Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৯-২০১২

বিরোধী নেত্রীকে মানুষের কাছে তওবা করতে হবে- সন্দ্বীপের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

বিরোধী নেত্রীকে মানুষের কাছে তওবা করতে হবে- সন্দ্বীপের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- অতীতে ক্ষমতায় থাকার সময় বর্তমান বিরোধী দল বিএনপি যে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট করেছে এজন্য বিরোধী নেত্রীকে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে তওবা করতে হবে। গতকাল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত মানেই সন্ত্রাস-দুর্নীতি আর হত্যা-গুম। এটাই তাদের চরিত্র। আর আওয়ামী লীগ মানে উন্নতি-অগ্রগতি। এটা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই এ দেশের মানুষ কিছু পেয়েছে। সরকারি হাজী আবদুল বাতেন কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ এলাকায় যে নির্যাতন হয়েছে তা মানুষ ভুলে যায়নি। সন্দ্বীপ তখন সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছিল। মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা ছিল না। সন্দ্বীপের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের দুর্দিনে আওয়ামী লীগ সবসময়ই পাশে থেকেছে।
এর আগে সন্দ্বীপে সোলার হোম সিস্টেম এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর আর্থিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। সরকারি এ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই প্রধানমন্ত্রী সন্দ্বীপ সফরে যান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ মানুষকে ভাল না বেসে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য চোখের পানি ফেলছেন। দেশ ও জনগণের জন্য কাজ না করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য তিনি গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার এ দেশের মাটিতে অবশ্যই হবে। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. শাহজাহান। আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুসলেম উদ্দিন আহমেদ জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সন্দ্বীপে এটাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এর আগে ১৯৯৯ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর এখানে এসেছিলেন তিনি।
দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারে সন্দ্বীপ পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে চলে যান উপজেলা কমপ্লেক্সে। বিকাল চারটায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় ফিরে যান।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের জন্য কাজ করাই আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সন্দ্বীপের লোকেরা আওয়ামী লীগকে ভোট না দিলেও বর্তমান সরকার এ উপজেলায় বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এ উপজেলার উন্নয়নের জন্য কিছুই করেনি, সন্দ্বীপ উপজেলার মানুষকে দুর্ভোগে ঠেলে দিয়ে ১১টি সাইক্লোন সেন্টার ও ফেরিঘাট বিক্রি করে দেয়। ২০০২ সালে সন্দ্বীপ পৌরসভা নির্বাচনে তারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের ৩ বছরের শাসনামলে সন্দ্বীপে প্রতিহিংসার একটি ঘটনাও ঘটেনি। আমরা দেশে সুশাসন বজায় রাখতে চাই, যাতে জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারে। অপরদিকে বিএনপি চায় সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি।
সেচ পাম্পে সৌরবিদ্যুৎ প্রতিস্থাপন করা হবে
সোলার সিস্টেম ও বায়োগ্যাস প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যায়ক্রমে সবধরনের ডিজেলচালিত মিনিগ্রিড ও সেচ পাম্পগুলোতে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী এক বছরের মধ্যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে আরও ১০ লাখ হোম সোলার সিস্টেম ও ২০ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হবে। ইডকল ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম ও ১২ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উন্নতমানের জৈবসার তৈরি হচ্ছে। গ্রামের মা-বোনরা পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে যাতে রান্নাবান্না করতে পারে সেজন্য সরকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ক্লিন এনার্জি পৌঁছে দেয়ার জন্য ইডকল-এর মাধ্যমে বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইডকলের সৌরশক্তি ও বায়োগ্যাস কর্মসূচির অধীনে ২০ হাজার প্রত্যক্ষ ও ৩০ হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। এখাতে আগামী এক বছরে আরও ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও প্রসারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, সরকার ১৯৯৬ সালে দেশের প্রথম জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে। এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছেনি, সেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ১৯৯৭ সালে ইডকল প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইডকলের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সুবিধাদি দেয়া হচ্ছে।
দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি হ্রাসে দ্রুত অনেকগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ কারণে গত তিন বছরে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরেই বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৩ সাল নাগাদ ৭ হাজার মেগাওয়াট ও ২০২১ সাল নাগাদ ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধানে কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং সৌর ও বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহি চৌধুরীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানে ইডকল চেয়ারম্যান ও ইআরডি সচিব ইকবাল মাহমুদ সভাপতিত্ব করেন। ইডকল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইসলাম শরিফ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে সোলার হোম সিস্টেম ও বায়োগ্যাস প্লান্টের প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখেন। এর আগে তিনি উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে