Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০ , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২২-২০১২

লিটনের চোখে আলো ফুটালেন অশ্বারোহী মুক্তিযোদ্ধা

মাজেদুল নয়ন


লিটনের চোখে আলো ফুটালেন অশ্বারোহী মুক্তিযোদ্ধা
ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি- মধ্যরাতের অশ্বারোহী খ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজ আহমদ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও মানুষের মাঝে তিনি বেঁচে আছেন কর্মগূণে।

গত সোমবার সকালে বারডেমের চিকিৎসক যদিও বলেছেন, ‘ফয়েজ আহমদ আর নেই’, সেদিন দুপুরেই ৩০ বছর বয়সী লিটনের চোখে আলো ফুটেছে কৃতী এ সাংবাদিকের মরনোত্তর দান করা চোখের কর্নিয়ায়। ফয়েজ আহমদ নিজে যেমন স্বপ্ন দেখেছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তেমনি মারা যেতে দেননি এক তরুণের স্বপ্নকে।

একটি বেসরকারি কোম্পানির চাকুরে লিটন দু’বছর ধরে চোখের জন্যে কর্নিয়া খুজছিলেন। শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরেও বিভিন্ন হাসপাতালে কর্নিয়ার খোঁজ করেন তিনি। কিন্তু কোথাও পাচ্ছিলেন না।

সোমবার সন্ধানী হাসপাতাল থেকে ফোনে তাকে বলা হয় ‘কর্নিয়া পাওয়া গেছে। আপনি ১০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে আসেন’।

সেদিন সকালেই লিটন ফয়েজ আহমদের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সংবাদটি পেয়েছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালের ওয়ার্ডে কথা হয় লিটনের সঙ্গে। বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানায়। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়।

লিটন বলেন, হাসপাতালে আসার পর জানতে পারি ফয়েজ স্যারের দান করা কর্নিয়া লাগানো হবে আমার চোখে। সত্যি আমি গর্বিত। উনার দানে আমি আবার স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাব।

পাশে বসে থাকা লিটনের বাবা আব্দুল করিম বলেন, ‘বাবা আমরা উনার কাছে কৃতজ্ঞ। একজন মানুষ কত মহৎ হলে নিজের চোখ এবং শরীর দান করে যায়। আল্লা উনাকে বেহেস্ত নসিব করবেন’।  

জামালপুরেই ব্যাবসা করেন আব্দুল করিম। বললেন, ২০০০ সালে প্রথম ডাক্তার জানায়, লিটনের চোখের সম্যস্যার কথা। ওষুধ খায় এবং ড্রপ দিতে থাকে। কিন্তু সমস্যা দিন দিন বাড়ছিল।

ডাক্তাররা যখন জানাল কর্নিয়া ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া উপায় নেই, তখন দিশেহারা হয়ে পড়ি। কারণ টাকা হলেও কর্নিয়া পওয়া যায় না। আমরা সবাই স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। একমাত্র ছেলের ভবিষ্যতের চিন্তায় ওর (লিটনের) মা রাতে ঘুমাতে পারতো না। অনেকদিন পর গত রাতে আমরা শান্তিতে ঘুমিয়েছি। বললেন লিটনের বাবা।

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন লিটন।

লিটন বলেন, ২০০০ সালের পর থেকেই চোখের কর্নিয়ায় স্পট বাড়ছিল। ২০০৪ সালে ঢাকায় এসে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। কিন্তু কর্নিয়ায় অভাবে ট্রান্সপ্লান্ট হচ্ছিল না। দু বছর আগে সন্ধানী হাসপাতালে আবেদন করি কর্নিয়ার জন্যে।

সোমবার দুপুরে ডা. সৈয়দ এ আহসান সফলভাবে তার কর্নিয়া ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য ফয়েজ আহমদ সোমবার ভোররাতের দিকে হঠাৎ অসুস্থ্ হয়ে পড়লে তাকে বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৫টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মানবতাকে ভালবাসা মহাপুরুষ ফয়েজ আহমদ চিরনিদ্রায় কবরে শায়িত হওয়ার চাইতে নিজের দেহকে দান করে গিয়েছিলেন মানুষের কল্যাণে। সোমবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার দেহ দান করা হয়।

ফয়েজ আহমদের দান করা চোখের আরেকটি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে প্রকৌশলী কায়সারুল আলমকে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে