Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ , ৮ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-২৯-২০১৪

রাজধানী এখন উঠতি সন্ত্রাসীদের দখলে!

ফুয়াদ হাসান


রাজধানী এখন উঠতি সন্ত্রাসীদের দখলে!

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর- শীর্ষ সন্ত্রাসী বা দাগি কোনো আসামি নয়, অলিতে গলিতে আতঙ্ক হয়ে উঠেছে উঠতি সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ও র‌্যাবের অপরাধ তদন্তেও উঠে এসেছে একই রকম তথ্য। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাইসহ অনেক অপরাধ ঘটিয়েছে- তরুণ বখাটেরা। প্রশাসনের কাছে তারা নতুন মুখ।

জানা গেছে, অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ চার বছর আগে (২০১০ সালে) ৫১৬ জন উঠতি সন্ত্রাসীর একটি তালিকা করে। ওই তালিকা হালনাগাদ করে নতুন অপরাধীদের নজরদারিতে আনা হয়নি।

দায়িত্বশীল পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীদের অধুনিক ডাটাবেজ করা হচ্ছে- যেখানে সব ধরনের অপরাধীর বিষয়েই তথ্য থাকবে। তাদের মতে, বড় ধরনের অপরাধ সংঘটনের আগে উঠতি সন্ত্রাসীদের তালিকাভুক্ত করাও কঠিন কাজ। গত বছর একটি গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকার এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের ৭০০ সন্ত্রাসীর একটি তালিকা তৈরি করেছে। ওই তালিকার একটি বড় অংশজুড়ে আছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও তরুণ বখাটেরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘টিনএজ বা কম বয়সের অরাধীর সংখ্যা বাড়ছে। তারা যেমন পাড়া-মহল্লায় অপরিচিত, তেমনই পুলিশের কাছেও। ফলে অপরাধ করে সহজেই গা-ঢাকা দিচ্ছে তারা। ঘটনার পরই তদন্তে তাদের খোঁজ পাই আমরা। তবে অপরাধীদের ডাটাবেজে তাদের অর্ন্তভুক্ত করা হচ্ছে।’

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে একটি বখাটে চক্রের হাতে প্রাণ গেল সম্ভাবনাময় এক কিশোর ক্রিকেটারের। ছেলেটির নাম ছিল মেহেদী হাসান। সে ছিল অনুর্ধ ১৫ ক্রিকেট ক্যাম্প এবং মিরপুর বাঙলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র।

মেহেদীর বাবা হাজী মোশররফ হোসেন ঢালী এলাকায় নান্নু ওরফে নান্না মিয়ার মাদক বাণিজ্য বন্ধের চেষ্টা করেছিলেন। আর ওই নান্নার ছেলে অলি বখাটে চক্রের দলনেতা। অলি তার বন্ধু আশিক, ছট্টু, ফয়সাল ও সাদ্দামকে নিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাসায় ডেকে মেহেদীকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৮/১৯ বছর। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর আলী ও তার বাবা নান্নাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে একটি বেপরোয়া বখাটে চক্রের নানা অপকর্মের কাহিনী।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের মাইদুল ইসলাম ইমন নামে এক ১৪ বছরের কিশোরকে হত্যা করে একটি বখাটে চক্র। নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মিরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার তদন্তে জানা গেছে, মিরপুরের ১০ নম্বরে কিশোর পিয়াস ও মিরাজ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। তারা মাঝে মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও জড়ায়। মিরাজদের পাশেই ইমনদের বাসা। প্রতিবেশী হওয়ায় মাঝে মধ্যে মিরাজের সঙ্গে ইমন মিশত। পিয়াস গ্রুপের ৩০ কিশোর মিরাজকে হত্যার টার্গেট করে। ১৪ সেপ্টেম্বর তারা ৬ নম্বর সেকশনে যায়। মিরাজকে না পেয়ে রাস্তায় ইমনকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওরা। এর পর ইমনকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে খুন করে পালিয়ে যায় পিয়াস গ্রুপের কিশোররা। আর ঘটনার পর পরই রক্তাক্ত ছুরিসহ সুজন নামের এক কিশোরকে আটক করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর পিয়াসকেও আটক করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, দুই গ্রুপে ৪০ বখাটে কিশোর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মিরপুরের ১০, ২, ৬, ১১, ১৩ নম্বর এলাকা। স্কুলপড়ূয়া এসব কিশোর মিরপুরের বেশ কয়েকটি নামিদামি স্কুলের সামনে নিয়মিত মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। তাদের বিশিরভাগই মাদকাসক্ত।

মিরপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দীন খান বলেন, গত রমজানে ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ নিয়ে মিরাজ গ্রুপের আকাশ, আশিক, বাপ্পী, আল-আমিন, সফিক, জিতুর সঙ্গে পিয়াস গ্রুপের নাসিম, সিয়ামসহ কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এর জের ধরেই ইমনকে হত্যা করা হয়।

গত ৯ অক্টোবর ভাসানটেক এলাকায় মামাতো বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটেরা ভাই নাসিরকে (২৫) পিটিয়ে হত্যা করে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের সখ্যের অভিযোগ ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ভাসানটেক ফাঁড়ির ১৯ পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড ও এক পরিদর্শককে প্রত্যাহার করা হয়।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছয়টি গ্রুপের অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী এখন ভাসানটেক বস্তির অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের দলে আছে অনেক টিনেজ মুখ। সোহেল, মামুন, সালাম, বাবলু, আলতাফ, কালু, কানা আলম, দাঁতভাঙা খোকন, চক্কা শরীফ, হাবীব, তমাল, জাহান শরীফ, সুজন, নবী, মালেক, জাকির, সামস উদ্দীন, আমির, দুলু, কানা কালু, রাসেল, হিমেল, দুলাল, কুদ্দুস, ল্যাংড়া বাদল, সজীব, হানিফ ও ইমাম উল্লেখযোগ্য। দুই বছর আগে র‌্যাব-৪ মিরপুর থেকে ১৮ কিশোর অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে, যারা স্কুল ব্যাগে অস্ত্র বহন করত।

পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার কামাল হোসেন বলেন, ‘উঠতি সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেকে থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। কিন্তু অভিযোগ না করলে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়।’

গত ১০ সেপ্টেম্বর তেজগাঁওয়ের ২১৫ তেজকুনিপাড়ায় অ্যাভিনিউ বিল্ডার্সের নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী চাঁদার দাবিতে মালিককে না পেয়ে হারুন নামে এক শ্রমিককে গুলি করে। তারা এসেছিল শীর্ষসন্ত্রাসী আশিকের নামে চাঁদাবাজি করতে।

গুলিবিদ্ধ হারুন জানান, ১৬-১৭ বছর বয়সি দুই সন্ত্রাসী পিস্তল নিয়ে প্রকল্পের প্রকৌশলী সোহেলকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার ডান পায়ে গুলি করে। পড়ে গেলে আরেক সন্ত্রাসী বাঁ পায়ের তালুতে পিস্তল ঠেকিয়ে আরও এক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।

গত ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগে তুষার বাহিনীর একদল সন্ত্রাসী চাঁদার দাবিতে রাজধানীর রামপুরায় কাদেরিয়া রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর করে। তুষারের পক্ষে যারা চাঁদাবাজি করতে এসেছিল, তাদের বেশিরভাগই ছিল তরুণ। পুলিশের খাতায়ও তাদের নাম নেই। কাদেরিয়া রেস্টুরেন্টে হামলার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।

গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর মগবাজারে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাতেও তরুণ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে ডিবি পুলিশ শাহীন নামে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রের স্কুলব্যাগ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করে। ওই শিক্ষার্থীকে যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের এক সন্ত্রাসী তাকে দিয়ে অস্ত্রটি বহন করাচ্ছিল। গত জুলাই মাসে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ কাবিল হোসেন নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করে আসছিল।

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে