Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ , ৩ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (37 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২০-২০১২

কাল অমর একুশে সব প্রস্তুতি শেষ

কাল অমর একুশে সব প্রস্তুতি শেষ
আগামীকাল মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বীর বাঙালি। সারাদেশে গড়ে তুলেছিল তীব্র আন্দোলন। যার পথ ধরে শুধু এদেশে বাঙালির মাতৃভাষাই প্রতিষ্ঠিত হয়নি; পেয়েছে স্বাধীনতার গৌরবের লাল-সবুজ পতাকা। দিবসটি সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি রাতের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এছাড়া কূটনৈতিক, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ভাষাসৈনিক, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। রাত ১২:৪১ মিনিটের পর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। রোববার সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রতিবাদ, সংগ্রাম, নির্যাতন আর আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে '৫২ সালকে বিদায় দিয়ে ছাত্রসমাজ তৈরি হয় প্রথম শহীদ দিবস পালনের জন্য। কিন্তু বায়ান্নর ফেব্রুয়ারিতে ছাত্ররা যে স্মৃতিস্তম্ভ (শহীদ মিনার) তৈরি করেছিল, সশস্ত্র পুলিশ এসে তা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল উদ্বোধনের দিনেই। শহীদ মিনার নেই, কিন্তু স্মৃতির মিনার তো আছে। ১৯৫৩ সালে শহীদ দিবস পালনের জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হয়। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের আহ্বায়ক আতাউর রহমান খান '৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির দিনটি যথাযথ মর্যাদায় শহীদ দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। '৫৩ সালে প্রথম শহীদ দিবস পালিত হয়। তাই সে বছর আবেগের প্রাধান্য ছিল। ছিল উত্তাপ, উত্তেজনা। প্রথম প্রহরের আগেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিলুপ্ত স্মৃতিস্তম্ভের স্থানটিতে কালো কাপড় আর লাল কাগজ দিয়ে তৈরি করেন ছোটখাটো একটি প্রতীকী মিনার। একই রকম একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয় কার্জন হল প্রাঙ্গণে। ওইদিনই প্রথম প্রভাত ফেরি, আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত এবং ফুল দেয়ার রীতি প্রচলিত হয়। বেলা উঠলে ছাত্র আর জনসাধারণের খ- খ- মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয়। আহমদ রফিকের লেখায় জানা যায়, ওইদিন মিছিলে ৩০ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা শামিল হয়েছিল। ওই মিছিল কার্জন হল পেরিয়ে নবাবপুর, পাটুয়াটুলী, ইসলামপুর, বংশাল হয়ে আরমানিটোলা মাঠে পেঁৗছে। সেই মিছিলে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে সবার কাঁধে, বুকে কালো ফিতা, কালো ব্যাজ আটকে দেয়া হয়। মিছিলের সামনে ছিলেন আতাউর রহমান খান, শেখ মুজিবর রহমান, আবদুস সামাদ প্রমুখ। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের এমএ ওয়াদুদ পাটোয়ারী স্বেচ্ছাসেবকের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ওইদিন শহরের স্কুল, কলেজ, দোকানপাট, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তার যানবাহন বন্ধ ছিল। বন্ধ ছিল ব্যাংক, রেল, সিনেমা হল। সরকারি অফিস-আদালত ছিল প্রায় কর্মীশূন্য। বিকালে আরমানিটোলা মাঠে জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আতাউর রহমান খান। সমাবেশের সস্নোগান ছিল 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্দীদের মুক্তি দাও, শহীদ স্মৃতি অমর হোক, গণপরিষদ ভেঙে দাও, জালেম শাহী বন্ধ করো, সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক' ইত্যাদি। ওই সময়ে কারাগারে আটক ছিলেন মওলানা ভাসানী, অলি আহাদ, আবদুল মতিনসহ অনেক রাজবন্দী। প্রাণের আবেগের ওই দিনটিতে তারা শুধু যে, মুক্তির আন্দোলনে ছিলেন তা নয়, তারা একদিনের অনশন ধর্মঘটও পালন করেন। রাজবন্দীরা ওইদিনের খোরাকির টাকা রাষ্ট্রভাষা তহবিলে জমা দেয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ওইদিন আরমানিটোলা মাঠে বক্তৃতা করেন, শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী গোলাম মাহবুব, আবদুস সামাদ, মাহমুদ আলী প্রমুখ। এভাবে শহীদদের স্মরণে প্রতিবাদী জনতা প্রথমবারের মতো শহীদ দিবস পালন করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, ২১ ফেব্রুয়ারি আজিমপুর কবরস্থান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত রাস্তায় অতিরিক্ত জনসমাবেশ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‌্যাব কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সংলগ্ন এলাকাকে ভিডিও সার্ভেইল্যান্সের আওতায় আনবে। প্রতিটি এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা ও নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপন করবে। এ লক্ষ্যে এসব রাস্তায় বিশেষ পিকেটগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্সও নিয়োগ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আজিমপুর কবরস্থানে যাতায়াতের একটি মানচিত্র ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার রুটম্যাপ তৈরি করে প্রচারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উদ্যোগে শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থান ও সংলগ্ন এলাকায় ১৯ হতে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগি্ননির্বাপণ গাড়িসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি, লাইট ইউনিট বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন রাখা হবে। ঢাকার সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধসহ দুইটি ও একুশের গ্রন্থমেলায় একটি চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করবে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২১ ফেব্রুয়ারি ও গ্রন্থমেলা চলাকালীন দুইটি চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করবে। এতে আরো বলা হয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর/দক্ষিণ) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসা শহীদ মিনার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনেক্স ভবনসহ ১০টি পয়েন্টে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খাবার পানি সরবরাহ করা হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর/দক্ষিণ) এর উদ্যোগে শহীদ মিনার এলাকার সনি্নকটে এনেক্স ভবনে দুইটি এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে গ্রন্থমেলা চলাকালীন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১০টি ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করা হবে। একুশের অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেশের সর্বত্র প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে