Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৭-২০১২

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে বিএনপি অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে বিএনপি অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া সেনাবাহিনীর কাঁধে বন্দুক রেখে আবারো ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উনার স্বামী যা করে গেছেন তিনিও তাই করছেন। বিডিআর বিদ্রোহের দিন ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে বিরোধীদলীয় নেতা ক্যান্টনমেন্টের বাসা ছেড়ে কেন সরে গেলেন সেটা জাতির জানা উচিত। এছাড়া লজ্জার মাথা খেয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে বিএনপি। রোববার কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণভবনে এক মতবিনিময় সভার প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভার শুরুতে হলঘরে বসাকে কেন্দ্র করে হলের বাইরে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসএসএফ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা দলের বাইরের অনেককে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকলে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সামনের সারিতে থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের হলঘরের বাইরে বসে তৃণমূল নেতাকর্মীদের হলঘরে বসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পরে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। দেশের জনগণ তখন গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার হারায়। জিয়া ক্ষমতায় এসে যাকে যেভাবে খুশি হত্যা করেন। সে আমলে ১৯ বার ক্যু হয়। সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিকদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ছুটিতে ছিলেন এমন অনেক সেনাসদস্যকে ডেকে এনে হত্যা করেন জিয়া। শেখ হাসিনা বলেন, তার দল ও সরকার সবসময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছে। একমাত্র তার সরকারের আমলেই মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেয়েছে। একমাত্র ২০০১ সালে দেশের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল স্বর্ণযুগ। সে আমলে খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিক্ষার হার বাড়ানোসহ জনমুখী নানা কাজ হয়েছে। এরপর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পরে দেশের শান্তি বিনষ্ট হয়। হত্যা, ধর্ষণ, নারীনির্যাতন, জমিদখল, সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনজীবনে অশান্তি ছড়িয়ে দেয়া হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ে মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে সরকার মানে জনগণের সেবক। বিএনপি নেত্রী প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নানা কায়দায় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাবার চেষ্টা করছেন। লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। স্বাধীনতার পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করলেও জিয়া ক্ষমতায় এসে তাদের মুক্ত করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী যুদ্ধারপাধীদের রক্ষায় নানা ষড়যন্ত্র করছেন। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় বসে লুটপাট করে খেতে পারছে না বলে দেশের ভেতরে অশান্তি চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দল। খালেদা জিয়ার আমলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, হত্যা, খুন দেশে এসব ঘটেছে। সারাদেশে বোমা হামলা চালিয়েছেন তিনি। জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। তার ছেলেরা মানিলন্ডারিং মামলায় অভিযুক্ত। বিদেশি লোক এসে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়। এতে দেশের মানসম্মান থাকে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করেছে। গ্রাম বাঁচলে অর্থনীতি মজবুত হবে, দেশ উন্নত হবে এমনটি মনে করে তার সরকার। তার সরকারের আমলে একদিকে দ্রব্যমূল্য কমিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা হয়েছে। অন্যদিকে মানুষের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। সাড়ে ৪ লাখ মানুষকে চাকরি দেয়া হয়েছে। কৃষকরা সার-বীজ পাচ্ছে ঠিকমতো। বিএনপি আমলের মতো সারের দাবিতে কৃষকদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে না। শ্রমিকরা তাদের নায্য পাওনা পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ অনেকাংশে বাস্তবায়ন করেছে। চালু করা হয়েছে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র। এর মাধ্যমে ঘরে বসে যে কোনো সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তার সরকারের আমলে মিডিয়া অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রাইভেট চ্যানেল দেয়া হয়। মোবাইল ব্যবসা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। অন্যান্য আমলে সাংবাদিকরা কিছু লিখলে গায়েবি ফোন যেত। আওয়ামী লীগ আমলে তেমনটি হয় না। যা খুশি লিখছেন সাংবাদিকরা। লিখতে লিখতে অনেকসময় অতিরঞ্জিত করে ফেলছেন। তার সরকারের আমলে মিডিয়া, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বিডিআর বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সফল হয়েছে। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে এই ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে লাশের স্তূপ হতো বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার একাংশের বিচার হয়েছে। হত্যার বিচার চলছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্র্মীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেরা কি পেলাম সেটা বড় করে দেখলে হবে না। জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। জনগণের মুখে যে কোনো মূল্যে হাসি ফোটাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী স্বাধীনতার সপক্ষের সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সতীশ চন্দ্র রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ এ এইচ এন আশিকুর রহমান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উপ প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে