Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ , ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (33 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৬-২০১৪

ক্রিকেটের পাঁচ মজার তথ্য

ক্রিকেটের পাঁচ মজার তথ্য

ক্রিকেট মানেই নাকি পরিসংখ্যান। কিন্তু নিরেট পরিসংখ্যান নয়, ক্রিকেটে আছে অনেক গল্পগাথা। অনেক মজার, কৌতূহলোদ্দীপক কিছু ঘটনাও। আসুন, একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক ক্রিকেট ইতিহাসে কৌতুহলোদ্দীপক এমনই পাঁচ তথ্যে—

একাধিক দেশকে প্রতিনিধিত্ব
ক্রিকেটে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি দেশের হয়ে টেস্ট খেলার নজির আছে। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি ক্রিকেটার আবদুল হাফিজ কারদার ভারতের হয়ে টেস্ট খেলেছেন। ভারত-পাকিস্তান দুই দলের হয়ে টেস্ট খেলা আর দুই ক্রিকেটার হচ্ছেন আমির এলাহী ও গুল মুহাম্মদ। এঁরা সবাই সাতচল্লিশের দেশভাগ-পূর্ব সময়ে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকা ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার পরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। জেজে ফেরিস, মিডউইন্টার, ডব্লুএল মারডক, এ ই ট্রট, এসএমজে উডস এমন কয়েকটি নাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলা এসসি গুইলেন পরে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে খেলা ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ নবাব পতৌদি। বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের দাদা ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদির বাবা নবাব সাহেব ভারতের হয়ে খেলার আগে খেলেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা জন ট্রাইকস একসময় দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতেন।

দুই দেশের হয়ে খেলার আরও একটি বড় উদাহরণ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলস। আশির দশকে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন বর্ণবাদের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নির্বাসিত, ওয়েসেলস তখন খেলতেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। হালের ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের ইয়ন মরগান প্রতিনিধিত্ব করছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। হল্যান্ডের ডার্ক ন্যানেস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে।

একটানা সবচেয়ে বেশি টেস্ট
টানা সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা ক্রিকেটারের নাম অ্যালান বোর্ডার। ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সময়ে টানা ১৫৩টি টেস্ট খেলেছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। এর পরের অবস্থানেই আছেন বোর্ডারের স্বদেশী মার্ক ওয়াহ। তিনি খেলেছেন টানা ১০৭টি টেস্ট। সুনীল গাভাস্কার খেলেছেন টানা ১০৬টি টেস্ট। এই তিন ক্রিকেটার ছাড়া আর কেউই একটানা ১০০টি টেস্ট খেলার নজির রাখতে পারেননি। এই তিনের বাইরে টানা ৯৩ টেস্ট খেলার কৃতিত্ব আছে ভারতের রাহুল দ্রাবিড়ের। অস্টেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট খেলেছেন ৯০টি টেস্ট। শচীন টেন্ডুলকারের আছে একটানা ৮৪টি টেস্ট খেলার রেকর্ড।

সবচেয়ে কম বয়সী টেস্ট ক্রিকেটার
পাকিস্তানের হাসান রাজা ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী টেস্ট ক্রিকেটার। ১৯৯৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফয়সালাবাদ টেস্টে মাত্র ১৪ বছর ২৭৭ দিন বয়সে অভিষিক্ত হয়েছিলেন রাজা। এই রেকর্ড গত ১৮ বছরে ভাঙতে পারেনি আর কেউই। হাসান রাজার আগে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার ছিলেন পাকিস্তানেরই মুশতাক মোহাম্মদ। ১৫ বছর ১২৪ দিন বয়সে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। এই দলের তৃতীয় নামটি বাংলাদেশের। মোহাম্মদ শরীফ। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিডিয়াম ফাস্ট বোলার শরীফের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ১৫ বছর ১৮৯ দিন বয়সে।

ক্রিকেট দলে আত্মীয়তা
ক্রিকেটের ইতিহাস সমৃদ্ধ করেছেন মোট ৩৬টি বাবা-ছেলে জুটি। মানে বাবা টেস্ট খেলার পর ক্রিকেটের মাঠে তাঁর উত্তরাধিকার ধরে রেখেছেন তাঁর ছেলে। একই মায়ের চার সন্তান হানিফ মোহাম্মদ, সাদিক মোহাম্মদ, মুশতাক মোহাম্মদ ও ওয়াজির মোহাম্মদ পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন। আবার হানিফ মোহাম্মদের সন্তান শোয়েব আশি ও নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলেছেন। গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল ও ট্রেভর চ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা তিন বিখ্যাত ভাই। শ্রীলঙ্কার রানাতুঙ্গা ভাইয়েরাও পড়েন এই দলে। এঁদের পাশাপাশি আরও ৬৬ জোড়া ভাই কোনো না কোনো টেস্ট দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে ভাইয়েরা রাজত্ব করেছেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। একই সঙ্গে আশির দশকে জাতীয় দলের একাদশে খেলেছেন মিনহাজুল আবেদীন ও নূরুল আবেদীন। নাফিস ইকবাল ও তামিম ইকবালের কথা সবারই জানা। তবে দুই ইকবালের কখনোই একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলা হয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সহোদরের ইতিহাস গড়া এই দুই জোড়া সহোদরই চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা।

অন্য খেলায় খেলা ক্রিকেটার
ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস একই সঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, রিচার্ডস তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মধ্যগগনেই অ্যান্টিগা জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেছেন। রিচার্ডসের মতো এমন কমপক্ষে ২০ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা একই সঙ্গে ফুটবলটাও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে খেলেছেন। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম আশির দশকে দেশের অন্যতম ক্লাব ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের হয়ে ফুটবল খেলতেন। ১৯৮৮ সালে তিনি একসঙ্গে জাতীয় ক্রিকেট দল ও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটে মনোযোগী হয়ে যাওয়ায় তাঁর আর জাতীয় যুবদলের হয়ে খেলা হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিং-কিংবদন্তি জন্টি রোডস দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে হকি খেলেছেন।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে