Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ , ১ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-০৬-২০১৪

দ্রুততম ওয়ানডে হ্যাটট্রিক, তাইজুলের আগে যাঁরা...

দ্রুততম ওয়ানডে হ্যাটট্রিক, তাইজুলের আগে যাঁরা...

ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর- জালাল-উদ-দিনের কথা কি জানেন তাইজুল ইসলাম? কিংবা অ্যান্থনি স্টুয়ার্টের? জানলে খানিকটা শঙ্কিত হতেই পারেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার!
অভিষেকে হ্যাটট্রিক-কীর্তি গড়ে ওই দুজনকেই ছাড়িয়েছেন তাইজুল। পাকিস্তানের জালাল-উদ-দিন হ্যাটট্রিক করেছিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে, স্টুয়ার্ট তৃতীয়। এই গর্বের কীর্তিতে আবার শঙ্কার কী আছে! শঙ্কাটা দ্রুত হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়া ওই দুই পূর্বসূরির কারণেই। গর্ব করার মতো একটা কীর্তি থাকলেও দুজনের কারও ক্যারিয়ারই গর্ব করার মতো নয়। জালাল-উদ-দিনের ওয়ানডে ক্যারিয়ার থমকে গিয়েছিল ৮ ম্যাচেই। আর স্টুয়ার্টের ৩ ম্যাচে। অর্থাৎ হ্যাটট্রিক করার ওই ম্যাচটিই ছিল স্টুয়ার্টের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ!

প্রথমজনকে দিয়েই প্রথমে শুরু করা যাক। ওয়ানডে ইতিহাসেই যিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন প্রথম। জালাল-উদ-দিন ছিলেন দারুণ এক সুইং বোলার, বোলিং করতেন চশমা পরে। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৯৮১-৮২ মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ১৯৮২ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে অভিষেক হলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ৩৩ ওভারের ম্যাচে ৫ ওভার বোলিং করে পেয়েছিলেন ১ উইকেট। পরে ওই মাসেই সুযোগ পেলেন ইংল্যান্ড সফরের পাকিস্তান দলে। সেবার ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ইমরান খানের দলে। তবে সুযোগ মিলল দেশে ফিরেই। ইমরানের চোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নেতৃত্ব পেলেন জহির আব্বাস, একাদশে ঢুকলেন জালাল-উদ-দিন। হায়দরাবাদে পাকিস্তানের ২৩০ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার রান একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ১৫৭। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে জালাল-উদ-দিন ফেরালেন অ্যালান বোর্ডারকে। পরের ওভারেই উড়ালেন রডনি মার্শের স্টাম্প। নতুন ব্যাটসম্যান ব্রুস ইয়ার্ডলি কট বিহাইন্ড আউট সুইঙ্গারে। হ্যাটট্রিক বলের মুখোমুখি জিওফ লসন। দেখেশুনে ছেড়ে দিলেন বল, তাকিয়ে দেখলেন লেট সুইংয়ে বল বেল উড়িয়ে নিয়ে গেল! বদলি, আনকোরা এক পেসারই নাম লেখালেন ইতিহাসে। বহুদিন পর এক সাক্ষাৎকারে জালাল-উদ-দিন বলেছিলেন, ‘তখন শুধু হ্যাটট্রিকের আনন্দটাই ছিল। জানতাম না সেটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। ম্যাচের পরদিন অনেকে রেকর্ড-টেকর্ড ঘেঁটে জানালেন আমিই প্রথম। আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল।’

কদিন পর টেস্ট অভিষেকে পুনরাবৃত্তি প্রায় করেই ফেলেছিলেন জালাল-উদ-দিন। পরপর দুই বলে ফিরিয়েছিলেন ইয়ার্ডলি ও জেফ টমসনকে। হ্যাটট্রিক বলে আবার সেই লসন। তবে এবার আর বল ছাড়েননি লসন, ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। হ্যাটট্রিক ম্যাচের পর ৫ ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন জালাল-উদ-দিন, পরে টেস্টে ফর্ম পড়ে গেল। ইমরানও ফিরলেন, আর পাকিস্তানে তো পেস প্রতিভার অভাব ছিল না কখনোই। সব মিলিয়ে জালাল-উদ-দিনের ক্যারিয়ার শেষ ৬ টেস্ট আর ৮ ওয়ানডেতেই।
স্টুয়ার্ট নিজেকে ভাবতে পারেন আরও দুর্ভাগা। ১৯৯৭ সালের কার্লটন অ্যান্ড ইউনাইটেড (নানা সময়ে যা ভিবি সিরিজ, সিবি সিরিজ) অভিষেক, প্রথম ম্যাচে পেয়েছিলেন ব্রায়ান লারা ও জুনিয়র মারের উইকেট। পরের ম্যাচে শহীদ আফ্রিদির। তৃতীয় ম্যাচে মেলবোর্নে প্রতিপক্ষ আবার পাকিস্তান। আমির সোহেল ও জহুর এলাহিকে ফেরালেন শুরুতেই। ইনিংসের দ্বাদশ ওভারে টানা দুই বলে উইকেটকিপার ইয়ান হিলির হাতে ধরা পড়লেন ইজাজ আহমেদ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। পরের বলে দুর্দান্ত লেগ কাটারের জবাব জানা ছিল না মঈন খানের, প্রথম স্লিপে মার্ক টেলরের ক্যাচ। হ্যাটট্রিকসহ ২৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা। সেটি ছিল গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ। ওই ম্যাচ জিতেও ফাইনালে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। কদিন পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে রাখা হলো না স্টুয়ার্টকে। পরের মৌসুমে ফর্ম হারালেন নাটকীয়ভাবে। জায়গা হারালেন নিউ সাউথ ওয়েলস দল থেকেও। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও আর বেশি দিন খেলেননি। পরে নাম লিখিয়েছেন কোচিংয়ে। নিউ সাউথ ওয়েলসের কোচ ছিলেন দেড় বছর, যে সময় তাঁর সহকারী ছিলেন বাংলাদেশের এখনকার কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। স্টুয়ার্ট বরখাস্ত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ হয়েছিলেন হাথুরুসিংহে।

দ্রুততম হ্যাটট্রিকের সেরা পাঁচে বাকি যে দুজন—মোহাম্মদ সামি (৬) ও ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান (৮), তাঁদের ক্যারিয়ার এমন ব্যর্থতার গল্প নয়। তবে খুব সমৃদ্ধও নয়। সহজাত গতি, পেস-বাউন্স মিলিয়ে প্রতিভাবান মোহাম্মদ সামি যে সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন, তার সিকিভাগও পূরণ করতে পারেননি। ৩৬ টেস্টে ৮৫ উইকেট, কমপক্ষে ৫০ উইকেট নেওয়াদের মধ্যে টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে গড়। ওয়ানডেতে তুলনায় খানিকটা সফল (৮৫ ম্যাচে ১২১ উইকেট), তবু সেটা প্রতিভার প্রতিফলন নয়। ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানও খেলতে পেরেছেন এ পর্যন্ত মাত্র ১৯ ওয়ানডে। ৩১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ান হয়তো আরও খেলবেন। ৩৩ বছর বয়সী সামি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন এখনো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে।
পূর্বসূরিদের ইতিহাস শঙ্কার, তবে সম্ভাবনার ছবিও তাইজুল দেখতে পারেন চাইলে। অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে ছাড়িয়েছেন সবাইকে, ওই অতৃপ্ত ক্যারিয়ারের ধারাটাও নিশ্চয়ই পাল্টে দিতে পারবেন তাইজুল ইসলাম।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে