Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৯-২০১৪

ফিরতে হলে সোহাগকে যা করতে হবে

ফিরতে হলে সোহাগকে যা করতে হবে

ঢাকা, ০৯ অক্টোবর- বোলিং অ্যাকশন শোধরানো নিয়ে এখন কাজ করতে হবে সোহাগকে। ফাইল ছবিতাঁর যে রেকর্ড আছে, সেটি নেই স্যার গ্যারি সোবার্সেরও। না, সোহাগ গাজীকে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে না। তবে এটা তো সত্যি, রেকর্ড বই বলবে, একই টেস্টে সেঞ্চুরি আর হ্যাটট্রিক আছে কেবল একজনেরই। সেই সোহাগকে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য হারাতে হলো বাংলাদেশকে। একের পর এক বাঁ-হাতি স্পিনারের ভিড়ে যখন একজন অফস্পিনারের অভাব ভীষণভাবে অনুভব করছিল বাংলাদেশ, সে সময় আবির্ভাব হয় সোহাগের।

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য আলো ছড়াতে পারছিলেন না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়া সিরিজের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুঃসংবাদ শোনা সেই সফরে তিন ওয়ানডেতে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। কিন্তু সোহাগকে হারিয়ে ফেলা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য হবে বড় ক্ষতি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তা অনুভব করে। ফলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সোহাগকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে বিসিবি। আপাতত বিসিবির লক্ষ্য হলো সোহাগের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া। এই লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্যানেল করতে চায় বিসিবি। সেখানে বোলিং বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। বিদেশি বিশেজ্ঞরাও থাকতে পারেন বলে আভাস মিলেছে।

বিসিবি চাইলে আইসিসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারত। সাধারণত ১৪ দিনের মধ্যে সেটি করতে হয়। পাকিস্তানি অফস্পিনার সাঈদ আজমল নিষিদ্ধ হওয়ার পর পিসিবি আপিলের পথেই হেঁটেছিল। তবে তাদের যুক্তি ছিল, আজমল ইচ্ছাকৃতভাবে হাঁত বাঁকান না। একটি দুর্ঘটনার কারণে এমনিতেই তাঁর হাত বাঁকা হয়। মুত্তিয়া মুরালিধরনের ক্ষেত্রে যেমন জন্মগত ত্রুটি তাঁর সবচেয়ে বড় ঢাল হয়ে এসেছিল।
তবে বিসিবি আপিল করার পথে হাঁটতে চাইছে না। আপিল করার ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকি থেকে যায়। সে ক্ষেত্রে আপিলের পর আইসিসি ৫ সদস্যের একটি রিভিউ কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর রায় দেয়। সেই রায়ে উতরে গেলে তো ভালোই। কিন্তু না উতরালে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিষিদ্ধ হতে হয়। তখন অ্যাকশন শুধরে নিলেও সেই নিষেধাজ্ঞা না পেরোনো পর্যন্ত ক্রিকেটে ফেরা যায় না।

বিসিবির হাতে ইংল্যান্ডের কার্ডিফের পরীক্ষাগারের যে বিস্তারিত প্রতিবেদন এসে পৌঁছেছে, তাতে আপিল করে কোনো লাভ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর বদলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করে দেওয়া। আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলা হচ্ছে না সোহাগের। অ্যাকশন শোধরানো নিয়ে কাজ করার পর অ্যাকশন শুধরে গেলে প্রথমে তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরানো হবে। সেখানেও সন্তোষজনক ফলাফল মনে হলে আইসিসির কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আবেদন করতে হবে।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও বায়োমেকানিক পরীক্ষা দিতে হবে সোহাগকে। সেই পরীক্ষায় সবুজ সংকেত পেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন। বিসিবি একটা ইতিবাচক দিক কিন্তু দেখতে পাচ্ছে। আজমল ১৫ ডিগ্রি ছাপিয়ে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত হাত বাঁকাতেন। সোহাগ ঠিক কত ডিগ্রি হাত বাঁকান, সেটি জানা না গেলেও এটা জানা গেছে, আজমলের মতো অতটা গুরুতর সমস্যা নয় তাঁর। এটা শোধরানো সম্ভব।
সোহাগ তাই অ্যাকশন শুধরে আবার ক্রিকেটে ফিরতেই পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রেরণা নিতে পারেন সিনিয়র সতীর্থ আবদুর রাজ্জাকের কাছ থেকেই। রাজ্জাক বিশেষ ক্ষেত্রে ২২ থেকে ২৮ ডিগ্রি পর্যন্ত হাত বাঁকাতেন। সেটি শুধরে আবার ক্রিকেটে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের এই বাঁ হাতি স্পিনার।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে