Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৫-২০১২

ভারতের দাবি সীমান্তে গুলির ঘটনা কমেছে, শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি ঢাকার

ভারতের দাবি সীমান্তে গুলির ঘটনা কমেছে, শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি ঢাকার
ভারত-বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ঢাকা। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন এ দাবি তুলেন। তবে ভারত বলছে বিগত সময়ের চেয়ে এখন সীমান্তে গুলির ঘটনা কমেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম জানিয়েছেন, গত আট মাসে এ ধরনের মাত্র তিনটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নভেম্বরে একটি এবং ডিসেম্বরে দু’টি ঘটনা ঘটে। এ তিনটি ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। তার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাহারা খাতুন বলেন, সীমান্তে গুলি চালানো ও হত্যার ঘটনা কমে এসেছে সত্যি। কিন্তু সেটা একেবারে শূন্যে না নেমে আসা পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অস্বস্তি রয়েই যাবে। গতকাল নয়া দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে দুই মন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশী এক যুবককে নির্যাতনের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৮ সদস্যের বিচার সামরিক আদালতে হচ্ছে। এছাড়া বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। সংবাদ সম্মেলনে সাহারা খাতুন বলেন, বিএসএফ সদস্যদের শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে বলায় এবং সীমান্তে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়ায় আমরা ভারত সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। একইসঙ্গে সীমান্তে গুলিবর্ষণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গত জুলাইয়ে দু’দেশের মধ্যে সই হওয়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের বিষয়টিই দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল। সামপ্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে সাহারা খাতুনের কাছে একটি প্রতিবেদন তুলে ধরেন চিদাম্বরম। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চিদাম্বরম বলেন, সীমান্ত রক্ষাবাহিনীর প্রতি নয়া দিল্লির শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশের পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের গুলির ঘটনা অনেক কমেছে। সীমান্তে যে কোন ধরনের প্রাণহানির জন্য আমরা দুঃখিত। তবে গত ৮ মাসে এ তিনটি ঘটনায়ই হামলা থেকে সহকর্মীদের বাঁচাতে গুলি করা ছাড়া বিএসএফ সদস্যদের আর কোন উপায় ছিল না। তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের গুলি চালানোর ঘটনা কমিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে নয়া দিল্লি। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২৩টি সীমান্ত চৌকিতে যৌথ প্রহরার প্রয়োজন রয়েছে। এ ২৩টি সীমান্ত চৌকির তালিকাও ভারত বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসী সমস্যার ব্যাপারে চিদাম্বরম বলেন, ২০১১ সালে ৫০ লাখ বাংলাদেশীকে ভারত ভ্রমণের ভিসা দিয়েছে। তাই এটা এখন আর কোন বড় সমস্যা নয় এবং বাংলাদেশীদেরও অবৈধভাবে এখন ভারতে ঢোকার আর কোন কারণ নেই। সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সাহারা খাতুন বলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশও সন্ত্রাসবাদের শিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোন ধরনের ভারত বিরোধী তৎপরতাই সহ্য করা হবে না। অতীতেও আমরা এ ধরনের কোন কাজকে প্রশ্রয় দিইনি। ভবিষ্যতেও দেব না। দু’টি দেশই সন্ত্রাসবাদের শিকার। তাই কারও পক্ষেই এ ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রশ্রয় দেয়ার প্রশ্ন ওঠে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ছিটমহল এবং অপদখলীয় জমি বিনিময়ের বিষয়টি একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। এ চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের গুরুত্বের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে খুব স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। দু’দেশের মধ্যকার বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির ব্যাপারে দুুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে। কিছু দিনের মধেই এটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তবে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যতম ফাঁসির আসামি মুসলেহ উদ্দিন এখনও ভারতে রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করার জন্য ভারতের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ অনুরোধের ব্যাপারে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের নাম উল্লেখ করে বলেন, ভারতের গোয়েন্দারা মুসলেহউদ্দীনকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই ওই দু’জন গ্রেপ্তার হয়ে গেলে তাদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য একটি আইনি পথ ঠিকই বের করা হবে।
ভারত-বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর বিএসএফ প্রধান ইউকে বনসাল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশী নাগরিককে নির্যাতনের ভিডিওচিত্রে বিএসএফের যে ৮ সদস্যকে দেখা গেছে তারা বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিকভাবে দোষী প্রমাণিত হয়েছে। এখন সামরিক আদালতে তাদের বিচার হবে।
সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার নীতি গ্রহণের পর সামপ্রতিক মাসগুলোতে দু’দেশের সীমান্তে অপরাধ এবং বিএসএফ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে বৈঠকে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে