Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ , ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (96 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৩-২০১২

৬০ বছর পরও স্বীকৃতি মিলেনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম গানের রচয়িতা চারণ কবি, শ... লিখেছেন খোকন চন্দ্র দে শব্দনীড় ব্লগ থেকে

৬০ বছর পরও স্বীকৃতি মিলেনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম গানের রচয়িতা চারণ কবি, শ... লিখেছেন খোকন চন্দ্র দে শব্দনীড় ব্লগ থেকে


সামছুদ্দিন ১৯১৫ সালে বাগেরহাট জেলার ফতেপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম শেখ সামছুদ্দিন আহমদ। পিতা লেহাজ উদ্দিন শেখ এবং মাতা নুরজাহান বেগম। বাগেরহাট টাউন স্কুলে শুরু হয় তার বাল্য শিক্ষা। তিনি এ বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র পাশ করেন। পারিবারিক চরম অভাব-অনটনের কারণে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা হয়ে ওঠেনি।

শেখ সামছুদ্দিন আহমদ ছোট বেলা থেকেই কবিতা , গান, পল্লী গীতির উপর তার ছিল অসাধারণ ঝোঁক। তিনি বাল্যকাল থেকে পল্লী গীতির সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের একজন ভক্ত ছিলেন। পারিবারিক কাজ কর্মের ফাঁকে ফাঁকে তিনি নিজে নিজে পল্লী গীতি লিখতেন আর নিজেই তার সুর দিতেন। ভাষা আন্দোলনের আত্ম ত্যাগের মর্মস্পশী ঘটনায় তিনি ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতেই লেখেন-রাষ্ট্রভাষা নামে একটি গান। সে গানটি তিনি নিজেই গেয়ে ছাত্র-জনতাকে উদ্বুদ্ধ করতেন।
“রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলি রে বাঙ্গালী,
তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি।
ও বাঙ্গালী…ও ওওও।
……. ইংরেজ যুগে হাটুর নীচে চালাইতো গুলি,
স্বাধীন দেশে ভাইয়ে ভাইয়ের ওড়াই মাথার খুলি রে বাঙ্গালী,
তোরা ঢাকা শহর রক্তে রাঙ্গালি।”
বাঙ্গালীর মহান ভাষা আন্দোলনের আত্ম ত্যাগের মহত্ত্ব তুলে ধরে এই মর্মস্পর্শী গানের রচয়িতা বাগেরহাটের চারণ কবি শেখ সামছুদ্দিন আহমেদ। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিলের সময় বাংলার দামাল ছেলেরা পাক সেনাদের নির্বিচার গুলিতে লুটিয়ে পরে ঢাকার রাজ পথে । ঐ দিনই বাগেরহাটের স্বভাব কবি শেখ সামছুদ্দিন আহমদ রাষ্ট্র ভাষা নামে প্রথম এটি রচনা করেন। পরের দিন ২২শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে বাগেরহাটের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন শেষে সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক (সিসি ব্যাংক) মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশে ও নিজেই শহরের বিভিন্ন স্থানে নিজের লেখা গান নিজের কন্ঠে গেয়ে ছাত্র-জনতাকে আন্দোলিত করেছিলেন। তাঁর এ গান শুধূ বাগেরহাটের ছাত্র-জনতাকেই নয়-সারা দেশের মানুষকেও উজ্জীবিত এবং ভাষা অন্দোলনে আরো গতি সঞ্চার করেছিল।

তাঁর এ গান এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠে যে মূহুর্তের মধ্যে মানুষের মুখে মুখে দেশের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে তা ছড়িয়ে পড়ে। ৫২`র ঐতিহাসিক মূহুর্তে তার এ গান হয়ে ওঠে অসাধারন উৎসাহ উদ্দীপনার উৎস।
“রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলি ও বাঙ্গালী-ভাইরে” তার গানের সূত্র ধরে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাগেরহাটের শেখ আব্দুল আজিজসহ অনেকের সাথে ছিল ব্যক্তিগত সখ্যতা। ১৯৫৩ সালে তিনি খুলনার দি ইষ্টার্ন প্রেস থেকে পাকিস্তান পল্লীগীতি নামে তার লেখা গানের একটি সংকলন প্রকাশ করেন। এ বিখ্যাত গানটি সহ ১৬ টি গানের একটি পুস্তিকা ছাপা হয়। যার প্রতিটি চরণে তৎকালিন পাকিস্তান সরকারের শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও সমালোচনা ছিল। এ বইটি তৎকালীন বিখ্যাত গায়ক আব্বাস উদ্দিন, কবি জসিম উদ্দিন এবং পিসি কলেজের অধ্যাপক মীর মোশারফ হোসেনসহ দেশ বরেণ্য লোকদের প্রশংসা লাভ করে।
বড় দুঃখ্যের বিষয় মহান মুক্তি যুদ্ধের পূর্বে পাকিস্থান সরকার, বিরোধীদের তালিকা তৈরী করছে এ আশংকায় নিজের অনেক লেখা তিনি পুড়িয়ে ফেলেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি চরম অভাব-অনটনের মধ্যে পড়েন। চরম অবহেলার মধ্যে কেটে গেছে তার জীবন। সাহসী কলম যোদ্ধা,কবি, ভাষা সৈনিক তার কাজের কোনই সরকারী স্বীকৃতি পাননি। অকুতভয় কলম সৈনিক শেখ সামছুদ্দিন আহমদ পাননি তার সঠিক মুল্যায়ন। তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা রয়ে গেছেন ইতিহাসের অগোচরে। নিদারুণ দারিদ্রতা ও আর্থিক কষ্টে জীবন যাপনের পর ১৯৭৪ সালে স্ত্রী সফুরা খাতুন, ২ ছেলে দেলোয়ার হোসেন খোকন ও বকতিয়ার হোসেন মুকুল এবং ১ কন্যা লায়লা খাতুনকে রেখে তিনি মারা যান।

কলম যোদ্ধা সামছূদ্দিনের বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, তার পিতা জীবিত থাকা কালেই তাদের অনেক কষ্টে চলেছে তাদের সংসার। চরম অভাব-অনটনের কারণে তাদের লেখাপড়া হয়নি। ঘরে অনেক সময় খাবারও জোটেনি। শেষ দিকে অসুস্থ্য হয়ে তিনি মারা যান। পিতার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছি, কিন্তু কোন সহায়তা পাইনি। ভাষা আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধে পিতার অবদানের জন্য সরকারী ভাবে কোন সহায়তা দেয়া হয়নি। এমনকি তার পিতাকে সরকারী ভাবে স্বীকৃতিটুকুও দেয়া হয়নি। পিতার মৃত্যুর পরও কেউ এগিয়ে আসেনি পরিবার-পরিজনকে সহায়তার হাত নিয়ে। কেবলমাত্র বাগেরহাট ফাউন্ডেশন ৫ হাজার টাকা ও একটি ক্রেস্ট এবং বাংলালিংক ফোন কোম্পানি তার পিতার লেখা রাষ্ট্রভাষা গানটি দুই বছরের জন্য তাদের বানিজ্যিক প্রচারে ব্যবহার করে। এ জন্য তাদের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা ও ১ টি সম্মাননা স্মারক প্রদান করে। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রথম গান হিসাবে তার পিতার লেখা গানটির স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তার দাবী জানিয়েছেন।

দেখতে দেখতে ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর কেটে গেলেও কলমযোদ্ধা,কবি,ভাষা সৈনিক শেখ সামছূদ্দিন আহমদের এখনও কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। যা শুধূই দুঃখজনক নয় আমাদের জাতীর জন্য অতি কলঙ্কজনক,লজ্জাজনক ও গ্লানিকর। এ কলঙ্ক, এ লজ্জা, এ গ্লানি আমরা আজ কোথায় রাখবো? এই ভাষা সৈনিককে যথাযথ সম্মান ও তার পরিবারকে সরকারী ভাবে সহায়তা করার জন্য সমাজের বিত্তবান,দেশের ওর্তা-কর্তা ও সর্বাগ্রে প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে আসতে হবে।

যদি আমরা তাদের সঠিক সম্মানে সম্মনিত করি তাহলে বোধহয় আমাদের বাহান্ন, আমাদের একাত্তর পরিপূর্ণতা পাবে। এই ভাষার মাসে ভাষা হোক মুক্ত বিহঙ্গের মতো স্বাধীন। আমাদের প্রাত্যাহিক কাজে প্রকাশিত হোক শুদ্ধ বাংলা ভাষার চর্চা।
আমার সকল শ্রদধা,সম্মান,সালাম,শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রেখে গেলাম সকল ভাষা শহীদ,সকল সৈনিক,সকল মুক্তিযোদ্ধা ও সকল দেশপ্রেমিকে।।


Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে