Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১০ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০২-২০১৪

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরুর মাংস যা ক্ষতি করে

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরুর মাংস যা ক্ষতি করে

ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের মাধ্যমে কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণ চলছে। এসব অঞ্চলের খামাারী ও চাষিরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে অর্ধলক্ষাধিক গরু মোটাতাজা করছে বলে জানা গেছে।

গরু মোটাতাজা করে অধিকহারে লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের খামারী ও চাষিরা। তবে কতিপয় অসাধু খামারী কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করছে। কোরবানির পশুরহাটে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে গো-খামারী ও চাষিরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

জানা যায়, জেলার এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, চৌহালী ও বেলকুচি উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গবাদিপশু পালন করা হয়। এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও কৃষকের গোয়ালে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অর্ধলক্ষাধিক গরু প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে।

মোটাতাজা গরুর দাম ভালো পাওয়া যায়। সাধারণত গরুকে প্রাকৃতিক পন্থায় মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, লালি গুড়, ভাতের মার, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খেসারি, মাসকলাই, মটরের ভূসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেয়া হয়।

গরুর জন্য এটা বিজ্ঞনসম্মত। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এ ধরনের গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু গত ৭-৮ বছর ধরে অতি মুনাফা লোভী কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও খামারীরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা না করে কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মোটাতাজা করছে।

ঈদকে সামনে রেখে এসব অঞ্চরের কতিপয় অসাধু খামারী ও ব্যবসায়ী গরুকে মোটাতাজা করতে অবাধে ব্যবহার করছে নানা ব্র্যান্ডের পাম ট্যাবলেট, ডেক্সামেথাথন ও স্টেরয়েডের মতো ভয়ানক ক্ষতিকর উপদানের ওষুধ।

এসব ওষুধ গরুর দেহে প্রয়োগ করে রোগাক্রান্ত, কম ওজন ও চিকন স্বাস্থ্যের গরু মোটাতাজা করায় হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। এসব গরুর মাংস খেয়ে মানুষ লিভার, কিডনি, ক্যান্সার, হৃদযন্ত্র ও মস্তিস্ক ক্ষতিগ্রস্তসহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞের মতে, পাম, ডেক্সামেথাথন ও স্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ানোর পর গরুর চামড়ার ভেতরে বাড়তি পানির স্তর জমে গরুকে বেশি মোটাতাজা ও সবল দেখায়। এতে কমে যায় গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। পাম বড়িতে ক্ষতিকর স্টেরয়েড থাকে।

স্টেরয়েড গরুর দেহে মারাত্মক বিষ ছড়িয়ে দেয়। এতে গরুর লিভার নষ্ট হয়ে যায়। স্টেরয়েড মিশ্রিত গরুর মাংস মানব শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি এমন পদার্থ যা মাত্রাতিরিক্ত তাপেও ধ্বংস হয় না।

এনায়েতপুরের গরুর বেপারী আব্দুস ছালাম ও বুলোন মিয়া বলেন, এখন বড় বড় গরুর সে রকম তেজ নেই। মনে হয়, মাদকাসক্ত মানুষের মতো ঝিমিয়ে থাকে। এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ইনজেকশন বা ওষুধ দিয়ে দ্রুত গরু মোটাতাজা করা হয়। ফলে গায়ে শক্তি থাকে না, মাদকাসক্ত মানুষের মতো ঝিমায়।

অনেক সময় মানুষের মতো স্ট্রোক করে মারাও যায় এসব গরু। বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ খামারী ও চাষি প্রাকৃতিক নিয়মে গরু মোটাতাজা করছে বলে জানান তারা। এনায়েতপুরের সৈয়দপুর গ্রামের তামেশ সরকার জানান, গত বছর প্রচলিত নিয়মে ৮টি গরু মোটাতাজা করে ঈদের আগে বিক্রি আড়াই লাখ টাকা লাভ করেন। এবারও তিনি বেশ কয়েকটি গরু প্রচলিত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করছেন। তবে কতিপয় অসাধু খামারী কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজা করছে, এতে সব খামারীর বদনাম হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের পশুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্টেরয়েড ও ডেক্সামেথাথন জাতীয় ওষুধ গরুর শরীরের কোষকে দ্রুত বিবাজিত করে। অনেক ক্ষেত্রে কোষে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়, গরু মোটা দেখায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব গুরুর মাংসের পরিমাণ বেশি হলেও তার গুণগতমান অনেক কম। সাধারণত গরু বিক্রির পূর্বে ওই সব ওষুধ ব্যবহারের ফলে তা সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আগে জবাই করার ফলে তা গরুর শরীরে থেকে যায়।

ফলে পরবর্তীতে তা মানুষের শরীরে ঢুকে অনাকাক্ষিত বৃদ্ধি, কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, এসব বর্ধক ইঞ্জেকশন ব্যবহার না করেও বৈজ্ঞানিক, আধুনিক ও প্রচলিত পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব।

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে