Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৬ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৭-২০১২

ব্লেকের কথায় বাংলাদেশ চলে না: সুরঞ্জিত

ব্লেকের কথায় বাংলাদেশ চলে না: সুরঞ্জিত
রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘ব্লেক সাহেবের কথায় বাংলাদেশ চলে না। ব্লেক সাহেবদের কথায় যদি বাংলাদেশ চলত, তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। বাংলাদেশ চলে বাংলাদেশের কথায়। বাংলাদেশের জনগণের কথায়।’
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এসব কথা বলেন।
রবার্ট ব্লেক দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দাবি করেছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। অন্যদিকে, ব্লেক সাহেব বলেছেন এ বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে। সুরঞ্জিত বলেন, ‘কত ব্লেক আইছে-গেছে। ব্লেক সাহেবদের কথায় কোনো দিন নীতিনির্ধারণ হয়নি। এটি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। এ দেশের বিরোধীদলীয় নেত্রীকে আহ্বান করব তিনি সরকারকে ল্যাংড়া-লুলা বানানোর অভিশাপ না দিয়ে তাঁর দলকে একটি সুস্থ, সংস্কৃতিবান ও সাংবিধানিক দলে পরিণত করুন। তাহলে গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দুই নেত্রীর সমঝোতার বিষয়ে ব্লেকের বক্তব্যের সূত্র ধরে সুরঞ্জিত বলেন, ‘সংলাপ তো আর শর্ত দিয়ে হয় না। বিএনপি যদি আগেই শর্ত দেয়, তাহলে তারা সংলাপ চায় না। তারা চায় তাদের দাবি জবরদস্তি করে পাস করতে।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র সমঝোতার বিষয়। গণতন্ত্র তো ট্রেড ইউনিয়ন নয়। মূল কথা হচ্ছে গণতন্ত্রের সাসটেইনেবিলিটি।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিরোধী দলের দাবি ও সরকারের অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্র করবেন, সংসদকে ফাংশন করতে দেবেন না, সংসদকে অকার্যকর করবেন, অনবরত বয়কট করবেন, তারপর বলবেন যে আমাকে আমার খুশিমতো নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে, দিতে হবে না, আমরা কোনোটাই বলিনি।’ সুপ্রিমকোর্ট বলেছে যে, ‘একই সঙ্গে নির্বাচিত সরকার ও অনির্বাচিত সরকার চলে না। সুতরাং এটা অসাংবিধানিক, আলট্রা ভায়োলেট টু দ্য কনস্টিটিউশন। তারপর তারা এও বলেছে যে যদি প্রয়োজন হয়, তবে সংসদ আরও দুই টার্ম দিতে পারে কিন্তু সুপ্রিম কোর্টকে রাখা যাবে না।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে সংশোধনীকালে তত্কালীন বিএনপির অবস্থানের বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, ‘তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে মিডনাইট ল করেছিল, সেখানে মূলতত্ত্বই ছিল সুপ্রিম কোর্টকে ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, অতীত-বর্তমান-নিকট ভবিষ্যত্ এবং আপিল বিভাগ সবাইকে নিয়ে। তারা যদি না থাকে তাহলে কি এত নাটক হয়? সে ক্ষেত্রে আমরা বলেছি, আপনারা কমিটিতে আসেন। আমরা আশা করেছিলাম তারা সংসদে আসবে কিন্তু আসেনি। এখন আমরা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে গেছি। আমরা একটা শব্দ, দাঁড়ি-কমাও পরিবর্তন করিনি। যা ছিল বাহাত্তরে সেই অনুযায়ী ’৭৩-এ নির্বাচন হয়েছে, এখন তা-ই আছে।’
বিএনপির গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা থাকলে তা সংসদে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে তারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা যেহেতু মেন্ডেইটেড, সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে। তারা সব সময় সেখানে আসতে পারেন।’
এ ক্ষেত্রে বিএনপির অসহযোগিতার বিষয়ে সুরঞ্জিত বলেন, যেকোনো প্রস্তাব যদি তারা দেয়, ‘আমরা বলেছি আমরা আলোচনা করব। সংসদের বাইরের কমিটি কি তাদের ডাকেনি? তারা এসেছে? আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান রচনাতেই যদি তারা অংশগ্রহণ না করে তাহলে আমার সংশয় হয় তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা আগে বলুক, তারা সংবিধানে বিশ্বাসী, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।’
সুরঞ্জিত বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একদিন আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এনেছিল। ক্রিকেটে যেমন রানার দিয়ে খেলা যায়, পরীক্ষায় যেমন নকল করা যায়—আন্দোলনে এসব চলে না। আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের ধারা-ই আন্দোলন করবে। বিএনপি ষড়যন্ত্রে সুন্দর, আন্দোলনে নয়।’
এ জট কীভাবে খুলবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সুরঞ্জিত বলেন,
‘কোনো জট নাই। সংবিধান আছে দেশে। তার পরও যদি তাদের কোনো কথা থাকে, তাহলে বলেছি গণতন্ত্রের স্বার্থে আলোচনা হবে। নেত্রী বলেছেন, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে রাজি আছি; তারা কি করতে রাজি আছেন?’

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে