Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২০-২০১২

সাংবাদিক-সাহিত্যিক ফয়েজ আহমদ আর নেই

সাংবাদিক-সাহিত্যিক ফয়েজ আহমদ আর নেই
প্রবীণ সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও ছড়াকার ফয়েজ আহমদ সোমবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। ইন্না লিল্লহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
সোমবার ভোর ৫টার দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে বারডেম হাসপাতালে নেয়া হয়। এখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি ডায়াবেটিসসহ বাধর্ক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
ধানমণ্ডির শিল্পাঙ্গন আর্ট গ্যালারিতে সকাল ১০টা পর্যন্ত তার মরদেহ রাখা হবে। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ নেয়া হবে। সব শেষে তার মরদেহ কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে নেয়া হবে।
ফয়েজ আহমদের ইচ্ছা অনুযায়ী ধর্মীয় কোনো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে না। তার দেহ বাংলাদেশ মেডিকেলে দান করা হবে।
ফয়েজ আহমদ ১৯২৮ সালের ২ মে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের বাসাইলডোগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। পূর্ব বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান সম্পাদক ফয়েজের হাত ধরেই পিকিং রেডিওতে (বর্তমান বেইজিং রেডিও) বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার চালু হয়। তিনি জাতীয় কবিতা উৎসবের প্রথম ৫ বছর আহবায়ক ছিলেন। এছাড়া ১৯৮২ তে বাংলা একাডেমীর কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পরে এরশাদের সামরিক শাসনের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
কর্ম ও রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি ফয়েজ আহমদ প্রধানত শিশু-কিশোরদের জন্য ছড়া ও কবিতা লিখেছেন। তার বইয়ের সংখ্যা প্রায় একশ। এর মধ্যে শিশু-কিশোরদের জন্য বই রয়েছে ৬০টি। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী শিশুদের জন্য রচিত তার চারটি বই ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।

 

তার লেখা ছড়া নিয়ে একটি আবৃত্তি ও সঙ্গীতের ক্যাসেট বেরিয়েছে। ফয়েজ আহমদের বইগুলোর মধ্যে ‘মধ্যরাতের অশ্বারোহী’ সবচেয়ে বিখ্যাত। এটি তার শ্রেষ্ঠগ্রন্থ বলে বিবেচিত। ছড়ার বইয়ের মধ্যে-’হে কিশোর’, ‘কামরুল হাসানের চিত্রশালায়’, ‘গুচ্ছু ছড়া’, ‘রিমঝিম’, ‘বোঁ বোঁ কাট্টা’, ‘পুতলি’ ‘টুং’, ‘জোনাকী’, ‘জুড়ি নেই’, ‘ত্রিয়ং’, ‘তুলির সাথে লড়াই’, ‘টিউটিউ’, ‘একালের ছড়া’, ‘ছড়ায় ছড়ায় ২০০’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি চীনসহ বিভিন্ন দেশের পাঁচটি বই অনুবাদ করেছেন। এর মধ্যে হোচিমিনের জেলের কবিতা উল্লেখযোগ্য।

 

বাংলা একাডেমী পুরস্কার, শিশু একাডেমী পুরস্কার, সাব্বির সাহিত্য পুরস্কার। একুশে পদক, নুরুল কাদের শিশু সাহিত্য ও মোদাব্বের হোসেন আরা শিশু সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

 

ব্যক্তিগত জীবনে ফয়েজ আহমদ অবিবাহিত ছিলেন। তারা ৪ ভাই, ৫ বোন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। ভাইদের কেউই বেঁচে নেই। একজন ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহত হন। বাকি দু’ভাইয়ের একজন হৃদরোগে, অন্যজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


ফয়েজ আহমদের মৃত্যুতে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভক্ত-অনুরাগীরা তার বাসায় ভিড় জমিয়েছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে