Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ , ২ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৬-২০১২

মধুর আশ্চর্য বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা

মধুর আশ্চর্য বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা
মধুকে বলা হয় ঔাঁবহরষব লঁরপব বা যৌবন সুধা। ইহা পানে মানুষের যৌবনকাল দীর্ঘায়িত হয়, বার্ধক্য করে প্রতিহত। আমরা প্রায়ই পত্রপত্রিকায়, স্কুলের পাঠ্য বইতে পর্যন্ত দেখতে পাই মৌমাছির ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ধারণাটি ভুল। কেননা ফুলে কখনোই মধু থাকে না। মৌমাছি ফুল থেকে যা সংগ্রহ করে তাকে মকরন্দ বা পুষ্প সুধা বাষ্প হয়। এতে থাকে পরাগরেণু ও নির্যাস ঊীঁফধঃরড়হ বা ক্ষরিত বস্তু। পরাগরেণু হলো প্রোটিন আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যের উৎস এবং নির্যাস হল কার্বো হাইড্রেট শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য। এই নির্যাসে থাকে ১০ ভাগ থেকে ১৫ ভাগ চিনি (প্রধানত সুকরোজ), ১০ ভাগ থেকে ৯০ জল এবং ১ ভাগ থেকে ৪ ভাগ সুগন্ধী দ্রব্য, কিছু খনিজ পদার্থ এবং রঙিন পদার্থ। সহজ কথায় নির্যাসকে বলা যায় চিনির দ্রবণ। অবশ্য বিজ্ঞানের ভাষায় এই নির্যাসকে বাষ্প হয় ক্যাফেয়িক এসিড এস্টারস। কর্মী মোৗমাছি তার পৌস্টিক নালীর ক্রপ গ্রন্থি (মধু থলিতে( হতে নিঃসৃত বিভিন্ন এনজাইমের (ইনভারটেজ) সাহায্যে ফুলের মিষ্টি রসকে জটিল বিক্রিয়া শেষে মধুতে রূপান্তরিত করে এবং তা মৌচাকের কুঠুরীতে উদগরিত করে জমা করে। এই রূপান্তরের সময় পানির পরিমাণ কমে গিয়ে ১৪ ভাগ থেকে ১৯ ভাগ এ দাড়ায়। অর্থাৎ জমা করার কিছুদিন পর তা উপযুক্ত মানে পৌছায়। মধুর পুষ্টিগুণ নির্ভর করে কোন ফুল থেকে কিভাবে পুষ্প সুধা আহরণ করা হয়েছেতার উপর। মধু আজো কৃত্রিমভাবে বিজ্ঞানাগারে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। মধু জীবকোষের জিনের নিজস্ব তথ্য ভা-ারের সমন্বিত প্রক্রিয়ার ফল। খাঁটি মধু সেই মধু যে মধুতে থাকবে না কোন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ ষোল আনা প্রাকৃতিক মধুই খাঁটি মধু। মধুর সঙ্গে তুলনা করা যায় এমন কোন খাদ্য নেই। খাদ্যটি যেমন পুষ্টিকর তেমন ওষুধি। মধুর গুণাগুণ : এনার্জি : দেবতাদের বরের মত মধুর বর (আশীর্বাদ হলে এনার্জি, ১০০ গ্রাম মধুর মধ্যে ৭৯.৫ গ্রাম হলো কার্বোহাইড্রেট। মধুর কার্বোহাইড্রেট-এর বেশির ভাগই ফ্রুকটোজ ৩৪.৪৩ ভাগ হওয়ায় গ্লুকোজের মত ক্ষতিকারক নয়। এই ফ্রুকটোজ দ্রুত রক্ত ধারায় মিশে যায়। হয়তো ফ্রুকটোজের কারণেই মধুতে এত অজস্র গুণের সমাহার। এতে যে ড্রেক্সাট্রিন থাকে তা দ্রুত এবং সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শক্তির যোগান দেয়। সুতরাং এনার্জির উৎস হলো এই ফ্রুকটোজ এবং ডেক্সটিন। মধু শারীরিক শক্তির বিরাট উৎস হয়েও এটি শরীরের কোমলতা সম্পাদন করে, শরীর ও মনে প্রসন্নতা আনয়ন করে। সর্দি কাশি নিরাময়ে এবং হাপানি উপশমে মধুর ভূমিকা অতুলনীয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মধু কার্যকর। তরতাজা মধু পানে শরীর তরতাজা হয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা মধু পানে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা, সজীবতা, কোমলতা, মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। আসলে এর খনিজ পদার্থগুলো ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। মধু অগি্ন উদ্দীপক অর্থাৎ হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। মধুর শর্করাও প্রোটিন বিপাকে সহায়তা করে এবং শরীর গঠন ও দেহের ক্ষয় পূরণ করে। ৮. মধু মেধা বৃদ্ধি করে, স্বরকে মধুর করে। ৯. বল, বীর্য, শুক্র বৃদ্ধি করে। ১০. রুটিকারক অর্থাৎ স্বাদ বৃদ্ধি করে। যাদের কিছুই খেতে ভাল লাগে না তাদের খাদ্য গ্রহণের বাসনা বাড়িয়ে দেয়। ১১. ব্রণ দূর করে। ১২. মধুর ক্যাফেয়িক এসিড এস্টারস ইঁদুরের বৃহদন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। হয়তো সেদিন বেশি দূরে নয় যে, দিন জানা যাবে মধু মানুষের ক্যান্সার প্রতিরোধে সুদীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকা রেখে আসছে। হউক না প্রমাণ করে, না জেনেই যদি, উপকার পেতে পারি দোষ কি তাকে খেতে। ১৩. সংক্রমন হয়নি এমন ক্ষত অর্থাৎ তাজা ক্ষত যেমন চামড়া ছুলে গেলে যে কোন প্রচার মধুই ব্যথা ও সংক্রামন রোধে সক্ষম। ১৪. আঘাত, ক্ষত পোড়া ও ফোলা ইত্যাদিতে ড্রেসিং করার জন্য মধু ব্যবহৃত হচ্ছে। মধু জীবাণু রোধীতো বটেই এছাড়া এটি এমন একটি আর্দ্র ও নিরাময় পরিবেশ সৃষ্টি করে যার ফলে ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায়। আর তাই অঙ্গ বিকৃতি ও অঙ্গহানীর ঝুকি যায় কমে। ত্বক গ্রাফটিংয়ের মত ভয়াবহ পরিস্থিতিকে নিরাময় করে ফেরে বহু ক্ষেত্রে। মৃত কোষকে বহির্মুখী করে সরিয়ে দেয় এবং নতুন কোষের বৃদ্ধি সুচনা করে। মধু ক্ষত স্থানে আঠার লেগে থাকে না আর তাই ক্ষত শুকিয়ে যাবার পর নতুন করে ফাঁটা, ছেড়ার ভয় থাকে না। ক্ষত শুকিয়ে গেলে দাগও পরে কমে যায়। ১৫. পাকস্থলীর আলসার সৃষ্টিকারী জীবাণু হলিকোব্যাকটার পাইলেরি জীবাণুর বিরুদ্ধে ম্যানুকামধু কার্যকরী। ম্যানুকা মধু অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টান্ট জীবাণু, স্টাফাইসোকককাস জীবাণু ইত্যাদির বিরুদ্ধেও কার্যকর। ম্যানুকা হল বনজ উদ্ভিদ এর বৈজ্ঞানিক নাম লেপটো স্পারমাস স্পোপারিয়াম। এ উদ্ভিদ নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বনে দেখা যায়। এ উদ্ভিদটি জেলিবুশ নামেও পরিচিত। ম্যানুকা বৃক্ষ থেকে আহরিত মধুর জীবাণু রোগী ক্ষমতা তুলনীয়। ১৬. সংক্রামক হয়নি এমন ক্ষতে অর্থাৎ পরিষ্কার অগভীর ক্ষতে যে কোন মধু ব্যবহার ;করা যায় কিন্তু গদ্ধ অর্থাৎ পোড়া বা ক্ষত গভীর হলে ম্যানুকা মধু বেশি উপকারী।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে