Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৫-২০১২

অর্থসঙ্কটে অাঁধারে বিদ্যুৎ পরিকল্পনা

অর্থসঙ্কটে অাঁধারে বিদ্যুৎ পরিকল্পনা
সরকার ২০১৬ সালের মধ্যে ১৪ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়নে অর্থ সঙ্কটে পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ জন্য তারা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগের কাছে চিঠি দিয়েছে। একই সাথে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। সূত্র জানায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে এডিপিতে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪৭টি প্রকল্পের অনুকূলে ৭ হাজার ১৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করতে হলে আরো ৪ হাজার ২৩ কোটি টাকার প্রয়োজন। জানা গেছে, মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করেছে। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। দেশে চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে ৭ হাজার ৬৬৩ মেগাওয়াট। কিন্তু বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানির অভাবে পুরো ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি হিসাব অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। আর সর্বনিম্ন ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। এ সময় বিদ্যুতের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট। এদিকে মহাজোট সরকার চাচ্ছে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৪ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার মোট ৫০টি বিদু্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ১৭টি দ্রুত ভাড়াভিত্তিক, তিনটি ভাড়াভিত্তিক, ১১টি আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) এবং ১৯টি সরকারি। এরমধ্যে ২৭টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এ প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে শেষ হলে এখান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া আরো ৩০টি প্রকল্পের দরপত্র চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। উল্লেখ্য, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০৯ সালের মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। সেভাবেই ঠিকাদারদের সাথে সরকারের চুক্তি হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যর্থ হয়েছে তারা। এ কারণেই গত ১১ জানুয়ারি রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এক কর্মশালায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, এ বছর নয়, আগামী বছরের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকবে। সে সময় আর বিদ্যুৎ সঙ্কট থাকবে না। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎসে ভারসাম্য আনতে শুধু একটি বা দুটি উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। তাদের মন্তব্য যে সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চলছে তা সঠিক ভাবে শেষ হলে এ সরকারের মেয়াদে সর্বোচ্চ এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। আর আগামী এক বছরের মধ্যে গ্যাস ভিত্তিক এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারলে ২০১৬ সাল নাগাদ সর্বোচ্চ ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তারা আরো বলেন, সরকার দাবি করছে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন করে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে, যা সত্য নয়। তাদের দাবি, সরকার এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট যুক্ত করতে পেড়েছে। অন্যদিকে সরকারি সূত্র বলছে, জ্বালানি খাতের প্রবৃদ্ধি না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে না। তাই এ খাতের উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়নও সম্ভব না। এজন্যই সরকার জ্বালানি খাতের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি করেছে। একই সাথে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি বিদেশ থেকে (ভারত, ভুটান, নেপাল) বিদ্যুৎ আমদানির চেষ্টা করছে। সরকারি সূত্রের আরো দাবি সরকার বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক ও সুষম উন্নয়নের জন্য তাৎক্ষণিক, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় ২০১৬ সাল নাগাদ ১৪ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে। জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে এডিপিতে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪৭টি প্রকল্পের জন্য মোট ৭ হাজার ১৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এরমধ্যে জিওবি খাতে ৪ হাজার ৬৬১ কোটি ১৮ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্যে ২ হাজার ৪৮৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়াও নতুন অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য জিওবি ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ খাতে রাখা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ টাকায় সব প্রকল্প এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। এজন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ২৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। এরমধ্যে জিওবি খাতে ২ হাজার ৮৮৭ কোটি ও প্রকল্প সাহায্য খাতে ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এজাজ আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত গ্যাসভিত্তিক একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তিও স্বাক্ষর করতে পারেনি। তাই এ সরকারের আমলে আর কোনো নতুন সংযোগ বা অগ্রগতি দেখতে পাওয়া যাবে না। তবে পিকিং পাওয়ার প্লান্টগুলো যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে সরকার ২০১৬ সাল নাগাদ সর্বোচ্চ ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারবে। এরমধ্যে গ্যাসভিত্তিক ১৫০০ আর কয়লাভিত্তিক ১৫০০ মেগাওয়াট। এ ধারাবাহিকতা যদি ঠিক থাকে তাহলে এ সরকারের আমলে সর্বোচ্চ ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যেতে পারে। তিনি বলেন, খুব দ্রুতও যদি একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় তাহলেও অন্তত দুই বছর সময় লাগে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এসব কেন্দ্র উৎপাদনে যেতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় নিচ্ছে। এমন প্রতিষ্ঠানও আছে ২ বছর আগে চুক্তি করে এখনো তাদের মালপত্র জাহাজেই আছে। এ ব্যাপারে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, সরকারি লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না, আর এত টাকাও সরকারের পক্ষে দেয়া সম্ভব না। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ২০০৯ সালের মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তারমতে, কোনো কার্যাদেশ দেয়ার সময় যদি সংশ্লিষ্টদের সাথে আর্থিক লেনদেন হয় তখন প্রকৃত কাজ হয় না। এমনকি ঠিকাদারও কথা শুনে না। কারণ তিনি জানেন টাকার বিনিময়ে কাজ পেয়েছেন, তাই তাদের সংশ্লিষ্টরা তেমন কিছু বলতে পারবেন না।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে