Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২০-২০১২

মঙ্গল গবেষণায় ইউরোপের সঙ্গে নেই আমেরিকা

মঙ্গল গবেষণায় ইউরোপের সঙ্গে নেই আমেরিকা
মঙ্গলগ্রহ নিয়ে গবেষণায় ইউরোপের সঙ্গে থাকতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি ২০১৩ সালের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন তাতে নাসা’র পক্ষে মঙ্গল অভিযানের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হবে না৷
 মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে, কী নেই - এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা, ইসা যৌথভাবে কাজ করার জন্য ২০০৯ সালে একটি চুক্তি করেছিল৷

পরিকল্পনা ছিল ২০১৬ সালে একটি অর্বিটার আর ২০১৮ সালে একটি রোভার পাঠানোর৷ এর মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহে মিথেন গ্যাসের সন্ধান করা হতো৷ এছাড়া সেখান থেকে মাটি এনে গবেষণা করা হত৷ মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা তা জানার জন্য এসব গবেষণা জরুরি ছিল৷ যে প্রকল্পের আওতায় এসব পরিকল্পনা করা হয়েছে তাকে বলা হচ্ছে ‘এক্সোমার্স'৷ এর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় দু'শো কোটি ডলার, যেটা ভাগাভাগি করে দেয়ার কথা নাসা ও ইসা'র৷ কিন্তু এখন নাসা বলছে, তাদের পক্ষে এই খরচ দেয়া সম্ভব হবে না৷ ফলে বিপদে পড়তে যাচ্ছে ইসা৷

হাল ছাড়ছে না ইসা
সংস্থার এক মুখপাত্র ফ্রাঙ্কো বোনাকিনা জানিয়েছেন, তারা রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন৷ এছাড়া ইসার সব সদস্য রাষ্ট্রকে আরও অর্থ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে৷
এদিকে নাসা না থাকায় বেড়ে যাবে প্রকল্পের ব্যয়৷ কেননা ইসা'র তৈরি রোভারকে মঙ্গলগ্রহে অবতরণের জন্য যে ‘ল্যান্ডার’ প্রয়োজন সেটা রয়েছে শুধুমাত্র নাসার কাছে৷ এখন নাসা না থাকলে এই ল্যান্ডারও তৈরি করতে হবে৷ ইসা মুখপাত্র বোনাকিনা বলছেন, ‘‘এর ফলে খরচ কী পরিমাণ বাড়বে সেটা আগামী মাসে জানা যাবে৷ এরপর সেটা জানানো হবে ইসার সব সদস্য রাষ্ট্রকে৷ তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে৷’’

বোনাকিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ইতালির মহাকাশ সংস্থার প্রেসিডেন্ট এনরিকো সাগেজে৷ তিনি বলছেন, ‘‘আর্থিক সংকট থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতালি সহযোগিতা করে যাবে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলে অভিযান চালানোটা গুরুত্বপূর্ণ৷ এবং এজন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটাও মেনে চলা প্রয়োজন৷’’ উল্লেখ্য, ইসার সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৷

নাসার বাজেট
প্রেসিডেন্ট ওবামা ২০১৩ সালে নাসার জন্য এক হাজার ৭৭০ কোটি ডলার প্রস্তাব করেছেন৷ বর্তমানের চেয়ে সেটা প্রায় ১০ কোটি ডলার কম৷ নাসার বাজেট সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এর প্রশাসক চার্লি বোল্ডেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মঙ্গল অভিযান নিয়ে অন্যভাবে ভাবতে চায় আমেরিকা৷’’
 
নাসার প্রস্তাবিত বাজেটে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র আইএসএস'এর গবেষণা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে তিনশো কোটি ডলার বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে৷ এছাড়া চাঁদসহ মঙ্গলগ্রহ ও আইএসএস'এর বাইরের অরবিটে বিজ্ঞানীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্যাপসুল ও রকেট তৈরির কাজে প্রায় ৩৯০ কোটি ডলার দেয়া হচ্ছে৷

গত বছর বন্ধ হয়ে যাওয়া স্পেস শাটল কর্মসূচি সমাপ্ত করতে এবং এতে ব্যবহৃত শাটল তিনটিকে জাদুঘরে পাঠানোর জন্য সাড়ে ৭০ কোটি ডলার দেয়া হবে৷

শাটল কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামেরিকার বিজ্ঞানীদের আইএসএস'এ যাওয়ার জন্য এখন রাশিয়ার সয়ুজ রকেটের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে৷ পাশাপাশি মহাকাশযান বানানোর জন্য বেসরকারি খাতকে সহায়তা করছে নাসা৷ এজন্য এবার ৮৩ কোটি ডলার দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে৷

উল্লেখ্য, মহাকাশ গবেষণার জন্য প্রায় দশ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে আইএসএস নির্মাণ করা হয়েছে৷ এতে যৌথভাবে বিনিয়োগ করেছে আমেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়া, জাপান ও ক্যানাডা৷

মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও গবেষণা খাতে দেয়া হচ্ছে ৭০ কোটি ডলার৷ এছাড়া কেনেডি স্পেস সেন্টারে ‘লঞ্চিং প্যাড’ নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৬২ কোটি ডলারের প্রস্তাব করা হয়েছে৷ শিক্ষাখাতে দশ কোটি আর নাসার দশটি সেন্টার পরিচালনার জন্য ২৮০ কোটি ডলার দেয়া হবে বলে জানা গেছে৷

প্রেসিডেন্ট ওবামার এই বাজেট প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে প্ল্যানেটারি সোসাইটি৷ এটি মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ক একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ৷ এক বিবৃতিতে তারা বলছে, ‘‘বাজেটে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য দেয়া হয়েছে সেটা ভুল পথের নির্দেশ করছে৷’’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে