Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (50 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৪-২০১২

একুশের বইমেলায় টিপু আলমের ‘ফেসবুক’

শহীদুল ইসলাম


একুশের বইমেলায় টিপু আলমের ‘ফেসবুক’
ঢাকায় একুশের বইমেলায় প্রায় প্রতিবছর যে’কজন লেখকের বই সবচেয়ে বেশি আলোচিত বা বিক্রির তালিকায় শীর্ষে থাকে তাদের মধ্যে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ অন্যতম। কিন্তু এবারের বইমেলায় ক্ষুদ্র, তবে ব্যতিক্রমী বই প্রকাশ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন টিপু আলম। নিউইয়র্ক প্রবাসী এই তরুণ পেশায় একজন অংকন শিল্পী। গত দুবছর ধরে ফেসবুকে লিখেছেন নানান কথা। ছন্দ মিলিয়ে লেখা এসব কথারই সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি তার পদ্যকার্টুনে। যার নামও দিয়েছেন ‘ফেসবুক’।
 
টিপু আলমের এই ফেসবুক হাতে তুলে নিয়ে অনেকেই বলেছেন এটি ছড়ার বই। ছোট ছোট ৬২টি ছড়াও আছে এতে। প্রবাসে কার্টুনিস্ট হিসাবে টিপু আলমের খ্যাতি রয়েছে। তাহলে এ কারণেই কি ‘পদ্যকার্টুন’ বিশেষণ পেল তার বইটি? অবশ্য টিপু আলম তার ফেসবুকের ভূমিকায় এ বিষয়ে বলেই দিয়েছেন ‘ছড়া লেখা আমার কাজ নয়। আমার কাজ ছবি আঁকা। মাঝে মাঝে কার্টুন। কার্টুনের বিষয়কে ড্রইং না করে ছন্দে বেঁধে নাম দিয়েছি পদ্য কার্টুন।’ আর এ কারণেই ব্যতিক্রম টিপু আলমের পদ্যকার্টুন ‘ফেসবুক’।
 
এ প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুক ওয়ালে নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক বেলাল বেগ ‘মুক ও মুখের বধিরতা’ শিরোণামে টিপুর আলমের বইটির মূল্যায়ন করেছেন এভাবে-‘চমক দেয়া টিপু আলমের চরিত্রে নেই। কিন্তু সে যা কিছুই প্রকাশ করে তা চমকপ্রদ হয়ে যায়।’ সত্যিই তাই। এবারের বইমেলায় ব্যতিক্রমী ছিল টিপু আলমের এই প্রকাশনাটি। তরুণ প্রজন্ম লুফে নিয়েছে ফেসবুক নামের এই বইটি, যেমনটি তাদের কাছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সত্যিকারের ফেসবুক। টিপু আলমের ফেসবুক নিয়েই নয়, তার যারপরনাই প্রশংসা করেছেন লেখক বেলাল বেগ। টিপু আলমের ফেসবুকের প্রথম পাতায় বেলাল বেগ যদি ‘মুক ও মুখের বধিরতা’ অর্থাৎ মুখবন্ধটি লিখতেন না জানি আরো কত জনপ্রিয় হতেন টিপু আলম ও সাথে তার বইটি।
 
ফেসবুকের গড়নও ব্যতিক্রম। বই অথচ বইয়ের আকার নয়। সাদাকালোয় ছাপা প্রচ্ছদ ও পদপ্রচ্ছদে শুধুই ফেস অর্থাৎ মুখের অবয়ব স্থান পেয়েছে। প্রতিটি পাতায়ও রয়েছে একই আচ্ছাদন। একইসঙ্গে প্রতিটি পাতার পদ্যকার্টুনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অরিগামী আর্ট-এর অলঙ্করণ।

বেলাল বেগ তার লেখায় শুধু ফেসবুক নিয়েই নয়, তিনি টিপু আলমের গুণের প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘টিপুর আলমের সঙ্গে পরিচয়ের সময় আমি জানতাম সে সাংবাদিক, ছোটদের পাতা দেখে। পরে জানলাম টিপু একজন পেইন্টার। বাংলাদেশ থেকে স্নাতক করে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছে। তার পেইন্টিং দেখে চমকিত না হয়ে পারিনি। অতি দক্ষতার সঙ্গে অনুভূতিকে দূরন্ত রঙে রাঙিয়ে দিতে পারে প্রাণবন্ত ক্যানভাসে। দেখা হলে রসালো বাক্যে অবিভূত করার ক্ষমতা তার জন্মগত। সে ক্ষমতা নিয়ে টিভি শো করেছে। তবে কার্টুন জগতে গিয়ে সে জব্বর চমক দিয়েছে। শিল্পীর শ্যোনদৃষ্টিতে দেখা দৈনন্দিন জীবনের অসঙ্গতি, বাস্তবতারহিত রাজনীতি, সমাজবিরোধী, মানবতাবিরোধী চালাক দুর্জনের চরিত্র হাস্য-পরিহাসের বেশ ধরে তার কার্টুনে আসত, লোকে বুঝত এই কার্টুনিস্টের বুকে দেশ ও মানুষের জন্য অনেক কষ্ট লুকিয়ে আছে। আমার সর্বশেষ চমক এসেছিল টিপুর একটি ছোটগল্প পড়ে। সে গল্পের কাহিনী বিন্যাসে, চরিত্র চিত্রায়নে যে ক্ষমতা ও দক্ষতা দেখা গেছে, তা আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে টিপু একদিন গম্ভীর সাহিত্য জগতেই স্থায়ী হবে। তবে এখন রম্যজগতে থাকাটাকে তার বয়স এবং অসংখ্য বন্ধুরা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। তার বইটিও উৎসর্গ করা হয়েছে ‘ফেসবুক’ এবং ‘অফেসবুক’ বন্ধুদের নিউইয়র্ক, ঢাকা এবং ফেসবুকে যাদের সংখ্যার কোন গোণা-পড়া নেই।’

বেলাল বেগ টিপু আলমের পদ্যকার্টুনের প্রশংসা করতে গিয়ে গদ্য কার্টুনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘গদ্য কার্টুনের মজা পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্ত পদ্যকার্টুনের মজা প্রায় কার্টুনের মতই তাৎক্ষণিক। কারণ এগুলোর আকার দুই, চার, ছ’লাইনের মধ্যে সীমিত। ফেসবুক নিয়ে বেলাল বেগ আরো লিখেছেন, পেইন্টার, সাহিত্যিক, কার্টুনিস্ট, ছড়াকার টিপু আলম এবার ছড়াগুলিকে কার্টুনের তাৎখনিক আনন্দে পরিণত করেছে। কার্টুনের মতই ছড়াগুলির চরিত্র- হাস্যরসের জারকে ব্যক্তি ও সমাজের নানা অসংগতির উপস্থাপনা। তাতে মাঝে মাঝে সাহিত্য আসে, আসে দেশপ্রেম। তবে সবকিছু মিলে বিমল আনন্দ।
দু একটা নমুনা-
(১)
বন্ধু এখন গাছে ধরে
বন্ধুর বসে বাজার,
পাশের বাড়ীর মর্জিনারও
ফেসবুক বন্ধু হাজার।
(২)
তেলের দাম বাড়ছে বাড়–ক
 নো মোর হই চই
বুদ্ধি করে কৈ-এর তেলে
 ভেজে ফেলুন রুই।
(৩)
রাত জাগা পাখি হয়ে
জেগে আছি তুমি আমি,
রুমেতে এসি নাই
গরমেতে ঘামি।

বেলাল বেগ অবশ্য কিঞ্চিত সমালোচনা বা পরামর্শ দিয়ে শেষে লিখেছেন ‘ভবিষ্যতের পদ্য কার্টুনে ছন্দের দ্বন্ধ পরিহারে অনেক যতœ আবশ্যক।’
টিপু আলমের ফেসবুক প্রকাশ করেছে সাদাকালো। বিশেষ প্রকাশনায় জুড়ি নেই সাদাকালোর। টিপু আলমের ফেসবুক ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় দারুন খুশী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকের অলঙ্করণ টিপু আলম নিজে করতে পারেন। কিন্তু লেখক সত্ত্বায় পরিপূর্ণতা আনতে তিনি সে কাজটি করেননি। এটির অলঙ্করণ করেছেন নাজমুল আহসান। অক্ষর বিন্যাস করেছেন দেওয়ান মিজানুল হাসান। ফেসবুকের পরিবেশক হাওলাদার প্রকাশনী। উন্নত কাগজে ছাপা বইটি সংগ্রহ করতে গুনতে হবে ১০০টাকা। ফেসবুক উৎসর্গ করা হয়েছে ফেসবুক বন্ধুদের। না, অফেসবুক বন্ধুদেরও উৎসর্গ করেছেন টিপু আলম।

[শহীদুল ইসলাম : নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক, বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাকের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

সাহিত্য সংবাদ

আরও সাহিত্য সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে