Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ , ৫ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৮-২০১২

গণতন্ত্রের অসুস্থ চর্চা

গণতন্ত্রের অসুস্থ চর্চা
ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনের বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে ঢেকে গেছে রাজধানী ঢাকার মুখ। এ ধরনের কর্মকা-কে নির্বাচন কমিশনও দেখছে গণতন্ত্রের অসুস্থ চর্চা হিসেবে। আর পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের আগাম প্রচারণা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে। সাধারণ ভোটারদের কাছে পেঁৗছাচ্ছে নেতিবাচক বার্তা। এসব বন্ধে কমিশন কঠোর হলেও এতদিন আইন না থাকায় কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়া যায়নি। এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, 'দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) বিল সম্প্রতি পাস হয়েছে। এটি একটি উপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন। আরো আগেই এ আইন করা উচিত ছিল। দেরি হলেও আইনটি সংসদে পাস হওয়ায় প্রার্থীদের অবৈধ প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে। তবে দ্রুত এ আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ এ দেশে আইন অনেক হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) বিল, সংসদে পাস হয়েছে। এতে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি বিধান লঙ্ঘন করে দেয়াললিখন বা পোস্টার লাগালে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন ৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ-ে দ-িত করা যাবে। বিলে আরো বলা হয়েছে, কোনো সুবিধাভোগীর অনুকূলে বিধান লঙ্ঘন করে দেয়াললিখন বা পোস্টার লাগালে ওই সুবিধাভোগীর বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- করা যাবে অথবা ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া যাবে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের অসুস্থ সংস্কৃতি চালু নেই। নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগেই নিজের নামে পোস্টার ছাপিয়ে পোস্টারের নিচে লিখে দেয়া হয় প্রচারে এলাকাবাসী। এ ধরনের প্রতারণামূলক প্রচারণা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী মে'র শেষের দিকে বিভক্ত ডিসিসি নির্বাচনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চলতি সংসদ অধিবেশনে ঢাকা সিটি করপোরেশন আইন সংশোধন হলে মে মাসের শেষ সপ্তাহে একই দিনে নির্বাচন হতে পারে। অন্যদিকে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, এসব পোস্টার দেয়াললিখন সব কিছুকে নোংরা করে ফেলে।' রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যখন সংলাপ হয়, তখন তারা বলেছিলেন এ ব্যাপারে আইন করা দরকার। তা না হলে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিতে পারবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তখন এ ব্যাপারে কোনো আইন হয়নি।' সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম সব জায়গাই পোস্টারে ছেয়ে গেছে। সব দেয়ালে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন লিখন। আর এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই এগিয়ে। আছেন দল নিরপেক্ষ প্রার্থীও। জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ এ ব্যাপারে বলেন- যেসব প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করেন, তিনি এটাকে একটা ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ধরে নেন। যদি তিনি নির্বাচনে জয়যুক্ত হতে পারেন তখন তিনি এ টাকা তুলে নেয়ার চেষ্টা করবেন এটাই স্বাভাবিক। এ টাকা জনগণের টাকা, ট্যাক্স পেয়ারদের টাকা, এসব বিবেচনা তাদের থাকে না। ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনে প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব -উল আলম হানিফ বলেন, দলীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। কিন্তু তাতে কি? শহরজুড়ে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের রঙ্গীন পোস্টারের ছড়াছড়ি। বড় বড় রঙ্গীন পোস্টোরে লেখা হচ্ছে-'ওমুক ভাইকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই'। পোস্টারের নিচে ছোট করে লেখা প্রচারে এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলাকাবাসীর নামে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেরাই এসব করছেন। এদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। উত্তরা, গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, মিরপুর, ধানম-ি, পুরান ঢাকা, মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ও প্রয়াত মেয়র হানিফের ছেলে সাঈদ খোকনের পোস্টারই বেশি। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণের দল নিরপেক্ষ মেয়র প্রার্থী হিসেবে অলিতে-গলিতে পোস্টার লাগিয়েছেন ড. তুহিন মালিক। ডিসিসিকে দুই ভাগ করায় ঢাকা উত্তরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া পোস্টার সেঁটেছেন। এসব পোস্টারে ঢাকা উত্তরবাসীর পক্ষ হয়ে লেখা আছে, 'বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।' ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকনের পোস্টারে লেখা আছে, 'সাবেক মেয়র হানিফের ছেলে সাঈদ খোকনকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।' ঢাকা দক্ষিণে সাবেক এমপি হাজী সেলিমও প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। ঢাকার কোন অংশে নির্বাচন করতে চান, জানতে চাইলে হাজি সেলিম বলেন, 'বুড়িগঙ্গার তীরে জন্মেছি, বুড়িগঙ্গার তীরেই থাকতে চাই।' বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ডে তারও ছবি শোভা পাচ্ছে। তবে এই এলাকার জন্য স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ ও সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনও আলোচনায় আছেন। এ সম্পর্কে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, 'নির্বাচন করতে তার আগ্রহ ও প্রস্তুতি দুটোই আছে। প্রধানমন্ত্রী যদি মনোনয়ন দেন, নিশ্চয়ই নির্বাচন করবেন।' ঢাকা দক্ষিণের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন যায়যায়দিনকে বলেন, পোস্টার লাগিয়েছে তার শুভাকাঙক্ষীরা। তারা মেয়র হানিফের উত্তসূরি হিসেবে তাকে দেখতে চায়। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আশা করেন দল শতভাগ তার পক্ষে রয়েছে। নির্বাচনে তিনি দলের শতভাগ সহযোগিতা পাবেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের পর তিনি সরাসরি প্রচারে নামবেন। এখন এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি কাজী ফিরোজ রশিদ ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি ইতোমধ্যে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এখনো অন্য দল মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থী ঠিকই করতে পারেনি। সে অর্থে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এবং প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন আখতারও ডিসিসি দক্ষিণে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার তো ঢাকা শহরে আন্দোলনেরই বয়স ৪২ বছর। তাই ঢাকার মানুষ তাকে ভালোই চেনেন। সে দাবি নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। গণসংযোগ করছেন। পোস্টার দেয়া হয়েছে। যদিও তা সংখ্যায় কম বলে জানালেন সাবেক এ ছাত্রনেত্রী। ঢাকা দক্ষিণের দল নিরপেক্ষ প্রার্থী ড. তুহিন মালিক জানান, তফসিল ঘোষণার আগে তিনিও পোস্টার-লিফলেট বিতরণের পক্ষে নন। এছাড়া তিনি চান নির্বাচনে পেশিশক্তির পরিবর্তে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে আসুক। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাস থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে রাজধানীতে অন্তত ডজনখানেক মেয়র প্রার্থীর পোস্টার দেখা গেছে। প্রথমে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, শেখ হাসিনার জন্মদিন, পবিত্র ঈদুল আজহা, ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিভক্তি এবং সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে এসব পোস্টার সাঁটানো হয়। সবাই এসব পোস্টারের মাধ্যমে ডিসিসি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তরের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, এসব পোস্টার তার কর্মীরা লাগিয়েছেন। তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করার ইচ্ছার কথা স্বীকার করে বলেন, দলের সমর্থন পেলে নির্বাচন করবেন। ডিসিসির কোন অংশ থেকে প্রার্থী হবেন, এই প্রশ্নের জবাবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকা উত্তরের কর্মী-সমর্থকরা তাকে নিয়ে বেশি আগ্রহী। ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরো আছেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ, ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম ও এখলাস উদ্দিন মোল্লা। এদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রকাশ্যে মাঠে না নামলেও তারাও সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা যাতে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে না পারে সে জন্যই এ প্রস্তুতি। দলের পক্ষ থেকে সরাসরি কাউকে সমর্থন দেয়া না হলেও কৌশলে শক্তিশালী প্রার্থী মাঠে নামানোর প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এ ক্ষেত্রে তারা নাগরিক কমিটির ব্যানার ব্যবহার করতে পারে। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে এখনো দলে আলাপ-আলোচনা হয়নি। তবে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বিএনপি সদ্য সমাপ্ত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ না নিয়েও কৌশল তাদের প্রার্থী দলের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক সাক্কুকে জিতিয়ে এনেছে। ঢাকায় তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস এবং বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ প্রমুখ। এ ব্যাপারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, এ বিষয় নিয়ে তিনি এখন কোনো কথা বলতে চান না। ডিসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে দল সিদ্ধান্ত নেবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে