Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 1.7/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২২-২০১২

সীমান্তজুড়ে সড়ক হবে

সাহাদাত হোসেন পরশ


সীমান্তজুড়ে সড়ক হবে
সীমান্তজুড়ে সড়ক নির্মাণ করবে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় চলতি বছরই ৯৩৬ কিলোমিটার সড়ক তৈরি হবে। পাকা এই সড়ক নির্মাণ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রস্তাবের পর সীমান্তজুড়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ১৪ ফুট প্রশস্তের ওই সড়কে বৈদ্যুতিক বাতিও বসানো হবে। সীমান্তজুড়ে পাকা রাস্তা নির্মাণ হলে টহল ব্যবস্থা গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি চোরাচালান কমবে বলে আশা করছে বিজিবি কর্র্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে সীমান্তের ভারতীয় অংশে সড়ক নির্মাণ করেছে ভারত সরকার। বিজিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, সীমান্তে অপারেশনাল কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সীমান্ত অপরাধ আগের তুলনায় অনেক কমবে বলে আশা করছি। চলতি বছর ৯৩৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের অনুমতি পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে বাকি সড়ক নির্মাণ করা হবে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত সড়কের প্রস্থ হবে ১৪ ফুট। এর মধ্যে ১০ ফুট মূল সড়ক। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশি ভূখণ্ডের দেড়শ' গজের মধ্যে এ পাকা সড়ক নির্মাণ করা
হবে। দুর্গম এলাকা ছাড়া পর্যায়ক্রমে গোটা বাংলাদেশ সীমান্তে এ সড়ক নির্মাণ করবে এলজিইডি। সীমান্তে ওই সড়ক নির্মাণের পর জওয়ানদের বিশেষ যানবাহন দেওয়া হবে, যাতে যে কোনো চোরাচালানের খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলেই পেঁৗছতে পারেন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পাকা সড়ক না থাকায় চোরাচালানের খবর পাওয়ার পর অভিযানে যেতে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানকারী টিম ঘটনাস্থলে পেঁৗছার আগেই চোরাকারবারিরা সটকে পড়ে। বর্তমানে সীমান্তের বিওপি থেকে অভিযানে যেতে অনেক সময় জওয়ানরা হেঁটে বা দুর্গম পথে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ঘটনাস্থলে যান। পাকা সড়ক নির্মিত হলে দ্রুতগতির যানবাহন ব্যবহার করবেন জওয়ানরা। পাকা সড়ক নির্মিত হলে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ফেনসিডিল আসার ঘটনাও কমবে।
সীমান্ত সূত্র জানায়, বাংলাদেশের জন্য ভারতে বিশেষ উপায়ে ফেনসিডিল তৈরি করা হয়। এর মধ্যে কোডেইন ফসফেট ও ক্লোরোফেমাইন মেনেট নামে দুটি রাসায়নিক উপাদান বেশি মাত্রায় দেওয়া হয়। জানা গেছে, ২০০৫ সালে সীমান্ত এলাকা থেকে ২ লাখ ৫৮ হাজার বোতল, ২০০৬ সালে ২ লাখ ৯০ হাজার, ২০০৭ সালে ২ লাখ ১০ হাজার, ২০০৮ সালে ৪ লাখ ২৯ হাজার, ২০০৯ সালে ৫ লাখ ১০ হাজার ও ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্র বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সীমান্তে রাতের আঁধারে চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে রাতে। সীমান্ত সড়কে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা হলে অপরাধীরা সাবধান থাকবে। অনেক দূর থেকেও দুর্বৃত্তদের দেখা যাবে। সীমান্তে অপরাধ দমন ও চোরাচালানি রোধে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে নতুন পাঠ্যসূচি। সীমান্ত সুরক্ষা, জওয়ানদের শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতার বিষয়াদি নিয়ে পৃথক ট্রেনিং অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এছাড়া যুক্ত হচ্ছে নারী-শিশু পাচার রোধে করণীয় সংক্রান্ত অধ্যায়। কীভাবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অর্জন করা সম্ভব_ এ বিষয়ে জওয়ানদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। রয়েছে মাদকের কুফল ও এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পাঠ্যসূচি। অনেক বিওপিতে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করতে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। কিছু বিওপিতে জওয়ানদের বাসস্থানের উন্নয়ন করা হয়েছে। কিছু বিওপিতে আগামী কিছুদিনের মধ্যে উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে