Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ , ৪ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (48 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-৩১-২০১৪

স্ট্রেস: কী এবং কেন

নুসরাত জাহান


স্ট্রেস: কী এবং কেন

স্ট্রেস শব্দটা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যতই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকুক না কেন, অনেকেই কিন্তু এখনো এই কথাটির মানে বোঝেন না। দুশ্চিন্তা, অ্যাংজাইটি কিন্তু স্ট্রেস নয়। আমাদের পারিপার্শ্বিক যেকোনো পরিবর্তন যা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাই 'স্ট্রেস'। স্ট্রেস মানেই যে খারাপ তা কিন্তু নয়। যেমন পরীক্ষার আগে অল্পস্বল্প স্ট্রেস অনুভব করলে পরীক্ষা ভালো হয়। তবে কোন মানুষ কীভাবে স্ট্রেস মোকাবিলা করবে তা অনেকটাই নির্ভর করে তার জিনের ওপর। এর সঙ্গে অবশ্যই থাকে মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং লড়াই করার মানসিকতা।

ল্যাটিন শব্দ 'স্ট্রিং' মানে 'টু ড্র টুগেদার'। এখান থেকেই 'স্ট্রেস' শব্দটি এসেছে। আরেকটি ল্যাটিন শব্দ 'টেনসিও' থেকে টেনশনের উত্‍পত্তি। শব্দটা পাশ্চাত্যের হলেও এই সমস্যায় ভুগছেন বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ। সাধারণত মানুষের মনের দুটো অবস্থা আছে। এক স্বাভাবিক বা নর্মাল, দুই অস্বাভাবিক বা অ্যাবনর্মাল। স্ট্রেস বা মানসিক চাপের ফলে মনের অবস্থা হয় এই দুয়ের মাঝামাঝি। অর্থাত্‍ একটানা চাপের ধকলে মন তার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এই অবস্থাকে আবার অ্যাবনর্মালও বলা যায় না।

কেন চাপ পড়ে মনে
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নির্ভর করে মূলত দুটো জিনিসের ওপর। প্রথমত পারিপার্শ্বিক চাপ এবং দ্বিতীয়ত সহ্য করার মানসিক ক্ষমতা। যার মানসিক দৃঢ়তা যত বেশি, তার চাপ সহ্য করার ক্ষমতা তত বেশি। তবে পারিপার্শ্বিক চাপ অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়ালে স্ট্রেস বাড়ে, সে যার যত মানসিক দৃঢ়তা থাকুক না কেন। আসলে স্ট্রেস ও টেনশন অনেকটাই নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক চাপ এবং তা সহ্য করার ক্ষমতার ওঠানামার ওপর।

মানসিক চাপের বিভিন্ন কারণগুলোকে মোটামুটি দু ভাগে ভাগ করা যায়। ইন্টার্নাল কজ এবং এক্সাটার্নাল কজ। ইন্টারনাল বা আভ্যন্তরীণ কারণগুলো নিজের মনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। যেমন ধরুন, একটি ছেলে সাধারণ মানের চাকরি করে। কিন্তু সে প্রচণ্ড উচ্চাকাঙ্খী। প্রমোশন বা ভালো চাকরির জন্য একটার পর একটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দেয়। কিন্তু সাধারণ মেধা হওয়ায় সে বারে বারেই অকৃতকার্য হয়। এর ফলে সে ক্রনিক স্ট্রেসের শিকার হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ছেলেটি যদি তার লিমিট বা সীমাবদ্ধতা বুঝত তাহলে হয়তো এভাবে হতাশ হয়ে পড়ত না। আভ্যন্তরীণ কারণের জন্য মানসিক চাপের আরেকটি উদাহরণ হলো, কারো হয়তো ক্রনিক কোনো অসুখ আছে, সেজন্য তার স্ট্রেস হচ্ছে। এক দিকে স্ট্রেসের জন্য রোগ বাড়ছে, অন্য দিকে রোগের কারণে স্ট্রেস বাড়ছে।

স্ট্রেসের এক্সটার্নাল কারণ অনেকগুলো। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই আসে আর্গোনমিক্স-এর কথা। আর্গোনমিক্স মানে কর্মপ্রযুক্তির বিজ্ঞান। মানুষের শরীর সব সময় কাজের মধ্যে থাকে। কাজ মানে শুধু অফিস-আদালতের কাজ নয়। হাঁটাচলা, রান্নাবান্না বা সাজগোজ করা, এমনকি শুয়ে থাকাও কাজের মধ্যেই পড়ে। মানুষ কাজই করুক বা বিশ্রামেই থাকুক, সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন একটা আরামদায়ক অবস্থা। এই আরামদায়ক অবস্থার বদলে কষ্টকর অবস্থায় কাজকর্ম করতে হলে শরীরে একটা ধকল পড়ে। আর ক্রমাগত শারীরিক ধকল মনকেও ক্লান্ত করে তোলে। স্ট্রেস শুধু মনের নয় শরীরেরও নানা সমস্যা সৃষ্টি করে। ব্যাপারটি চক্রাকার। যেমন, একজন গৃহবধূ এমন অবস্থায় রান্না করেন যেখানে গ্যাসের চুলার তাক তার উচ্চতার সঙ্গে মানানসই নয়। ফলে রান্না করতে গিয়ে তার হাতে, ঘাড়ে অথবা চোখে স্ট্রেস বাড়ছে। এভাবে নিত্যদিনের শারীরিক চাপের ফলে তিনি ক্রমশ মানসিক চাপের শিকার হয়ে পড়েছেন।

মূলত আর্গোনমিক্স-এর মূল সূত্র দাঁড়িয়ে আছে তিনটি এম-এর ওপর। এই থ্রি এম হলো ম্যান, মেশিন আর মিল্যু, অর্থাত্‍ পরিবেশ। মানুষকে সব সময় অন্য দুটি এম-এর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করতে হয়। এই থ্রি এম সর্বোচ্চ সমন্বয় হলে তবেই স্ট্রেস কম থাকবে। আর কাজের সময় পরিবেশ ঠিক না থাকলে স্ট্রেস তো বাড়বেই।

এছাড়া আরো বেশ কিছু এক্সটার্নাল কারণেও স্ট্রেস হতে পারে। যেমন পারিবারিক অশান্তি, কর্মক্ষেত্রে ঝামেলাও স্ট্রেস ও টেনশনের একটা বড় কারণ। হতে পারে সেটা বসের চড়া মেজাজ অথবা সহকর্মীদের অসহযোগিতাও। কাজের জায়গায় স্ট্রেস এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবেন। কিন্তু বিকল্প পথ না থাকায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই কাজটা করতে হয়। এ থেকে ক্রনিক স্ট্রেস অ্যাংজাইটি এবং ডিপ্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সামাজিক কারণও স্ট্রেসের জন্য দায়ী হতে পারে। এ ছাড়াও অর্থনৈতিক কারণে স্ট্রেসের ব্যাপারটি তো সব নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারেই আছে। মদ্যপান, ধূমপানসহ যাবতীয় নেশাই স্ট্রেস বাড়িয়ে দেয়। আসলে মানসিক চাপ কমাতে ও কিছুটা রিলিফ পেতে বেশির ভাগ মানুষই সিগারেট ও মদ্যপান করা শুরু করে। তারপর ক্রমশ তারা এই নেশার দাস হয়ে পড়ে। ফলে স্ট্রেস আরো বেড়ে যায়। এছাড়া পরিবেশ দূষণের কারণেও স্ট্রেস বেড়ে যায়।

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে