Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৬-২০১২

যোগাযোগমন্ত্রীর ভ্রান্তিবিলাস

যোগাযোগমন্ত্রীর ভ্রান্তিবিলাস
এক মাসের মধ্যে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিল ও বেইলী রোড থেকে অবৈধ গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে তা নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জানাতে ভুলে গেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত ২০ জানুয়ারি সড়ক ভবনে ঢাকা মহানগরী যানজট নিরসন কো-অর্ডিনেন্স ও মনিটরিং কমিটি সভায় যোগাযোগমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে মতিঝিল এবং বেইলী রোডে অবৈধ গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তার ঘোষিত সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু মতিঝিল ও বেইলী রোডের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যায়যায়দিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মন্ত্রী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দিলেও বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয়ের কাউকে জানাননি এবং এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও দেননি। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'স্যার মিটিংয়ে হয়তো বলার প্রয়োজন মনে করেছেন, তাই বলেছেন। পরে এর চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হয়তো তিনি বিষয়টি ভুলে গেছেন। তবে তিনি যদি মৌখিক বা লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি জানাতেন তাহলে হয়তো কোনো না কোনো ব্যবস্থা নেয়া হতো।' তিনি আরো বলেন, যত কথাই বলুক না কেন মাত্র এক মাসের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে কাজে লাগিয়ে মতিঝিল ও বেইলী রোডে অবৈধ গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদের এত বড় কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ট্রাফিক) পূর্ব উপ-কমিশনার রহিম শেখ যায়যায়দিনকে বলেন, এক মাসের মধ্যে মতিঝিল ও বেইলী রোড থেকে অবৈধ গাড়ি পার্কিং তুলে দেয়ার কোনো নির্দেশনা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগকে দেয়া হয়নি। তাই তাদেরও কিছু করার নেই। এদিকে, পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হচ্ছে, রাজধানী ঢাকাকে বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য শহর বলা হলেও দেশের নীতি-নির্ধারক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে খুব একটা মাথাব্যথা নেই। বরং তারা এটা ভেবেই খুশি যে, বসবাসের অযোগ্য নগরের তারা যোগ্য নাগরিক। এ ব্যাপারে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান যায়যায়দিনকে বলেন, রাজধানী ঢাকার যানজটের প্রধান যেসব কারণ বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন তার মধ্যে অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং বা যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা অন্যতম। এর ফলে নগরীর অপ্রতুল সড়ক আরো সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। রাস্তাগুলো হারাচ্ছে তার প্রশস্ততা। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যায় রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকায়। সেখানে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেখানে নিয়ম না মানার প্রতিযোগিতা চলে। এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। সরেজমিন মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ৯টার পর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে এই এলাকায় যান কয়েক লাখ কর্মজীবী মানুষ। এর কারণ দেশের প্রায় সব বড় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। সকাল ১০টার দিকে এই ব্যস্ততম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেনাকল্যাণ ভবন, সাধারণ বীমা ভবন, বিসিআইসি ভবনসহ প্রায় সব বাণিজ্যিক ভবনের সামনে রাস্তা দখল করে যত্রতত্র অবৈধভাবে শত শত গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়েছে। অথচ এসব ভবনের নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে বীমা ভবনে নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাসহ অন্যান্য প্রাইভেট গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। নামমাত্র ভাড়ায় এ ভবনে ৫৪৫টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। ভবনটির কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী তাজুল ইসলাম যায়যায়দিনকে জানান, তাদের এখানে একসঙ্গে ৩৫০টি গাড়ি রাখা যায়। প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রতিটি গাড়ির জন্য ১৫ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি এক ঘণ্টার জন্য ৫ টাকা করে ভাড়া নেয়া হয়। কিন্তু অনেকেই এখানে গাড়ি না রেখে ভবনটির সামনে অবৈধভাবে পার্ক করেন। একইভাবে সেনাকল্যাণ ভবন ও সাধারণ বীমা ভবনের সামনে কয়েকশ' গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। অথচ ভবনের সামনে লেখা আছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং করবেন না। সাধারণ বীমা ভবনের সামনে অবৈধভাবে রাখা এক ব্যবসায়ীর গাড়ির চালক যায়যায়দিনকে বলেন, তিনি আধা ঘণ্টার বেশি সময় এখানে গাড়ি পার্ক করে রেখেছেন। আরো কতক্ষণ তাকে থাকতে হবে তা তিনি বলতে পারেন না। তিনি জানান, গাড়ির মালিক বিরাট ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসার কাজে সেনাকল্যাণ ভবনে গেছেন। কিন্তু কোথায় গাড়ি রাখা হবে তা বলে যাননি। তাই তিনি রাস্তায় গাড়ি রেখে বসে আছেন। অন্যদিকে, বেইলী রোডের সড়কটি এমনিতেই সরু। এই সড়কের ওপর যত্রযত্র গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে পুরো এলাকায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল ছুটির পর কমপক্ষে এক ঘণ্টা বেইলী রোডের জ্যামে আটকা পড়ে থাকতে হয়। এলাকাটিতে পার্কিংয়ের তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই রাস্তা দখল করে পার্কিং করতে হচ্ছে বলে জানালেন একাধিক ড্রাইভার। ভিকারুন নিসা নূনকে ঘিরে এ অবস্থার সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই বলে জানান স্কুলের একজন শিক্ষিকা। মতিঝিল ও বেইলী রোডে অবৈধ পার্কিং বন্ধে এক মাসের আল্টিমেটাম এবং পরে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নেয়া প্রসঙ্গে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যায়যায়দিনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা দেয়া না হলেও অচিরেই দেয়া হবে। এরপর ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি ফোন রেখে দেন। ময়মনসিংহে যোগাযোগমন্ত্রী ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকায় কিংবা মন্ত্রণালয়ে বসে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা বুঝা যায় না। তার জন্য তিনি সারাদেশ ঘুরছেন। বিশ্বাস করতে হলে দেখতে হয়। না দেখে বিশ্বাস করাটা সঠিক নয়। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দেড় বছর তাকে বক্তৃতা করার জন্য ডাকা যাবে না। এই সিজনে তার হাতে সময় আছে মাত্র দুই থেকে আড়াই মাস। এ সময়ের মধ্যেই যেসব রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মেরামত করতে হবে। তিনি শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় কালে এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে কে এম খালিদ বাবু এমপি, অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন এমপি, আব্দুস সাত্তার এমপি, জেলা প্রশাসক অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাজিম উদ্দিন, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু, জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন মিয়া, পুলিশ সুপার গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বদর উদ্দিন আহমেদ, জেলা মোটরমালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেনের রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন। মন্ত্রী বলেন, তাদের যে স্বপ্নগুলো ভেঙে গেছে, আহত হয়েছে সে স্বপ্নগুলোর চিকিৎসা করতে হবে। তিনি নতুন স্বপ্ন দেখেন না। দেখতেও পারছেন না। পুরনো স্বপ্নগুলোই তার নতুন স্বপ্ন। তিনি পদ্মা সেতু নিয়ে যে কথা আগে বলেছেন এখন নতুন কোনো কথা বলতে চান না। এককথা বারবার বললে মানুষ বলবে মন্ত্রীরা শুধু ওয়াদা করে, অতিকথন করে। কোনো পরিকল্পনায় করবেন সেটি তো বলার দরকার নেই। দরকার পদ্মা সেতু। তিনি বলেন, সমালোচনা হলে তাদের জেদ হবে, কাজের গতি আসবে। তবে সমালোচনা যেন অপপ্রচার না হয়। কারণ অপপ্রচার হচ্ছে সবচেয়ে অশুভ প্রবণতা। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ভালো কাজ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, একটি খারাপ আচরণে এ সরকারের পাঁচটি ভালো অর্জন নষ্ট হয়ে যাবে। সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে মন্ত্রীর কাছে ইশ্বরগঞ্জের এমপি আব্দুস সাত্তার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রোডের বেহাল দশা তুলে ধরেন। এ সময় মন্ত্রী সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলীদের আগামী মার্চ মাসের ২০ তারিখের মধ্যে এ রাস্তার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। পরে মুক্তাগাছার সংসদ সদস্য কে এম খালিদ বাবু ময়মনসিংহ-জামালপুর রোডের বেহাল দশা বলেন। দীর্ঘদিন ধরে এ রোডের মুক্তাগাছা থেকে জামালপুর পর্যন্ত রাস্তা সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগামীকালই এ রাস্তা শুরুর প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দেন। এ ছাড়াও ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের সমস্যার কথা বললে মন্ত্রী এ কাজে অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেন। সর্বশেষ মন্ত্রী আগামী বর্ষা মৌসুমে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চলাচলের উপযোগী রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে দুপুর ২টায় তিনি জামালপুরের উদ্দেশে ময়মনসিংহ ত্যাগ করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে