Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৫-২০১২

নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর চায় ১৪ দলের শরিকরা

নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর চায় ১৪ দলের শরিকরা
অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ও আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান জানতে চায় সরকারের অংশীদার ১৪ দলের শরিকরা। এসব দলের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা বা সংঘাত তারা চান না। এ জন্য এখনই এ বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান বের করা উচিত। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে সবার আগে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। নেতারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর চান তারা। এ জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে সমঝোতা ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। এ বিষয়টি সহ অন্যান্য নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের একলা চলো নীতির সমালোচনা করে শরিক দলের নেতারা বলেছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একসঙ্গে বসে আলাপ- আলোচনা করা উচিত। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দলের অন্য শরিক দলের নেতাদের এক ঘরোয়া বৈঠকে এমন মত দেন তারা। মহাজোটগতভাবে সরকার গঠনের তিন বছরের মাথায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য শরিক দলের নেতারা বৈঠক করলেন। এই বৈঠক ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন অনেকে। তবে বৈঠককারী দলের নেতারা জানিয়েছেন, বৈঠকটি মূলত অনানুষ্ঠানিক ছিল। এখানে জোটের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের একলা চলো নীতি, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন দিক দিয়ে ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগকে পরামর্শ দেয়ার জন্যই তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। সূত্র জানায়, ১৪ দলের শরিকরা সরকারে এতদিন অবমূল্যায়িত হওয়া এখন নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ১৩ দলের বাইরেও সমমনা দল এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার বিষয়ে মত দেন নেতারা। বৈঠকে ১৩ দলের সব শরিক দলের নেতারা উপস্থিত না থাকলেও পরে তাদের বৈঠকের আলোচনার বিষয় জানানো হয়েছে।  বৈঠকে অংশ নেয়া নেতারা ঘরোয়া আলোচনা বললেও সূত্র জানিয়েছে এতে প্রায় দুই ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় নেতারা শেয়ারবাজার পরিস্থিতি, প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সমন্বয়হীনতা, আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া, যুদ্ধাপরাধের বিচার, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার এবং বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগ যেভাবে পথ চলছে তাতে সামনে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক অবস্থা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করা উচিত। কিন্তু এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলের যে বৈঠক হয় তাতে তারা কথা বলতে পারেন না। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতারাই বেশি কথা বলেন। আওয়ামী লীগের যেসব সিনিয়র নেতা মহাজোট ও ১৪ দলের সমন্বয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং দল ও সরকারের নীতিনির্ধারণে অংশ নেন তারা প্রায়ই বৈঠকে উপস্থিত থাকেন না। এছাড়া, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও সব বৈঠকে উপস্থিত থাকেন না। এ কারণে মাঝে মধ্যে ১৪ দলের বৈঠক হলেও এ থেকে কোন সুফল আসে না। দুই একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য শরিকদের আলাদা বৈঠক করে সরকারের দুর্বল দিক চিহ্নিত করে তা অবহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে ২৩ দফার ভিত্তিতে ১৪ দলের ঐক্য হয়েছিল। এছাড়া, নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলের ৩১ দফা সুপারিশ ছিল। নির্বাচনের পর এই ২৩ দফার কিছু বাস্তবায়ন হলেও বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া, নির্বাচন নিয়ে যে ৩১ ধারা সুপারিশ ছিল সে অনুযায়ী বর্তমান নির্বাচন কমিশনও গঠিত হয়নি। সভায় নেতারা বলেন, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে উত্তরণের জন্য ১৪ দলের রাজনৈতিক ঐক্য হয়েছিল। কিন্তু দেশে এখন আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সংঘাতের লক্ষ্য ফুটে উঠছে। ১৪ দলের শরিকরা এই সঙ্কট উত্তরণে আলোচনা ও সমঝোতা চায়। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও তাদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। বিরোধী দলকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। বৈঠকের আলোচনায় উঠে আসে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দিক। শরিক দলের নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায়ভার অন্য শরিকরা নেবে কিনা তাও ভেবে দেখা উচিত।  আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সরকারের ভুলত্রুটি শোধরে মহাজোটের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার পক্ষে মত দেন নেতারা। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৪ দলের অন্য শরিকদের প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। নেতারা বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে এ বিষয়ে তাদের প্রস্তাব ছিল সার্চ কমিটি সংসদীয় কমিটির কাছে প্রস্তাব দেবে। ওই প্রস্তাব সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রী তা প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাবেন। তাদের এই প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয়েছে। শরিক দলের নেতারা নারী সদস্যকে মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। বৈঠকে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, গণআজাদী লীগের হাজী আবদুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, সাম্যবাদী দলের শফিকুল ইসলাম মজুমদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিক আলোচনার বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক জানান, অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দলের অন্য শরিকরা বসেছিলাম। সেখানে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, সামনে হয়তো আমাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে। ১৪ দল ছাড়া বাইরের সমমনা দল এবং সংগঠনের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করবো। তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে যাতে কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না হয় সে জন্য আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ঠিক করতে নেতারা মত দেন। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া জানান, সঙ্কট উত্তরণে সরকারি এবং বিরোধী দলেরই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে বিরোধী দলের কোন ফর্মুলা থাকলে তা তুলে ধরা উচিত। সরকারি দলকেও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার। ১৪ দলের শরিক ন্যাপের এডভোকেট এনামুল হক জানান, আনুষ্ঠানিক না হলেও বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য টেলিফোনে তাকে বলা হয়েছিল। অসুস্থতার জন্য তিনি যেতে পারেননি। তিনি বলেন, বৈঠকের আলোচনার বিষয় জানানো হয়েছে। আমরাও মনে করি দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে আলোচনার দরকার। এছাড়া সরকারি দলের উচিত শরিকদের সঙ্গে সব বিষয়ে আলোচনা করা। গণতন্ত্রী পার্টির মাহমুদুর রহমান বাবু জানান, বৈঠকের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। তিনি বলেন, ১৪ দলের পক্ষ থেকে সরকারকে অনেক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর বেশির ভাগই আমলে নেয়া হয় না। এ কারণে হয়তো নেতারা এক সঙ্গে বসেছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখার দাবি তুলবে ওয়ার্কার্স পার্টি: আজ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা চাইবে ওয়ার্কার্স পার্টি। এটি সহ ১০ দফা দাবিতে বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দলটির ঢাকা সমাবেশ। ওই সমাবেশে নির্ধারিত ১০ দফা ছাড়াও রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে ঢাকা ঘোষণা দেবে সরকারের শরিক এ দলটি। বেলা দুইটায় এই সমাবেশ শুরু হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা ঘোষণায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওয়ার্কার্স পার্টির আহ্বান থাকবে। এক্ষেত্রে আগামী নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও দলটি তার অবস্থান ঘোষণা করবে। সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও কমিশনার নিয়োগ করলেও ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা সমাবেশের ১০ দফা দাবির মধ্যে সকল দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নির্ধারণের দাবি রয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে