরা। মাসুম নামে এ হাসপাতালের দায়িত্ব পালনকারী মূল ডাক্তার মাত্র এইচএসসি পাশ করে অপারেশনসহ সব ধরনের রোগী দেখা ও প্রেসক্রিপশন লেখার কাজ করেন। অভিযানের সময় অপারেশনের ৮ জন রোগী সেখানে উপস্থিত ছিল। অভিযুক্ত ৬ জন মিলে তাদের চিকিৎসা প্রদান করছিলেন।
অভিযানের সময় অপারেশন থিয়েটারে ফজলুল হক নামের এক রোগীর পায়ের অপারেশন চলছিল। এ সময় হাসপাতালে কোন ডাক্তার ছিলনা। হাসাপাতালের মালিক সুজন ও তার চাচাত ভাই সুমন মিলে ফজলুল হকের পায়ের ব্যান্ডেজ কেটে প্লাস্টার করছিল।

ফজলুল হক জানান, তিনি ডেকরেটরের দোকানে কাজ করেন। ভ্যান গাড়ীতে ডেকরেটরের মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় প্রাইভেট করের সাথে দূঘর্টনায় তার পা ভেঙ্গে যায়। পঙ্গু হাসপাতালে গেলে দালালদের খপ্পরে পড়ে এখানে আসেন এবং অদক্ষ ব্যক্তিরা তার পায়ের প্লাস্টার করেন ও ভূয়া ডাক্তার মাসুম পেসক্রিপশন দেয়।

মলন মোল্লা নামের অপর রোগী এসময় আরেকটি কেবিনে ভর্তি ছিলেন। পনের দিন আগে এখানে তার কৃত্রিম পা লাগানো হয়। বড় মাপের এ ধরনের অপারেশনের পর দক্ষ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি হলেও পরবর্তী সকল চিকিৎসা ও ঔষধ দিচ্ছিলেন ভূয়া ডাক্তার মাসুম।


মিলন মোল্লা জানান, তার পায়ে এখনো ব্যাথা রয়েছে। এমনকি ইনফেকশন হয়ে গেছে। ফরিদপুর থেকে নসিমন দূঘর্টনায় হাটুর উপর ও নিচের হাড় ভেঙ্গে পঙ্গু হাসপাতালে এলে দালালরা তাকে এখানে নিয়ে আসে। কিন্তু ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে চিকিৎসা শুরু ও অপারেশন হলেও এখনো ভালো হননি তিনি।

এসময় ২ বছর বয়সী দিঘি নামে একটি শিশুকে তার দরিদ্র কৃষক পিতা-মাতা বিক্রমপুরের নিমতলা থেকে নিয়ে আসেন। খেলতে গিয়ে পা ফুলে যাওয়ায় মায়ের পীড়াপীড়িতে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে এলে দালালরা এখানে নিয়ে আসে তাকে। শিশুটির পায়ের এক্সরে করা হয় এবং পায়ে প্লাস্টার করেন ওই ছয় অদক্ষ ব্যক্তি। অভিযানের সময় এক্সরে ফিল্ম পরীক্ষা করে দেখা যায় প্লাস্টার করার মতো কোনো কারণ না থাকলেও শুধু টাকার জন্য ছোট শিশুটির পায়ে প্লাস্টার করা হয়।

শিশুটির দরিদ্র কৃষক পিতা পলাশ জানান, মানুষের জমিতে কৃষিকাজ করে অতি কষ্টে টাকা সংগ্রহ করে তিনি মেয়ের চিকিৎসা করাতে এসে প্রতারিত হয়েছেন। মেয়েকে আরো কষ্ট দিয়েছেন। তিনি অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেন।

নুরুল ইসলাম নামে আরেক চিকিৎসাধীন জানান, তিনি ৫৫ হাজার টাকা খরচ করে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পায়ে রিং লাগিয়েছেন, তার পায়ে এক্সরে করা হয়েছে। ওই এক্সরে রিপোর্টে ডাক্তারের স্বাক্ষর করেছেন হাসপাতালের মালিক সুজন নিজেই।

ওই হাসপাতালের অনুমোদন ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ হয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনুমোদন নবায়ন না করলেও অবৈধভাবে হাসপাতালটি চালিয়ে আসছেন এর মালিক। হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি অত্যধিক পুরোনো ও পরমাণু শক্তি কমিশনের ছাড়পত্র নেই, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সুব্রত বালা ও পঙ্কজ চন্দ্র টেকনিশিয়ান আর মিতু জয় ধর নার্স পরিচয়ে কাজ করলেও তাদের রেজিস্ট্রেশন নেই। মানসিক বিভাগে এসএসসি পাশ করে নার্সিং ডিগ্রী ছাড়াই এখানে কাজ করছেন মিতু।

প্রতি দশ বেডের হাসপাতালে তিনজন ডাক্তার ও ছয়জন নার্স ও তিনজন সুইপার বাধ্যতামূলক হলেও এখানে রয়েছে ৩ জন ভূয়া ডাক্তার, ১ জন ভূয়া নার্স ও ২ জন ভূয়া টেকনিশিয়ান। ভূয়া ডাক্তার সুজন মানবিকে এইচএসসি, সুমন মানবিকে এসএসসি আর মাসুম বিজ্ঞানে এইচএসসি ২য় বিভাগে পাশ করে ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন লেখা ও অপারেশনের কাজ করছিলেন।

খুবই নোংরা পরিবেশে অমানবিকভাবে প্রতারণাপূর্ণ উপায়ে চিকিৎসা প্রদানের দায়ে ৩ ভূয়া ডাক্তারকে দুই বছর করে কারাদন্ড ও আর ভূয়া নার্স ও দুই টেকনিশিয়ানকে ছয় মাসের কারাদন্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপর হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত সুজন জানায় গত তিন বছর যাবৎ ওই হাসপাতালটি এভাবেই চালাচ্ছিল তারা।

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে