Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-০২-২০১৪

আরব বসন্তে মরুঝড়

আরব বসন্তে মরুঝড়

স্বপ্ন-কল্পনার রঙিন ফানুস উড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছিল ‘আরব বসন্ত’। বসন্ত আসেনি। এসেছে নৈরাজ্য। যেসব দেশে স্বৈরশাসন ছিল, সেসব দেশে আবার ঘুরপাক খাচ্ছে একই ঘূর্ণিবার্তা। গণতন্ত্রের ধুয়া তুলে একনায়ক হয়ে দীর্ঘ মেয়াদে শেকড় গাড়ার পাঁয়তারা করছেন ক্ষমতালোভী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে শুরু হয় গণজাগরণ। সবাই ভেবেছিল, এবার বুঝি মধ্যপ্রাচ্যে সুদিন আসছে। আসছে গণতন্ত্র। কিন্তু সে গুড়েবালি। শান্তি, স্থিতি, গণতন্ত্র, সুশাসন—অধরাই রয়ে গেছে। তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়াসহ অন্যান্য দেশে শুকিয়ে গেছে আরব বসন্তের সেই ফুটন্ত ফুল । এসব দেশে এখন বইছে একনায়কের মরুঝড়—কোথাও হালকা, কোথাওবা প্রচণ্ড।
লিবিয়ায় চলছে চরম নৈরাজ্য। সেখানে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে ব্যস্ত। ক্ষমতা দখলের মোহে তারা মত্ত। মুয়াম্মার গাদ্দাফির অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিল লিবিয়ার মানুষ। এখন তারা পড়েছে নিদারুণ অনিশ্চয়তার মধ্যে।
সহজে ভাঙার পাত্র নন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। তাঁর পতন ঘটাতে বছরের পর বছর ধরে চলছে সরকারবিরোধী যুদ্ধ। এখন তা গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। এই সুযোগে দেশটিতে ঘাঁটি গড়েছে উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
মিসরে গণজাগরণে পতন হয়েছিল প্রায় তিন দশকের একনায়ক হোসনি মোবারকের। মোবারকবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছিল ৮৪৬ জন মিসরীয়। পরে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসি গণতান্ত্রিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় দায়মুক্তি পেয়েছেন মোবারক। মিসরীয়দের গণ-অভ্যুত্থান বিফলেই গেছে। ফিরে এসেছে সেই একনায়কতন্ত্র।
বাহরাইনে জেঁকে বসেছে রাজতন্ত্র। ইয়েমেনও অশান্ত। একমাত্র তিউনেসিয়ায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে সার্বিক বিচারে ‘আরব বসন্ত’ ব্যর্থ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এখন অনেকটা আগের মতোই।
একটি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু উপাদানের উপস্থিতি অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী, জাতীয় ঐক্য, সক্রিয় সুশীল সমাজ, ব্যক্তির নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ইত্যাদি। আরব বসন্তের হাওয়া লাগা দেশগুলোতে এই উপাদানগুলোর অনুপস্থিতি বড় প্রকট।
আন্দোলন করে, বুকের রক্ত দিয়ে আরবরা তাদের শাসকদের ভিত নড়চড় করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সাফল্যের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। লাখো জনতা রাজপথে নেমে এলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুগের পর যুগ ধরে যে ধরনের শাসনকাঠামো চলে এসেছে, তা থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসার মতো প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি অঞ্চলটির নেই।
আরবরা বিভিন্ন সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জাতির মধ্যে যে ধরনের মানসিকতা দরকার, তা তাদের মধ্যে নেই।

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে