Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ , ৭ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৪-২০১২

উত্তাল মার্চে উত্তাল রাজনীতি

উত্তাল মার্চে উত্তাল রাজনীতি
বাঙালির স্বাধীনতার অগি্নঝরা উত্তাল মার্চে দেশের রাজনীতিও উত্তাল হয়ে উঠেছে। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলগুলো একইদিনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি না দিলেও মাঠ দখলে রাখার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে তাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ৭ মার্চের গণর‌্যালি ও ১৪ মার্চের মহাসমাবেশ এবং বিএনপিসহ ৪ দলীয় জোটের ১২ মার্চের চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি রাজনীতিকে উত্তাল করে তুলেছে। বিএনপিসহ জোট সঙ্গীরা যেকোনো মূল্যে ১২ মার্চের কর্মসূচি সফল করা ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের যেকোনো মূল্যে নৈরাজ্য প্রতিহত করার ঘোষণা নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে নানা আশঙ্কা। এদিকে কর্মসূচি নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতাদের মধ্যে চলছে তুমুল বাকযুদ্ধ। সরকারদলীয় নেতারা বলছেন, ৭ মার্চের গণর‌্যালিকে লাখো মানুষের জনসমুদ্রে পরিণত করে বিএনপির ১২ মার্চ ঢাকা দখলের সাধ মিটিয়ে দেয়া হবে। ওইদিন প্রমাণ হবে, বিএনপি-জামায়াতের চেয়ে আওয়ামী লীগের শক্তি-সামর্থ্য অনেক বেশি। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, মহাসমাবেশে কোনো বাধা দেয়া হলে তা প্রতিহত করা হবে। দুই দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ৭ মার্চের গণর‌্যালি ও ১২ মার্চের মহাসমাবেশকে সামনে রেখে বড় দল দুটির শীর্ষ নেতৃত্ব শক্তিপরীক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন। দুই পক্ষের নেতারা তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে একাধিক বর্ধিত সভা, জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কর্মিসমাবেশ, গণসংযোগ, সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যৌথসভা, সংসদ সদস্য এবং সমমনা পেশাজীবী ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী নিজ নিজ দলে রণপ্রস্তুতি চলছে। জানা গেছে, রাজপথে কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ও রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দল ও জোটকে চাপে রাখতে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু করেছে এ মাসে। আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এখন পর্যন্ত মার্চ জুড়ে দুটি মহাসমাবেশ, একটি গণর‌্যালি, ২টি মানববন্ধন ও একটি সমাবেশে ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ৭ মার্চ ঢাকায় গণর‌্যালি কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র রুখতে ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের দাবিতে ৯ মার্চ জেলায় জেলায় এবং ১১ মার্চ রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে ১৪ দল। একই দাবিতে ১৪ মার্চ ঢাকায় ও ২৩ মার্চ খুলনায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১৪ দল। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট 'চলো চলো ঢাকা চলো' শীর্ষক মহাসমাবেশের মাধ্যমে সারাদেশের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে তুলতে চাইছে। এছাড়া ১২ মার্চের মহাসমাবেশ থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সেদিন ঘোষণা হবে ধারাবাহিক কর্মসূচি। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, মহাসমাবেশের পরে রাজধানীতে অবস্থান বা হরতালের কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, বিরোধী দল যাতে ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য না করতে পারে, সেজন্য মার্চের প্রতিদিন সব নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে। প্রস্তুত থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতেই ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যায়। আগামীতে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নৈরাজ্য-অরাজকতা ও সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ১২ মার্চের 'চলো চলো ঢাকা চলো' মহাসমাবেশের মাধ্যমে দেশে নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি হবে। এই মহাসমাবেশে বাধা দিলে এমন একটি আন্দোলনের সূত্রপাত হবে যার মাধ্যমে আগামীতে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে