Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (69 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৪-২০১২

সম্মানসূচক সেজদা ইসলামে নিষিদ্ধ

হাসানুল কাদির


সম্মানসূচক সেজদা ইসলামে নিষিদ্ধ
হযরত আদম (আ)কে সেজদা করতে ফেরেশতাদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা ইউসুফে হযরত ইউসুফ (আ) এর পিতা-মাতা ও ভাইগণ মিশর পৌঁছার পর হযরত ইউসুফকে সেজদা করেছিলেন বলে উল্লেখ আছে। এটা সুস্পষ্ট যে, এ সেজদা এবাদতের উদ্দেশে হতে পারে না। কেননা আল্লাহ ব্যতীত অপরের উপাসনা শিরক ও কুফরি। কোন কালে কোন শরিয়তে এরূপ কাজের বৈধতার কোনো সম্ভাবনাই থাকতে পারে না। সুতরাং এর অর্থ এছাড়া অন্য কোনো কিছুই হতে পারে না, প্রাচীনকালের সেজদা, আমাদের কালের সালাম, মুসাফা, মুআনাকা,  হাতে চুমু খাওয়া এবং সম্মান প্রদর্শন পূর্বক দাঁড়িয়ে যাওয়ার সমর্থক ও সমতুল্য ছিল। ইমাম জাসসাস তার আহকামুল কোরআন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, পূর্ববর্তী নবিগণের শরিয়তে বড়দের প্রতি সম্মানসূচক সেজদা করা বৈধ ছিল। শরিয়তে মুহাম্মদিতে তা রহিত হয়ে গেছে। বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি হিসেবে এখন শুধু সালাম ও মুসাফার অনুমতি রয়েছে। রুকু সেজদা এবং নামাজের মতো করে হাত বেঁধে দাঁড়ানোকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এর বিশ্লেষণ এই যে, শিরক, কুফর এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো এবাদত করা কোনো শরিয়তেই বৈধ ছিল না। কিছু কিছু কাজ এমনও রয়েছে, যা মূলত শিরক বা কুফর নয়। কিন্তু মানুষের অজ্ঞানতা ও অসাবধানতার দরুন সে সমস্ত কার্যাবলি শিরক ও কুফরের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কার্যাবলি পূর্ববর্তী নবিগণের শরিয়তে আদৌ নিষিদ্ধ ছিল না। বরং সেগুলোকে শিরকরূপে প্রতিপন্ন করা থেকে মানুষকে বিরত রাখা হত মাত্র। যেমনÑ প্রাণিদের ছবি আঁকা ও ব্যবহার করা মূলত কুফর বা শিরক নয়। এজন্য পূর্ববর্তী শরিয়তে তা বৈধ ছিল। যেমনÑহযরত সুলাইমান (আ) এর কাহিনী বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, Ôএবং জিনেরা তার জন্য বড় বড় মিহরাব  তৈরি করতো এবং ছবি অংকন করতো।Õ

অনুরূপভাবে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশে সেজদা করা পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহে বৈধ ছিল, কিন্তু পরবর্তী কালে মানুষের অজ্ঞানতার ফলে এসব বিষয়ই শিরক ও পৌত্তলিকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পথেই নবিগণের দীন ও শরিয়ত বিকৃতি ও মূলচ্যুতি ঘটেছে। পরবর্তী নবি ও শরিয়ত এসে তা একেবারে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। শরিয়তে মুহাম্মদি যেহেতু অবিনশ্বর ও চিরন্তন শরিয়তÑরসুলে করিম (সা) এর মাধ্যমে যেহেতু নবুওয়ত ও রেসালতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং তার শরিয়তই যেহেতু সর্বশেষ শরিয়ত, সেহেতু একে বিকৃতি ও মূলচ্যুতি থেকে বাঁচাবার জন্য এমন প্রতিটি ছিদ্রপথই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে শিরক ও পৌত্তলিকতা প্রবেশ করতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সেসব বিষয়ই এই শরিয়তে হারাম করে দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো যুগে শিরক ও মূর্তি পৌত্তলিকতা প্রবেশ করতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সেসব বিষয়ই এ শরিয়তে হারাম করে দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো যুগে শিরক ও মূর্তিপূজার উৎস বা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ছবি ও চিত্রাঙ্কন এবং তার ব্যবহারও এজন্যই হারাম করা হয়েছে। সম্মানসূচক সেজদা একই কারণে হারাম করা হয়েছে। আর এমন সব সময়ে নামাজ পড়াও নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেসব সময়ে মুশরিক ও কাফেরগণ নিজেদের তথাকথিত উপাস্যদের পূজা ও উপাসনা করতো। কারণ এই বাহ্যিক সাদৃশ্য পরিণামে যেন শিরকের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

কোনো কোনো আলেম বলেছেন, এবাদতের মূল যে নামাজ তাতে চার রকমের কাজ রয়েছে। যথাÑ দাঁড়ানো, বসা, রুকু ও সেজদা করা। তন্মধ্যে প্রথম দুটি মানুষ অভ্যাসগতভাবে নিজস্ব প্রয়োজনেও করে এবং নামাজের মধ্যে এবাদত হিসেবেও করে। কিন্তু রুকু সেজদা এমন কাজ, যা মানুষ কখনো অভ্যাসগতভাবে করে না, বরং তা শুধু এবাদতের জন্যই নির্দিষ্ট। এজন্য এ দুটিকে শরিয়তে মুহাম্মদিতে এবাদতের পর্যায়ভুক্ত করে আল্লাহপাক ব্যতীত অন্য কারো  উদ্দেশে তা করা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে