Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (74 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৩-২০১২

আত্মজীবনীতে দাউদ হায়দার

সাজেদুল হক:


আত্মজীবনীতে দাউদ হায়দার
ব্যতিক্রমী এক জীবন তার। দোহারপাড়া-ঢাকা-দোহারপাড়া। ছুটে চলেছেন তিনি। জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় পরবাসে। নির্বাসিত জীবনেও ভুলেননি প্রিয় মাতৃভূমিকে। সুদূর জার্মানির বার্লিন থেকে লেখা আত্মজীবনী উৎসর্গ করেছেন বাল্যের প্রিয়, ইছামতি নদীকে। ব্যতিক্রমী দাউদের আত্মজীবনীর নামও ব্যতিক্রম ‘ইল্লিন ঝিল্লিন।’ ’৬৯, ’৭১ আমাদের জীবনের প্রধানতম ঘটনার বয়ান তার রচনায়। স্বল্প দিনে ভেঙে যাওয়া একটি বিয়ের কথাও বলেছেন তিনি। যদিও পাত্রীর নামের ব্যাপারে থেকেছেন নীরব। ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ লিখে তিনি পান খ্যাতি এবং বিড়ম্বনা। জীবনী লেখা সবচেয়ে কঠিন, বঙ্গভূমে। এ স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন ইল্লিন ঝিল্লিনের ভূমিকাতেই। প্রকাশনা সংস্থা জয়তী বাজারে এনেছে বইটি। দাউদ লিখেছেন, আমার জন্মের সন-তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। একেকজন আত্মীয় একেক রকম বলেন। এবং দাবি করেন তারাই ঠিক। জন্মদিন কী জিনিস, দোহারপাড়ায় থাকতে কোনদিন দেখিনি। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্মদিনে স্কুল ছুটি থাকতো, ওইটুকুই। আমার পুরো নাম শেখ আবু দাউদ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন হায়দার। পাবনা গোপাল চন্দ্র ইনস্টিটিউটে (জিসিআই) এই নামই আছে। ঢাকায়, সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলে ভর্তির সময় ‘আবু দাউদ হায়দার’ রেখে শুরু ও মাঝখানে কেটে দিই। ম্যাট্রিকের ফরম পূরণের সময় ‘আবু; ছাঁটাই। জিলাপাড়ার বিশাল দোতলা বাড়ি ছিল আমার প্রিয়। ভূগোলটা এই রকম: পেছনে জেলাস্কুল, সামনে পলিটেকনিক্যাল, ফৌজদারি ও জজ কোর্ট, ডি.এম. অফিস, জেলখানা, বড়ো রাস্তা এবং বীথি দি’র বাড়ি। বীথি দি কাছে ডাকতেন। ঘরে ডেকে নিয়ে চুমু খেতেন। বীথি দি’র একভাই হারমোনিয়াম বাজিয়ে পাড়া কাঁপাতেন। যখন কাঁপতো না, বীথি দি খোকন গান শুনবি না? আয়। ‘ঘর বন্ধ করে, ‘বুকটা টিপে দে তো, সকাল থেকে ব্যথা করছে।’ তারপর দুই লজেন্স চুষ। খবরদার কাউকে বলবি না। দোহারপাড়া থেকে গেলুম ঢাকায়। ১৯৬২ সনে। স্বপন, আমি আর মা। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মৃত্যুর দিন সম্পর্কে দাউদ হায়দারের বর্ণনা, ‘মার জন্যে পান কিনতে গিয়েছি। পথে জনতার ঢল। বলাবলি করছে ‘বাংলার বাঘ মারা গেছে। আমি ভাবলুম, গত সপ্তাহে চিড়িয়াখানায় যে বাঘ দেখে এসেছি, হতে পারে সেটা। তার জন্যে কেন মানুষের সারি? হয়তো, বাঘটাকে শেষ দেখা দেখতে যাচ্ছে। দোকানি বিষণ্ন। কে একজন বললে, ‘শেরে কা বাংলা। একদিন ইংরেজকেও কাঁপিয়ে দিয়েছেন। আহা! মারা গেলেন। তা, বয়স হয়েছিল।’ জিজ্ঞেস করি, নূরী আপাকে, বাঘ মারা গেছে তো লোক কাঁদছে কেন? কেনইবা লোকে দলে দলে মরা বাঘ দেখতে যাচ্ছে চিড়িয়াখানায়? নূরী আপা: মরা বাঘের জন্য লোকে কাঁদছে? ঠিক দেখেছ? আমি: ওই দেখুন, রাস্তায় গাদাগাদা লোক। সব মরা বাঘ দেখতে যাচ্ছে। বলছে শের কি বাংলা। নূরী আপা হেসে বলেন, উনার নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। লোকে বলে শেরেবাংলা। বাংলার বাঘ। বাঘের মতো তেজি ও সাহসী ছিলেন। পল্টনে বন্ধু ইউসুফের বাড়িতে আড্ডায় এক তরুণীর সঙ্গে দাউদের পরিচয় প্রেম ও বিয়েতে গড়ায়। তার বর্ণনায়, শেলী-আলিয়ারই বান্ধবী, থাক, নামের দরকার নেই এসেছিলেন ওই গুলজারে। এসেছিলেন একদিনই। ঠিক সেই দিনেই হাজির আমি। ‘দৃষ্টি বিনিময়’ দুজনের। কথা নয় কোনো। গল্প উপন্যাসে বর্ণিত ‘প্রথম দর্শনে প্রেম। এবং এও কেচ্ছা ‘চোখের চাহনিতে প্রেম।’ -দু’জনের চোখের ভাষায় মূল ব্যাকরণ কী, সমাস ও তৎসমসহ, পাকা হলো। -হ্যাঁ, ওকে বিয়ে করেছিলুম, গোপনে। কেউ জানে না। আমি তখন ঢাকা কলেজ থেকে পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার অপেক্ষায়। আমার বধূ ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবেন। স্বামী-স্ত্রী সাতদিনও সাকুল্যে কাটাইনি। ‘গোপন কথাটি রবে না গোপনে।’ আমার মেজ আপা জ্যোৎস্না, কী করে জানলেন বিয়ে করেছি। তিন মাস পরে জেলে গেলুম। জেলে থাকাকালীনই শুনলুম, আমার ঘরনী পর ঘরনী। কী আর করা। মনের দুঃখে শ্যামল মিত্রের গান গাইলুম ‘যা গেছে তা যাক।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়াকালীনই সংবাদ-এর সাহিত্য সম্পাদক। এবং প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ প্রকাশিত। প্রগতি প্রকাশনী থেকে। নভেম্বর ১৯৭৩ সনে। কয়েক দিন ধরেই মাথায় একটি লম্বা পদ্য চক্কর দিচ্ছে। দেশের পরিস্থিতিই মুখ্য বিষয়। পুরান ধর্ম রাজনীতি ঢুকে পড়ছে। ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নার কালো কন্যায়’ লিখি গোটা রাত জেগে। সংবাদ-এর সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয় ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪। এ কবিতার সূত্রেই কারাগারে যেতে হয় দাউদ হায়দারকে। কারাগারে তখনকার গণকণ্ঠ সম্পাদক এবং কবি আল মাহমুদের সঙ্গে মোলাকাত, আলাপের বর্ণনাও দিয়েছেন দাউদ। মুসলীম লীগ নেতা খান এ সবুরও তখন ছিলেন কারাগারে। সেখানে জাসদ নেতা আ স ম রব, এম এ জলিল তর্কে লিপ্ত হতেন তার সঙ্গে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরাজয় ঘটতো তাদের। দাউদ হায়দারের লেখায়, মালুম হয় আমার, মার্ক্সবাদের, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের যতই গালভরা বুলি কপচান না শোনেন রব-জলিলরা, কিচ্ছু নন খান সবুরের কাছে। তিনি অনেক বেশি মার্ক্স পড়েছেন তাদের চেয়ে। সমাজতন্ত্রের মৌলিক-তত্ত্বভাবে বিশ্লেষণ করে ইসলামের মৌলনীতির সঙ্গে মিলিয়ে দেন, তা শুনে জলিলরা যুক্তি খুঁজে পান না। ইল্লিন ঝিল্লিনের প্রকাশক মাজেদুল হাসান বলেন, শুক্রবার বইটি মেলায় এসেছে। বইটির প্রতি পাঠকদের সাড়া খুবই ভাল। দাউদ হায়দারকে এখনও তার পাঠকরা ভুলেননি।

সাহিত্য সংবাদ

আরও সাহিত্য সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে