Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.5/5 (49 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১১-২২-২০১৪

বাংলাদেশকে মনে রাখবেন টেন্ডুলকার

বাংলাদেশকে মনে রাখবেন টেন্ডুলকার

বাংলাদেশকে কী করে ভুলবেন? বাংলাদেশকে তাঁর মনে রাখতেই হবে! দুই যুগের ক্যারিয়ারে কম ম্যাচ খেলেননি। খেলেছেন অসংখ্য ভেন্যুতেও। কিন্তু এ দেশে তাঁর ক্যারিয়ারের এমন কিছু অর্জন আছে, যার কারণে বাংলাদেশকে শচীন টেন্ডুলকার কখনো ভুলতে পারবেন না। আত্মজীবনী প্লেয়িং ইট মাই ওয়েতেও টেন্ডুলকারের লেখায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের কথা।

তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৪৮ বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০৪ সালে, ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। একই  ভেন্যুতে ১৯৯৮ সালের নকআউট বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত খেলে হারিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। সেঞ্চুরির পাশাপাশি নিয়েছিলেন ৪ উইকেটও।

তবে টেন্ডুলকার বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখবেন শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির কারণে। সেই সেঞ্চুরিটা বাংলাদেশে বাংলাদেশের বিপক্ষে পেয়েছিলেন বলেই নয়, টেন্ডুলকার ভুলতে পারবেন না, তাঁর শততম সেঞ্চুরির অসাধারণ একটা উপলক্ষ ম্লান করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটা যে হেরে গিয়েছিল ভারত!

শততম সেঞ্চুরিটার জন্য টেন্ডুলকার নিজেও ভীষণ মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। কিছুতেই যে শততম সেঞ্চুরিটা হয়ে উঠছিল না তাঁর!
২০১১ সালের ১২ মার্চ ৯৯তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটা করেছিলেন। এরপর টানা এক বছর আর ৩৩টি ইনিংস ধরে সেঞ্চুরি-বঞ্চিত ছিলেন। দুবার নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়েছেন। দুবার আশির ঘরেও। কিন্তু যে সেঞ্চুরিটাকে ডালভাত বানিয়ে ফেলেছিলেন, সেটাই যেন কিছুতেই হয়ে উঠছিল না। টেন্ডুলকার আত্মজীবনীতে স্বীকার করেছেন, নিজেও এ সময় অধৈর্য হয়ে উঠছিলেন।

অবশেষে ২০১২ সালের ১৬ মার্চ, এশিয়া কাপে সেই বহু আরাধ্যের সেঞ্চুরিটার দেখা পান টেন্ডুলকার।

টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘আশির ঘর পার হতেই আমার ওপর চাপটা তৈরি হতে থাকে। সেঞ্চুরিটা পাওয়ার চাপ। আমি মাথা থেকে বিষয়টা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করি, কিন্তু এটা আসলে খুব কঠিন আর হতাশার ছিল। মনে আছে, মাশরাফি মুর্তজার পাওয়ার প্লের একটি ওভারে তিনটা শট খেলেছিলাম, যেগুলোর প্রত্যেকটি চার হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয় দুর্দান্ত ফিল্ডিং নয় তো সোজা ফিল্ডারের হাতে গিয়ে সেগুলো আর হয়নি। অন্য কোনো দিন হলে ঠিকই সেখান থেকে ১২ রান পেতাম, কিন্তু সেই দিনে কিছুই পেলাম না।’

টেন্ডুলকারের মধ্যেও সেই দ্বিধার মেঘ উঁকি দিতে থাকে, হয়তো আজও হবে না। কিন্তু উইকেটে সুরেশ রায়না আসার পর তাঁর ওপর চাপটা কমে যায়। রায়না মেরে খেলছিলেন বলে টেন্ডুলকার সময় নেওয়ার সুযোগ পান। ৯০ থেকে ১০০ তে পৌঁছাতে মাত্র একটাই চার মেরেছেন টেন্ডুলকার।

অবশেষে সাকিব আল হাসানের করা ইনিংসের ৪৪তম ওভারের চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করেন। তখনকার অনুভূতি জানিয়ে টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল, আমার সব শক্তি যেন কেউ শুষে নিয়েছে। আমি হেলমেট খুললাম, ভারতের পতাকার দিকে ইশারা করলাম, জানিয়ে দিলাম, আমি এটা ভারতের জন্যই করেছি। এরপর নিজের ব্যাটের দিতে তাকালাম, আর ঈশ্বরকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন এটা আসতে এত সময় নিল, যখন আমার চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না!’

কিন্তু ভারত ২৮৯ রান তোলার পরও ম্যাচটা হেরে গিয়েছিল। সেই দুঃখের কথাও লিখেছেন টেন্ডুলকার, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ম্যাচটা হেরে যাই। বাংলাদেশ দারুণভাবে ২৮৯ রান তাড়া করে। তামিম ইকবাল, জহুরুল ইসলাম, নাসির হোসেন ফিফটি করেছিল, সাকিব আর মুশফিক সেটাকে আরও কাছে নিয়ে যায়।’ সে দিন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দলকে দুষছিল। কিন্তু টেন্ডুলকার তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘কখনো কখনো প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আর সে দিন বাংলাদেশ আসলেই দুর্দান্ত খেলেছিল।’

ম্যাচ হারলেও সেঞ্চুরিটা ঠিকই তৃপ্তি দিয়েছিল টেন্ডুলকারকে। নিজেই লিখেছেন, যেন ৫০ কেজি ওজনের বোঝা নেমে গিয়েছিল তাঁর কাঁধ থেকে। লিখেছেন, ‘জীবন আবারও স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, শততম সেঞ্চুরির পর আমি কী ভাবছিলাম। মজা করে তাদের বলেছিলাম, আমি এর আগে ৯৯টি সেঞ্চুরি করেছি, সবাই যেন এটা ভুলে গিয়ে আমাকে উপদেশ দিচ্ছিল কী করে ব্যাটিং করতে হয়।’

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে