Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯ , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (63 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২৯-২০১৪

শিশুশ্রমে তৈরি পণ্য বর্জন করুন -কৈলাস সত্যার্থী

কিছুদিন আগেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় সমাজ সংস্কারক কৈলাস সত্যার্থী। ১৯৫৪ সালের ১১ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলায় জন্মগ্রহণ করা কৈলাস নিজ জেলা থেকেই তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে উচ্চবিভব প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর ভোপালে একটি প্রকৌশল কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। তবে ১৯৮০ সালের দিকে তিনি শিক্ষকতা পেশা ত্যাগ করেন। ‘সেভ চিলড্রেন মিশন’ নামের একটি প্রকল্প নিয়ে তিনি এগিয়ে আসেন বিশ্বের অবহেলিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ১৯৯০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘গ্লোবাল ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশন’ নামক একটি সংস্থার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ছিলেন তিনি। শিশুশ্রম দূর করতে গিয়ে ২০১১ সালের ১৭ মার্চ দিল্লির একটি পোশাক কারখানার শিশুশ্রমিককে উদ্ধার করার সময় তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা মারধরের শিকার হন। নোবেলজয়ী এই সমাজকর্মী সম্প্রতি শিশুশ্রমের প্রসঙ্গে সামাজিক বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছেন দুবাই থেকে প্রকাশিত গালফ নিউজ পত্রিকার সঙ্গে। দেশে বিদেশের পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে সাক্ষাতকারটি পত্রস্থ করা হলো। 

শিশুশ্রমে তৈরি পণ্য বর্জন করুন -কৈলাস সত্যার্থী

প্রশ্ন: সমাজকর্মী হওয়ার বীজ কি আপনার শৈশবেই রোপন হয়েছিল?

কৈলাস: হ্যাঁ, আমার যখন পাঁচ বছর বয়স তখন থেকেই মূলত শুরু। একদিন স্কুলে যাওয়ার সময় দেখি একটি শিশু তার বাবার সঙ্গে মুচির কাজ করছে। ওই ঘটনা আমার শিশু মনে দাগ কেটেছিল এবং সেই থেকেই আমি শিশুশ্রম বন্ধ করতে কাজ করার কথা ভাবতাম। কিন্তু তখন আমি জানতাম না ঠিক কিভাবে শুরু করবো।

প্রশ্ন: কখন প্রথম শিশুশ্রমিক উদ্ধার করেছিলেন?

কৈলাস: ১৯৮২ সালে পাঞ্জাবের শরহিন্দ নামক জায়গায় একটি ইটের ভাটায় প্রথম ঘটেছিল এমন ঘটনা। সেসময় আমরা ‘সংঘর্ষ জারি রেহেগা’ নামের একটা ম্যাগাজিন চালাতাম। সেই পত্রিকায় এক ১৩ বছর বয়সী মেয়ের গল্প প্রকাশ করেছিলাম। মেয়েটিকে জোর করে শিশুশ্রমিক বানানো হয়েছিল। মেয়েটির বাবা তার সন্তানকে এই কষ্টকর কাজ থেকে ছাড়িয়ে আনার অনেক চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি পারেননি। আমরা শিশুটিকে যখন উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম তখন তাকে একটি যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয়ার বন্দোবস্ত হচ্ছিল। তারপরও আমরা কোনোভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। শিশুদের উদ্ধারের এই যে অনুভূতি, তা আমাকে স্বাধীনতার স্বাদ দেয়।

প্রশ্ন: নিজের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে কোন দেশগুলোকে আপনি দেখছেন?

কৈলাস: আমার ভাবতে গর্ব হয় যে আমি শিশু অধিকার বিষয়ক কাজ ভারত থেকে শুরু করতে পেরেছি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে আমরা কর্মকাণ্ড চালিয়েছি। আমি যখন শিশুদের অধিকার নিয়ে ১৯৮১ সালে কথা বলতে শুরু করি তখন এমনকি জাতিসংঘও শিশু অধিকার নিয়ে কোনো কাজ শুরু করেনি। ১৯৮৯ সালের দিকে জাতিসংঘ শিশু অধিকার নিয়ে একটি কনভেনশন করে, এবং সেই কনভেনশন থেকে শিশুর অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়। সীমিত সংখ্যক লোকবল নিয়ে ভারতের হাজারখানেক গ্রাম এবং ১৪০টির বেশি দেশে আমরা কাজ করছি। পাকিস্তান, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতেও আমরা সফলতার সঙ্গেই কাজ করছি। শিশুশ্রম একটা আন্তর্জাতিক সমস্যা এবং কমপক্ষে ১৭০ মিলিয়ন শিশু স্রেফ দাসত্বের শিকার।

প্রশ্ন: আপনার মতে কোন কোন অনুষঙ্গ শিশুদের শিশুশ্রমের দিকে ধাবিত করে।

কৈলাস: উন্নত জীবনের স্বপ্ন, বিপুল অর্থ আর মিথ্যা আশ্বাস এই কয়েকটি বিষয় শিশুদের শিশুশ্রমের দিকে ধাবিত করে। শিশুরা তাদের দরিদ্রতা দূর করার জন্য এসব মিথ্যা আশ্বাসে ভুলে যায়। তারপর ওদের জোর করে ঢোকানো হয় জরির ফ্যাক্টরি, টেক্সাইল মিল এবং অন্যান্য শিল্প-কারখানায়। এমনকি তাদের দিয়ে বাসাবাড়ির কাজ পর্যন্ত করানো হয়।

প্রশ্ন: শিশুশ্রম নিয়ে মানুষের মাঝে ভ্রান্ত ধারণাগুলো কি কি?

কৈলাস: দরিদ্রতার কারণে শিশুশ্রমের জন্ম হয়- এটা আসলে একটা মিথ। মূল কথা হলো শিশুশ্রম থেকে দরিদ্রতার জন্ম, কারণ শিশুশ্রম শেষমেষ অশিক্ষারই জন্ম দেয়। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া কোনো চাকরিই পাওয়া সম্ভব নয়। আর এই কারণেই অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী আরো গরীব হয়ে যায়। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই সমাজের মানুষের মনস্তত্ত্ব পরিবর্তন করা এবং শিশুশ্রম যে একটি সামাজিক ব্যাধি তা পরিস্কার করা।

প্রশ্ন: শিশুশ্রম বন্ধে দেশগুলোর কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

কৈলাস: মানুষের উচিত সেসব পণ্য বর্জন করা যেগুলোর সঙ্গে শিশুশ্রম জড়িত। সবার উচিত তাদের চাকুরিদাতাকে উৎসাহ দান করা যাতে তারাও শিশুশ্রম বন্ধে এগিয়ে আসে। শিশুশ্রমের বিনিময়ে বাজারে আসা পণ্য থেকে যে মুনাফা আসে তা শিশুশ্রমকেই প্রশ্রয় দেয়। তাই এটা একটা অপরাধ। সামাজিকভাবে শিশুদের নিয়োগকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপ দিতে হবে।

প্রশ্ন: শিশুশ্রম বন্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আপনাকে কতটা আশ্বস্ত করতে পেরেছেন। তিনিও তো একসময় ‘টি বয়’ ছিলেন।

কৈলাস: আমার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে বিশদ কথা হয়নি। তবে তিনি বেশ উৎসাহী ছিলেন এই বিষয়টি নিয়ে এবং কি করা যায় তাই ভাবছিলেন। তিনি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং শক্তিশালী ভারত গঠনের কথা বলছেন, আর আমি চেষ্টা করছি ভারত গঠনের এই পর্যায়ে শিশুবান্ধব ভারতের বিষয়টিকে তুলে ধরতে।

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে