Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৫ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৯-২০১২

রাজনীতির অাঁধার কাটেনি : নিশ্চিত নয় সংলাপও

রাজনীতির অাঁধার কাটেনি : নিশ্চিত নয় সংলাপও
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদল কি সংলাপে আগ্রহী? কিংবা এ বিষয়টি নিয়ে তারা কি বিকল্প কিছু ভাবছে? প্রস্তাবিত সরকারের কি কোনো রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে_ গত কয়েকদিন রাজনৈতিক কথাবার্তার এই প্রশ্নগুলো বারবার উঠে এসেছে। বিশেষ করে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও বেস্নইকের ঢাকা সফরের পর নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই প্রধান দলের সমঝোতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। এ জন্যই বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপির বৈরিতার বরফ গলতে শুরু করেছে। দু'দলই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংলাপে আগ্রহী। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনীতির অাঁধার এখনো কাটেনি। সংলাপের দ্বারও এখনো খোলেনি। গোটাই মিডিয়ার প্রচারণা। কারণ হিসেবে তাদের বক্তব্য, আগামী নির্বাচন কী পদ্ধতিতে, কার অধীনে, কিভাবে হবে, তা নিয়ে দুই দল এখনো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে বিএনপি বলে দিয়েছে, নির্দলীয় বা অন্তর্বর্তী_ যে নামেই সরকার হোক না কেন, সেই সরকারের প্রধান হিসেবে তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনোভাবেই মানবে না। অন্যদিকে সরকারি দল বলছে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আর কোনো সুযোগ নেই। তাই দুই পক্ষের প্রস্তাবিত সংলাপ শেষতক শর্তের বেড়াজালে ভ-ুল হয়ে যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ও কম থাকছে না। তারপরও দুই দলের নেতাদের সংলাপের আগ্রহ এ মুহূর্তে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। জানা গেছে, এতদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করে এলেও এখন তারা অন্য নামে হলেও নির্দলীয় সরকার চাইছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাপারে তাদের মনোভাবও ইতিবাচক। তবে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকার_ যে নামেই হোক না কেন, যে সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেই সরকারের প্রধান এবং অন্য সদস্যদের অরাজনৈতিক হতে হবে এমন দাবিতে তারা এখনো অনড়। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আগ্রহী। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সভাপতিম-লীর সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিএনপির অবস্থানকে নিন্দা জানালেও একাধিক নেতা বলেছেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে যে কোনো স্থানে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে তারা তত্ত্বাবধায়ক বা কোনো অরাজনৈতিক সরকার ছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ সময় নেতারা বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করারও তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেও সমঝোতার ওপর জোর দেন। তবে তিনি যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে বিরোধী দলের অবস্থান সমঝোতার পথে প্রতিবন্ধক বলে মন্তব্য করেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও প্রায় একই রকম মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, দলের নেতারা বহুল বিতর্কিত ওয়ান/ইলেভেনের বিষয়টি মাথায় রেখে সেরকম কোনো পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলেছেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে কোনো নামের নির্দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে। তবে সরকারে কোনো দলীয় বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না এবং ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। এ ব্যাপারে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপির সম্ভাব্য ফর্মুলায় বিলুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করে আওয়ামী লীগ থেকে ৫ জন এবং বিএনপি থেকে ৫ জন নিয়ে ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মতো প্রস্তাব বিএনপি কোনো অবস্থায়ই মানবে না। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা না থাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলগুলো রাজপথে শক্তি পরীক্ষার লড়াইয়ে নামে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থির হয়ে ওঠে এবং দেশ সংঘাতের দিকে চলে যায়। এরই মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও' বেস্নইক। তিনি আগামী নির্বাচন নিয়ে দুই দলের সমঝোতার ওপর জোর দিলে দুই দলই নিজ নিজ কট্টর অবস্থান থেকে সরতে শুরু করে। রবার্ট ও' বেস্নইক ঢাকা সফর শেষে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অংশগ্রহণমূলক একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের পন্থা খুঁজে বের করবে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊধর্ে্ব উঠে আলোচনার মাধ্যমে সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন; অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করবেন।' অবশ্য বেস্নইকের সফরের আগেই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলের নেতারা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেন। কিছুদিন আগে একটি প্রভাবশালী দূতাবাসের নৈশভোজে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। এ সময় দুই নেতা রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জানান, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া যে কোনো ফর্মুলা নিয়ে বিএনপি সংসদে এসে আলোচনা করতে পারে। তিনি রবার্ট ও' বেস্নইকের আহ্বান অনুযায়ী দুই দলের সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় সমঝোতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বিএনপি অসহিষ্ণু রাজনীতি করছে। তারা ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় ফিরে এলে আওয়ামী লীগ সব রকম সহায়তা করবে। আলোচনার জন্য বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে হানিফ বলেন, সংসদ সবার জন্য উন্মুক্ত। চিঠি দেয়ার বা আমন্ত্রণ জানানোর কিছু নেই। জাতীয় সংসদ রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দল হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপিরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা সেই দায়িত্ব পালন করতে সংসদে আসবে বলে তিনি আশা করেন। এর জন্য চিঠি দেয়ার প্রয়োজন নেই। আগামী নির্বাচন কোনো সরকারের অধীনে হবে, তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ বা সরকার পক্ষ কোনো রূপরেখা তৈরি করেছে কিনা জানতে চাইলে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এ বিষয়ে এখনো গভীরভাবে কিছু ভাবা হচ্ছে না। সময় হলে এ নিয়ে ভাবা হবে। সরকার এবং আওয়ামী লীগের মিত্রদল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে আসার কোনো সুযোগ আর নেই। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রশাসন কিভাবে পরিচালিত হবে, প্রশাসনকে কিভাবে নিরপেক্ষ রাখা যায় এবং নির্বাচন কমিশন কিভাবে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনা বা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য সরকার রূপরেখা প্রণয়ন করেছে কিনা জানতে চাওয়া হলে মেনন বলেন, এ মুহূর্তে রূপরেখা ঠিক করা সম্ভব নয়। এটা নির্ভর করছে প্রধান বিরোধী দলের আলোচনার মনোভাব এবং তাদের প্রস্তাবের ওপর। তবে এ ব্যাপারে সরকারপক্ষের দলগুলো প্রাথমিকভাবে কিছু একটা রূপরেখা করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যায়যায়দিনকে জানান, রূপরেখা প্রণয়নের এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপি নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখানো হলে রূপরেখা নিয়ে ভাবা যাবে। একই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া জানান, রূপরেখার বিষয়টি নিজেদের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া বিষয় হলো দুটি_ ১. সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে; এবং ২. যে কোনো নামের নির্দলীয় সরকারে কোনো দলীয় ও বিতর্কিত ব্যক্তি থাকতে পারবে না। আর নির্দলীয় সরকার গঠনে সরকারি দলকেই প্রথমে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে সংসদে এবং সংসদের বাইরে সংলাপ করতে বিএনপি প্রস্তুত আছে। জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ জানান, নির্দলীয় সরকার গঠনের ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন যে বক্তব্য রেখেছেন, বিজেপির বক্তব্যও একই। রূপরেখা প্রণয়নে চারদলীয় জোটের পরবর্তী বৈঠকে প্রয়োজন হলে আলোচনা করা হবে। ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী জানান, নতুন করে ফর্মুলা করার কিছু নেই। আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যেমন ছিল, তেমনই রেখে নতুন নামে করলেও হবে। আর চারদলীয় জোটের বৈঠক থেকে যদি নতুন কোনো ফর্মুলা দেয়া হয়, তার সঙ্গে একমত থাকবে তার দল।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে