Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (53 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২৮-২০১৪

জর্ডানে নিজেদের বিক্রি করছেন সিরীয় নারীরা

জর্ডানে নিজেদের বিক্রি করছেন সিরীয় নারীরা

হোমস, ২৮ অক্টোবর- বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়া এখন বিধ্বস্ত জনপদ। পার্শ্ববর্তী দেশগুলির শরণার্থী শিবিরেও প্রতিদিন বাড়ছে সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা। শরণার্থীদের এই চাপ সমলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলি।
একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে যেকোনো মুহূর্তে আবারো ফিরতে হতে পারে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে। এই দোটানার মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে প্রতিটি সিরিয়কে।

এই অবস্থায় শরণার্থীরা আশ্রয়দাতা দেশগুলির পরিবারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইছে বলে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। আসলে সবাই চাইছে বাঁচতে, প্রাণ খুলে নিশ্বাঃস নিতে।

এ-রকমই একজন সামিরা ইসমাইল। তিনি তার ছোট বোনকে এমন এক পুরুষের কাছে বিক্রি করতে চান যে তার বোনকে বিয়ে করবে এবং তার পুরো পরিবারের দেখাশোনা করবে।

সম্প্রতি সামিরা এরকমই এক পাত্রের সঙ্গে দেখা করেছেন যিনি সামিরার ছোট বোনের বিনিময়ে তিন হাজার ডলার সামিরার পরিবারকে দিতে প্রস্তুত। শুধু অর্থ সাহায্য নয়, এ বছরের শেষেই সামিরার পুরো পরিবারকে তার নিজের দেশে পাকাপাকিভাবে থাকার বন্দোবস্তও করে দেবেন।

‘আমার পরিবার যদি আজ সিরিয়াতে থাকত তাহলে হয়তো কোনো এক বসন্তে বিয়ে হতো আমার ছোট বোনের’, এমন কথাই জানালেন সামিরা। তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে অপরগতার সেই বেদনা,‘ এমন একটা সময় নির্ধারণ করা হতো যাখন বেশি গরমও পড়বে না আবার বেশি ঠান্ডাও পড়বে না। পুরো গ্রামবাসীকে খাইয়ে দিতাম আমরা। হাতে ও গলায় সোনার গয়না পরিয়ে বিয়ে দেওয়া হতো আমার বোনকে।’

কিন্তু সামিরাকে যখন তার পরিবার নিয়ে সিরিয়ার হোমস শহর থেকে চলে আসতে হয় তখন একই সঙ্গে তার স্বপ্নও ফেলে আসতে হয়।

হোমসের প্রায় এক লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ যুদ্ধের পরিস্থিতিতে শরণার্থী হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে রয়েছেন। প্রায় আট মাস আগে সামিরাও তার পরিবার নিয়ে জর্ডানের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।

জর্ডানে সামিরার মত আরো অনেকেই শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদেরকেও টিকে থাকার তাগিদে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে তাদের কন্যাসন্তানদের। তবে এই কাজে সহায়তার জন্য তৈরি হয়েছে এক দালাল চক্র। যারা একটি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কনের জন্য বর খুঁজে বের করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল বলেছে,‘ছেলেদের চাহিদা মেটানো খুবই মুশকিল। কারণ তারা যেমন নীল চোখের মেয়ে চায় তেমনি আবার সবুজ চোখের অধিকারী মেয়েও চায়। তাদের যতই কম বয়সি মেয়ের সন্ধান হোক না কেন, তারা আরো কম বয়সি মেয়ের সন্ধান করে।

অনেকগুলি দিক মিললেই তবে তারা সিরিয় শরণার্থী মেয়েটিকে বিয়ে করতে চায়। প্রতিদিনই অনেক ফোন আসে আমার কাছে নানান বয়সি মেয়ের সন্ধান জানতে চেয়ে। আমার তৎপরতার কারণে যদি কোনো সিরিয় মহিলার এবং তার পরিবারের ভাগ্য বদলে যায় তখন খুব ভালো লাগে।’

দিমা নামের আরেক দালাল জানায়,‘আপনার মেয়েকে যদি ছেলের পছন্দ হয় তাহলে সে দ্রুত বিয়ে করতে চাইবে। তখন আপনার মেয়েকে ছেলের কাছে পাঠাতে হবে। এসময় মেয়েকে কিছু ভাল পোশাক আর প্রসাধন দিয়ে সাজানো হয়। মেয়েকে নিয়ে চলে যাওয়ার পর পাত্রপক্ষ একটি নির্দিষ্ট সময় মেয়ের পরিবারকে অর্থ প্রেরণ করে। আর এক্ষেত্রে ছেলের বয়স ৪০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।

একটা সময় ছিল যখন সিরিয় কোনো মহিলাকে বিয়ের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো ভিনদেশি কোনো পুরুষকে। কিন্তু যুদ্ধ আর হিংসা কেড়ে নিয়েছে সিরিয় নারীর সেই অহংকার আর কোমলতাকে।

এখন সিরিয় নারীদের শুধুই শরণার্থী আর পণ্যের মানদণ্ডে মাপা হচ্ছে। কিন্তু এর জন্য দায়ী কে? কেই-বা নেবে এর দায়বার। উত্তর নেই কারো কাছে। মেয়েদের হতভাগ্য কপাল বোধহয় একেই বলে।

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে