Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৬-২০১১

অস্বাভাবিক তেল আমদানির চাপ রিজার্ভে

অস্বাভাবিক তেল আমদানির চাপ রিজার্ভে
জ্বালানি তেল আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের (রিজার্ভ) ওপর চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত বলেন, জ্বালানি খাতে বাড়তি খরচ করতে গিয়েই লেনদেনের ভারসাম্যে টান পড়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মোক্তাদির আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে ২৫ থেকে ২৬ শতাংশ।

বুধবার সন্ধ্যায়  তিনি বলেন, "বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রচুর ডিজেল ও ফার্নেস ওয়েল লাগছে। এছাড়া পরিহবন খাতেও ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে।"

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি (২০১১-১২) অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় জ্বালানি তেল আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০০ শতাংশ। আর এলসি নিস্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ১৫০ শতাংশের বেশি।

জায়েদ বখত বলেন, বেশ ভালোই চলছিল দেশের অর্থনীতি। রাজস্ব আদায় ও রপ্তানি আয় বাড়ছিল। রেমিটেন্স প্রবাহও ছিল ইতিবাচক। কিন্তু আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সব ওলট-পালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল আমদানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে এক ধরনের বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে সরকারকে দাম বাড়াতে হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থ্যাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ৭৯ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আর এ সময়ে এলসি নিস্পত্তি হয়েছে ৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের।

গত বছরের একই সময়ে ৪১ কোটি ২০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। আর নিস্পত্তি হয়েছিল ৩৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

গত সেপ্টেম্বর মাসের ২২ দিনেই (২২ সেপ্টম্বর পর্যন্ত) জ্বালাতি তেল আমদানির জন্য ৩১ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আর এলসি নিস্পতি হয়েছে ২০ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের।

গত ২০১০-১১ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি বেড়েছিল ৩৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, জ্বালানি তেলের মোট ৫০ শতাংশই চলে যায় পরিবহন খাতে। ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মতো খরচ হয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে। কৃষি খাতেও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়।

তিনি বলেন, "গত বছর পর্যন্ত আমরা ফার্ণেস ওয়েল আমদানি করতাম না। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য এখন আমদানি করতে হচ্ছে।"

এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কিনা জানতে চাইলে মুক্তাদির বলেন, "কিছুদিন আগে দাম বাড়ানো হয়েছে। মোটা অংকের ভর্তুকি হওয়ার পরও আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব বিপিসি সরকারকে করবে না।"

জ্বালাতি তেল আমদানির চাপ কিভাবে মোকাবিলা করা যায়-জিজ্ঞেস করলে জায়েদ বখত বলেন, "আমার মতে, রেমিটেন্স প্রবাহ ও বৈদেশিক সাহায্য বৃদ্ধির মাধ্যমে এ চাপ কমাতে হবে।"

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৯৮৮ কোটি ডলার। আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে প্রায় তিন বছর পর রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন (এক হাজার কোটি) ডলারের নিচে নেমে আসে। এই রিজার্ভ দিয়ে এখন তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে