Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (144 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৬-২০১৪

বাহরাইনে ভিসা প্রতারণা, অনেক প্রবাসী কর্মহীন

মোসাদ্দেক হোসেন সাইফুল


বাহরাইনে ভিসা প্রতারণা, অনেক প্রবাসী কর্মহীন

মানামা, ২৬ আগষ্ট- দালালের মন ভোলানো কথায় প্রভাবিত হয়ে ২০১২ সালের জুনে নিজের বসতভিটা ও হালের বলদ বিক্রি করে চার লাখ টাকায় বাহরাইন পাড়ি দেন কুমিল্লার লাঙ্গলকোটের জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু বাহরাইন এসে প্রতিশ্রুত কাজও মেলেনি, দেখা পাননি দালালেরও।

তিন মাস মানবেতর জীবন যাপনের পর দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ মেলে একটি রেস্তোরাঁয় । সেখানে ছয় মাস কাজ করে আবার বেকার হয়ে পড়েছেন। এরপর তিন মাস বেকার থেকে বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে  নির্মাণ  শ্রমিকের  কাজ করছেন । কঠোর পরিশ্রম করেও ঠিক মত বেতন পান না, তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়ে আছে। গত দুই বছরে সর্বসাকুল্যে দেশে পাঠিয়েছেন দুই লাখ টাকা । 

বাহরাইনের রাজধানী মানামার বাঙ্গালি গলিতে প্রতিবেদককে  দেখে এগিয়ে আসেন নোয়াখালীর সেনবাগের দেলোয়ার হোসেন খোকন –পরিবারের খোরাকি একমাত্র ফসলি জমিটি বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বাহরাইন এসেছেন । তাকে বলা হয় ৫০ হাজার টাকা বেতনে এসি রুমে বড় কোম্পানিতে অফিস বয়ের চাকরি। কিন্তু এখানে এনে তাকে ক্লিনিং কোম্পানিতে চাকরি দেয়া হয়। চাকরিতে যোগ দেয়ার কিছু দিন পর তিনি জানতে পারেন কোম্পানি তাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এখানে এনেছে এবং এই টাকার পুরোটাই নিয়েছে দালালরা। এখানে তার সাপ্তাহিক বা মাসিক কোন ছুটি নেই,বেতন যা পান – রুম ভাড়া ও খাওয়া খরচ বাদে ৮ হাজার টাকার বেশি টেকে না । দালালরা এখানে প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগ করেও কোন সদুত্তর পাননি । দেলোয়ার হোসেন অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনারা বাহরাইনের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে লিখুন, যাতে করে ৪/৫ লাখ টাকা খরচ করে দালালদের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে এখানে যেন কেউ না আসে,আমি যদি জানতাম-কখনো আসতাম না। এই টাকা দেশে বিনিয়োগ করে এখানে যে পরিশ্রম করছি-তা যদি দেশে করতাম তার ৪ গুণ আয় করতে পারতাম, আমি যে সম্পত্তি বিক্রি করে এখানে এসেছি-আজীবন বাহরাইন থাকলেও তা কিনতে পারবো না বলে তিনি কেঁদে উঠেন ।

জাহাঙ্গীর আলম ও দেলোয়ার হোসেনই শুধু নয়,বাহরাইনে কর্মহীন হয়ে অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি ।যারা পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসী হয়েছিলেন তারা নিজেরাই এখন অসহায় । তাদের মধ্যে কেউ কেউ অনেকদিন বেকার থেকে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। যারা থেকে যাচ্ছেন ,তাদের লিপ্ত হতে হচ্ছে কর্ম খোঁজার কঠিন এক সংগ্রামে। বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক শ্রমবাজার সৌদিআরব  ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে জনশক্তি রফতানি বন্ধ থাকায় শ্রমিকেরা বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে পাড়ি জমাচ্ছেন বাহরাইনে । অতীতে একসময় এখানে অনেকেই ব্যবসায়িক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক অব নতুন ভাবে সফলকাম হওয়া অনেক কঠিন। এখানে এসে বর্তমানে খুব সীমিত সংখ্যক লোক সফলকাম হতে পারছেন । বেশিরভাগ নব আগন্তুকের চোখে অমানিশার অন্ধকার । অন্যান্য দেশগুলোর স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনগুলো বিপদগ্রস্ত ,দিশেহারা এসব শ্রমিকদেরকে কাজ,বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করলেও বাংলাদেশিদের সে ধরনের কোন সংগঠন নেই । দু’একটি নাম  সর্বস্ব সংগঠন থাকলেও তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ।  বরং আখের গোছাতে ব্যস্ত তারা।

জনশক্তি রফতানিকারকরা বিভিন্ন কাজের কথা বলে বাহরাইনে শ্রমিক পাঠালেও এখানে এসে কাঙ্ক্ষিত ভালো কাজ মিলছে না । প্রচণ্ড রোদে পুড়ে নির্মাণ খাতে কাজ করা ছাড়া এখানে অন্য কাজের সুযোগ সীমিত । 

বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যমতে , বর্তমানে বাহরাইনে প্রায় একলক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক (বৈধ) রয়েছে আর অবৈধ শ্রমিক সংখ্যার সুনির্দিষ্ট কোন হিসেব নেই ।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমটি) তথ্যমতে,২০১১ সালে বাহরাইনে শ্রমিক রফতানি হয় ১৩ হাজার ৯৯৬ জন,২০১২ সালে ২১ হাজার ৭৭৭ জন,২০১৩ সালে ২৫ হাজার ১৫৫ জন এবং এ বছর তা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। 

পাশাপাশি বাহরাইনের জনশক্তি আমদানি বিষয়ক সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটির (এলএমআরএ) তথ্য মতে বাহরাইনে বর্তমানে কর্মরত প্রায় ছয় লাখ বিদেশি কর্মীর মধ্যে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছে ভারতীয় (৫৫ শতাংশ)।  

বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ১৬ শতাংশ। বাহরাইনে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের সিংহভাগ নির্মাণ খাতে কর্মরত। নির্মাণ খাত ছাড়াও কাঠমিস্ত্রি, মুদি দোকান, দর্জি দোকান, হেয়ার ড্রেসিং শপ, ট্রলারে করে মৎস্য শিকার, রেস্তোরাঁয় শেফ ও কুক, কৃষি ও বনায়ন খাতে বাংলাদেশিরা কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের একশ্রেণীর রিক্রুটিং এজেন্সি বাহরাইনে তাদের নিজস্ব দালাল নিয়োগ করে ভিসা কিনে থাকে। এ ছাড়া এখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাই বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে উচ্চমূল্যে ভিসা বিক্রি করছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ফ্রি ভিসা । প্রকৃত অর্থে এখানে ফ্রি ভিসা বলতে কিছু নেই । এসব অসাধু ব্যক্তিদের কারণে সহজ সরল ব্যক্তিরা সর্বশান্ত হচ্ছে, বাহরাইন এয়ারপোর্ট থেকে ভুক্তভোগীদের ফেরত আসা কিংবা বাহরাইনে আসার সাথে সাথে তার ভিসা বাতিল করে একই ভিসা আরেক বার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে । এ ব্যাপারে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল কে এম মমিনুর রহমান বলেন যারা সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করছে তাদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। কারো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তিনি নির্দ্বিধায় দূতাবাসে গিয়ে সরাসরি তাকে জানানোর অনুরোধ জানান।

বাহরাইন

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে