Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ , ২৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.2/5 (84 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১১-২০১৪

আসামে জিহাদি প্রমীলা ইউনিট

আসামে জিহাদি প্রমীলা ইউনিট

গৌহাটি, ১১ নভেম্বর- অষ্টম শ্রেণিতে থাকতেই বিয়ে। তারপর আর পড়াশোনা খুব একটা এগোয়নি। গ্রামের আর পাঁচটা মেয়ের মতোই সাধারণ জীবন। স্কুলে খুব একটা কথা বলতেন না। রূপকথার মতো সেই মেয়েরই জিহাদি হয়ে ওঠার কথা শুনে আসামের চেনিমারির আজাদ মেমোরিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা হতবাক। সুজেনা বেগমকে যারা পড়িয়েছেন, তারাও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, এই মেয়েই দুর্ধর্ষ জিহাদি হয়ে উঠেছেন।গ্রামের মেয়ে, জীবনের বেশির ভাগটাই থেকেছেন চর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামে। কিন্তু বরপেটার চেনিমারি এলাকার মালিপাড়া গ্রামের সেই মেয়েকে জেরা করেই এখন গোয়েন্দাদের চোখ ছানাবড়া। প্রত্যন্ত গ্রামের মুসলিম মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এক প্রমীলা জঙ্গি বাহিনীই গড়ে তুলেছে জামা’আতুল মুজাহিদীন। 

ওই দলে সুজেনা বেগমের সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন জিহাদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা। তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ভার ছিল সুজেনার ওপর। গোয়েন্দাদের কাছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সুজেনা। তিনি মহিলাদের সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ দিতেন। ফলে বর্ধমানে বিস্ফোরণের পর আটক মুজাহিদীন জঙ্গি রাজিয়া বেগম, আলিয়া বিবি, খানসা বেগমের সঙ্গে সুজেনার মিলই বেশি করে পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। সে কারণে আসামে সন্ত্রাস ছড়াতে স্বামী শাহনুরের পাশাপাশি সুজেনার ভূমিকাকেও বড় করে দেখছে পুলিশ। আসাম রাজ্য পুলিশের ডিআইজি অপূর্ব জীবন বড়ুয়া জানান, ‘সুজেনার সঙ্গে আসামের আরও তিন-চার জন জিহাদের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে আসামের সেই প্রমীলা জঙ্গি বাহিনীর মধ্যে সুজেনাই প্রথম প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন। বর্ধমানের মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া মাদ্রাসায় প্রথম গিয়েছিলেন তিনিই। তারপর মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আরও কয়েকজন মহিলা।’ ওই প্রশিক্ষিত মহিলা জিহাদিদের এখন খোঁজ পেতে চাইছে পুলিশ। বরপেটার চেনিমারি প্রাথমিক স্কুলে পড়া শেষ করে ২০০৩ সালে চেনিমারি আজাদ মেমোরিয়াল হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন সুজেনা। স্কুলের নথিতে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ১৯৯২ সালের ১ এপ্রিল। তারপর অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালেই ২০০৬ সালে চাতলা গ্রামের শিক্ষক মুজিবুর রহমানের ছেলে শাহনুর আলমের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। পুলিশের জেরার মুখে সে কথা কবুলও করেছেন সুজেনা।দুই দেশের হামলার পরিকল্পনা: ভারতে জঙ্গি হামলার পাশাপাশি বাংলাদেশেও বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল জেএমবির (জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) জঙ্গিদের। বর্ধমান বিস্ফোরণে আটক সাজিদ ওরফে শেখ রহমতুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে এনআইএ-এর হাতে। বর্ধমান বিস্ফোরণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাজিদকে রবিবারই নিজেদের হেফাজতে নেয় এনআইএ। এরপর তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জেরাতেই জঙ্গিদের এই নাশকতার ছকের কথা জানতে পারেন গোয়েন্দারা। যদিও প্রতিবেশী দেশটির নাম নিয়ে এনআইএর তরফে কিছু জানানো যায়নি। 

তবে বিশেষজ্ঞমহলের ধারণা প্রতিবেশী বাংলাদেশকেই জঙ্গিরা তাদের টার্গেট করেছিল। এদিকে বর্ধমান বিস্ফোরণে আরেকজনকে গ্রেফতার করল ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আটককৃত জঙ্গির নাম আমজাদ আলি শেখ ওরফে কাজল। বর্ধমান বিস্ফোরণের পরই গা ঢাকা দেন ৩০ বছর বয়স্ক আমজাদ। গতকাল বীরভূম থেকে আমজাদকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দাদের ধারণা বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে আমজাদের। শুধু তাই নয় যেই দুটি অনুমোদনহীন মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে এই জঙ্গি ঘাঁটিগুলো গড়ে উঠছিল সেই মাদ্রাসাতেও নিয়মিত যাতায়াত ছিল আমজাদের।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে