Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (45 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০১-২০১২

ভারতের পানি আগ্রাসন : সিলেটের উজানে সাত নদীতে প্রতিবন্ধকতা

শাহ্ দিদার আলম নবেল


ভারতের পানি আগ্রাসন : সিলেটের উজানে সাত নদীতে প্রতিবন্ধকতা
সিলেট সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা সাত অভিন্ন নদীতে বাঁধ, ড্যাম ও স্লুইস গেট নির্মাণ করে পানি আগ্রাসন চালাচ্ছে ভারত। ফলে ভারত থেকে আসা নদীগুলো বাংলাদেশে ঢুকে মরা খালে পরিণত হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি প্রতিবেশ ও পরিবেশের উপর। সর্বশেষ সিলেটের জৈন্তাপুরের সারি নদীর উজানে মাইনথ্রু নদীতে ড্যাম নির্মাণ করে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সিলেট অঞ্চলের অভিন্ন নদীতে ভারত একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করলেও এ ব্যাপারে কিছুই জানে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ভারত থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১২টি নদী বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই ১২টি নদীর মধ্যে সাতটিতে ভারত বাঁধ, ড্যাম ও স্লুইস গেট নির্মাণ করে পানি একতরফাভাবে আটকে রাখছে। এসব নদীর পানি ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিকাজে ব্যবহার করছে।

জানা যায়, সিলেটের মনু নদীর উজানে ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহরের কাঞ্চনবাড়ি এলাকায় ড্যাম তৈরি করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে। ভারতের একই রাজ্যের কুলাইয়ে বাঁধ দেওয়ায় হবিগঞ্জের ধলাই নদী পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। ভারতের ডাউকি নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করায় জাফলংয়ের পিয়াইন নদী ইতোমধ্যে প্রায় মরে গেছে। খোয়াই নদীর উজানে ত্রিপুরা রাজ্যের চাকমাঘাট ও কল্যাণপুরে দুটি বাঁধ নির্মাণ করে পানি নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত। এ ছাড়া হবিগঞ্জের ধনু ও সিলেটের ধলাই নদীর উজানে স্লুইস গেট বসিয়ে নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করায় শুষ্ক মৌসুমে নদী দুটি পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সর্বশেষ ভারতের পানি আগ্রাসনের শিকার হয় সিলেটের জৈন্তাপুর দিয়ে প্রবেশ করা সারি নদী। সারি নদীর ৩০ কিলোমিটার উজানে ডাউকিচ্যুতির কাছে মাইনথ্রু-লামু-উমসারিয়াং নদীর মিলনস্থলে বাঁধ দিয়ে ভারত জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। ১২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে বাকি দুই ইউনিটেরও কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই সাতটি নদী ছাড়াও সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারার উজানে বরাক নদীর টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে তুলকালামকাণ্ড চলছে। ভারতের ওই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সিলেটসহ সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী শৈলন চন্দ্র পাল বলেন, সিলেটের অভিন্ন নদীর উজানে ভারতের বাঁধ নির্মাণের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। নদীর উজানে বাঁধ দেওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব প্রসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, ভূগর্ভস্থ ঝুঁকিপূর্ণ ফল্ট লাইনের কাছাকাছি বাঁধ নির্মিত হলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় পলির পরিমাণ হ্রাস পায়। এতে জমির উর্বরা শক্তি কমে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্দক বিরূপ প্রভাব পড়বে।

জহির বিন আলম আরও বলেন, বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে পানির খনিজ উপাদান কমে যাবে। এ ছাড়া যেসব নদীর স্রোতের সঙ্গে পাথর ও বালু আসে সেসব নদীতে বাঁধ দিলে পাথর ও বালু আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে