Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০২-২০১২

আদালতের ভূমিকায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ

আদালতের ভূমিকায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকা-ের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশে আদালতের নির্দেশনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রতীকী অনশনের পর ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাংবাদিকরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে ৬ ঘণ্টা অনশনের পর সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ১৮ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের মহাসমাবেশ হবে। এর আগে ১৫ মার্চ পর্যন্ত জেলায় জেলায় সাংবাদিকদের সমাবেশ হবে, যাতে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১ অনশনের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশে সাংবাদিকরা একই কর্মসূচি পালন করেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একঘণ্টা কর্মবিরতির পর ১৯ দিনেও সাগর-রুনি হত্যাকারীদের চিহ্নিত কিংবা গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য না পাওয়ায় প্রতীকী অনশনে বসেন সাংবাদিকরা। সাংবাদিক দম্পতিসহ সব সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং নির্যাতন বন্ধে সাংবাদিকদের চারটি সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ডাকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংবাদিকরা কর্মসূচি পালন করেছেন। অনশন চলাকালে কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলসহ সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য রাখেন। সাগর-রুনির হত্যাকারীরা এতদিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এদিকে একটি রিট আবেদনে মঙ্গলবার হাইকোর্ট এই হত্যাকা-ের তদন্ত নিয়ে 'মনগড়া' কোনো প্রতিবেদন না প্রকাশের কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়া প্রিন্ট ও ইলেক্ট্র্রনিক মাধ্যমে পুলিশকে কোনো বক্তব্য না দিতে বলা হয়েছে। অনশন কর্মসূচিতে ছিলেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি আব্দুস শহীদ, অন্য অংশের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু প্রমুখ। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ সাংবাদিকদের অন্য সংগঠনগুলোও এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে। এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ সরকার সংসদ ও আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে তা কোনোভাবে মেনে নেয়া হবে না। বিচার বিভাগ থেকে যদি কথা বলা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তবে সাংবাদিকরা মেনে নেবে না। কনটেম্পট অব কোর্টের কারণে যদি জেলে যেতে হয়, তবে তারা সবাই একসঙ্গে জেলে যাবেন। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল আদালতের উদ্দেশে বলেন, 'এটা আপনারা করতে পারেন না। যার যা কাজ তাই করতে হবে, অন্য কোথাও নাক গলাবেন না।' ১৯ দিনেও খুনিদের গ্রেপ্তার না করতে পারায় পুলিশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'আপনারা ব্যর্থ হলে বলুন, সাংবাদিকরাই অনুসন্ধান চালাবে।' লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, তথ্যসচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের পাঁয়তারা চলছে। উল্লেখ্য, ১১ ফেব্রুয়ারি রাতের শেষ প্রহরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকারীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো দিতে পারেনি পুলিশ। শুধু কয়েকদিন আগে বলেছে, তারা হত্যাকা-ের কারণ 'মোটামুটি' নিশ্চিত হয়েছেন। চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের অনশন চট্টগ্রাম অফিস জানায়, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা ৬ ঘণ্টা অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিকরা বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মোস্তাক আহমদ, সিইউজে সভাপতি শহীদউল আলম, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন শ্যামল, সিএমইউজে সভাপতি শামসুলহক হায়দরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজসহ অন্য নেতারা বক্তৃতা করেন। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অনশন কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেন। খুলনায় গণঅনশন পালিত খুলনা অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিকরা প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেন। গণঅনশন ও সমাবেশে খুলনা প্রেসক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউয়িন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টিভি ক্যামেরাম্যান জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা এবং কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। গণঅনশন কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি বেগম ফেরদৌসী আলী। খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুবীর রায়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাব ফেডারেশনের চেয়ারপারসন আলহাজ লিয়াকত আলী, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ওয়াদুদুর রহমান পান্না, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, খুলনা বিভাগীয় প্রেসক্লাব ফেডারেশনের মহাসিচব এ কে হিরু, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিব, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহিদ হোসেন, মো. সাহেব আলী ও ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যুগ্ম মহাসচিব মোজাম্মেল হক হাওলাদার, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মলি্লক, অমীয় কান্তি পাল ও মলি্লক সুধাংশু, মেট্রাপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলাউদ্দিন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল আহমেদ, টিভি ক্যামেরম্যান জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল হোসেন কচি ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাঈদ, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মাহবুব আলম সোহাগ, দেবনাথ রণজিৎ কুমার, আব্দুল মালেক, আমিরুল ইসলাম, দৈনিক গ্রামের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান মো. মোশাররফ হোসেন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য খলিলুর রহমান সুমন প্রমুখ। সিলেটে গণঅনশন সিলেট অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার প্রতীকী গণঅনশন পালন করেছেন সিলেটের সাংবাদিকরা। নগরীর সুবিদবাজার সিলেট প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গণঅনশন কর্মসূচিতে প্রেসক্লাব নেতারা, ক্লাব সদস্য, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, সংবাদ সংস্থা, অনলাইন পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন। গণঅনশন পালনের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহমেদ নূর ও সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর। বক্তব্যে তারা অবিলম্বে সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা বলেন, ঘটনার ২০ দিন পরও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে সাংবাদিক সমাজ আরো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। গণঅনশন কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বশির উদ্দিন, সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হামিদ মানিক, জালালাবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর আজিজুল হক মানিক, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক জুবের, সাবেক সহ-সভাপতি আ ফ ম সাঈদ, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ রেনু, নির্বাহী সদস্য ফারুক আহমদ, শাহাব উদ্দিন শিহাব, এম এ মতিন প্রমুখ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে