Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৭-২০১২

অটোয়াতে বিশ্ব ভালবাসা দিবস

সুলতানা শিরীন সাজি


অটোয়াতে বিশ্ব ভালবাসা দিবস
মধ্য জানুয়ারীর এক সন্ধ্যা।টিভি দেখছিলাম দুজনে বসে।বাংলাদেশের কোন এক চ্যানেলে ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবসের নাটকের অংশ দেখাচ্ছিল। হঠাৎ করেই দুজনে মিলে প্লান করলাম ভালোবাসা দিবসের একটা অনুষ্ঠান করবো। বড় আঙ্গিকে কিছু একটা করার কথা প্রথমে ভাবিনি। কাছের বন্ধু ,পরিচিতদের বলতে গিয়ে বেশ সাড়া পেলাম। মনে হলো হোকনা আয়োজনটা একটু বৃহৎ পরিসরে।
এবার জানুয়ারীতে সবসময় এর মতন খুব বেশী শীত নেই। শীত নেই বা বলি কি করে ? প্রায়ই বিয়োগাংকের নীচে তাপমাত্রা। সময়ের সাথে সাথে শীত ও সয়ে যাচ্ছে, নাহলে মাইনাস ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসকে ও তেমন শীত মনে হবে বা না কেন?
যাকেই ফোন করি ,ভালোবাসা দিবসের অনুষ্ঠানের কথা বলি। বেশীরভাগ মানুষই সানন্দে রাজি হয়ে যান। কাজের কারনে কেউ কেউ আসতে পারবেনা বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
১০ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় ওভারব্রুক কমিউনিটি সেন্টারে ,”ভালোবাসার বসতবাড়ি” অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথীদের লাল গোলাপ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আমাদের বড় ছেলে রাশীক আর আমার মামাতো বোন মিথুনের মেয়ে  ইজুয়ানী দরজায় দাঁড়িয়ে মহিলা অতিথীদের গোলাপ দিয়ে স্বাগত জানায়।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করি আমরা দুজন।ভালোবাসা দিবস  কি,কেনো এইসব টুকটাক কথার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মোস্তফা ভাই (মোস্তফা চৌধুরী) কবি জীবনানন্দ দাসের বনলতা সেন আবৃত্তি করেন।
দর্শকদের মাঝ থেকে কয়েকজন দম্পতিকে ডাকা হয়। তারা হলেন অজন্তা-বাদল, হাসিব-রুনা এবং শশী- শিশির। ভালবাসার  ইতিহাসে কিংবদন্তী হয়ে আছেন এমন কিছু যুগলের নাম লিখতে বলা হয়। তারা সবাই মমতাজ-শাজাহান, লাইলী –মজনু, শিরী-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট এর কথা লেখেন। দুজন দম্পতি তাদের নিজেদের নাম লেখেন। একজন জুটি  আমাদের নাম সাজি-মিঠু লেখে যা সত্যি খুব উপভোগ্য ছিলো।
রেজা ভাই-সুরমা ভাবীকে(রেজাউর রহমান এবং সুরমা রহমান) ডাকা হয় দর্শকের সারি থেকে। তাদের কাছ থেকে ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। দুজনেই অনেক বছর আগে তাদের দেখা হওয়ার স্মৃতি নিয়ে গল্প করেন। এবং রেজা ভাই  নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। এ ছাড়া রেজাভাই একটা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন যা খুব মজার ছিলো।
এরপর গান গাইতে আসে শশী। ভালবাসার গান নিয়ে আরো আসে অং সুই থোয়াই এবং নারগিস আক্তার রুবী। তবলায় ছিলেন আলী আজগর। ঐশী এবং তার বন্ধুদের পরিবেশনায় দলীয় নাচ খুব ভালো হয়েছিলো। মাসুদ ভাই আবৃত্তি করেন কবি হেলাল হাফিজের,” যাতায়াত” কবিতা। রফিক আজাদের “যদি ভালোবাসা পাই “কবিতাটি আবৃত্তি করি আমি সাজি, মোস্তফা ভাই এবং মাসুদ ভাই। এছাড়া শিল্পী রহমান আবৃত্তি করেন ,”শুধু তোমার জন্য” কবিতা(সুলতানা শিরীন সাজির লেখা)। আমরা দুজন আবৃত্তি করি, পূণেন্দু পত্রীর কথোপকথন থেকে শুভংকর নন্দিনীর সংলাপ” আজকাল তুমি বড্ড সিগারেট খাচ্ছো শুভংকর”।
দর্শক সারি থেকে রাহাত আবং নাজিয়াকে ডাকা হয়। মরিশাসের মেয়ে নাজিয়া অন্তর্জালে রাহাতের সাথে পরিচিত হয়ে কি করে ভালোবাসার টানে সুদুর কানাডায় চলে আসে এবং বিয়ে করে ঘর বাঁধে ,আমরা সেই গল্প শুনি নাজিয়ার মুখে। ওর বাংলা বলা শুনে দর্শকরা মুগ্ধ হয়।
আর একটি মজার খেলায় অংশ নেন দর্শকরা। কয়েকজন দম্পতিদের ডাকা হয়। স্ত্রীরা লেখেন তাদের নিজের প্রিয় কিছু জিনিসের নাম। আর স্বামীরা লেখেন তাদের সঙ্গীদের প্রিয় জিনিসের নাম।  এতে অংশ নেয় চন্দনা-শান্তনু,লিজা-টিটু এবং নিঘাত –রবি । টিটু ভাই বিয়ের আগের জীবন এবং পরের জীবন নিয়ে জোকস শোনান। যা সবাই খুব পছন্দ করে। এছাড়া রবি ভাই একটা গানের কিছু অংশ গেয়ে শোনান। যাতে প্রানের ছোঁয়া ছিলো।
ছোটদের জন্য আয়োজন ছিল,যেমন খুশি তেমন নাচো।“আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী” আর ইংরেজী গান শাকিরার,ওয়াকা ওয়াকার সাথে নাচে ছোটরা। পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া বেশ ভালো নাচে রাকা, অহনা,ইজুয়ানী ,ইস্টি এবং আরো কিছু ছোট মেয়েরা।
শেষ পর্বে পিয়া একক গান করে এবং আশীক এর সাথে দ্বৈত পরিবেশনা ছিলো।  উর্মি ভাবী (সাদিয়া রহিম উর্মি )কিছু একক গান করেন। এছাড়া ইলোরা আর আশীক ও দ্বৈত গান পরিবেশন করে। আশীকের গাওয়া একক কিছু পরিবেশনার সাথে সাথেই অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠানের ছবি তুলেছেন গোলাম রব্বানী মিঠু এবং স্মৃতি। আর ভিডিও ধারন করেছে মামুন।
ভালোবাসা দিবসের এই অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহনের জন্য আমরা দুজন দর্শকদের ধন্যবাদ জানাই। অনুষ্ঠানের যা কিছু ভাল সেই স্মৃতি সংগে নিয়ে যাবার জন্য বলি।সম্পূর্ন প্রস্তুত্তিছাড়া দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহন সত্যি প্রশংসনীয়। ভালোবাসা শুধুমাত্র ভালোবাসাতেই সব সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের জীবন যাপন যেনো  সুন্দর হয়, সবাই যেনো সুস্থ থাকি ,ভাল থাকি এই প্রত্যাশা আর আশাবাদ নিয়েই প্রায় মধ্যরাতে শেষ হয় আমাদের অনুষ্ঠান “ভালবাসার বসতবাড়ি”। ভালোবাসার অমল ধবল বোধ বুকে নিয়ে সবাই বাড়ি ফিরতে শুরু করে। ভালোবাসার জন্য কোন আলাদা দিনক্ষন লাগেনা। ভালোবাসার অর্বাচীন অনুভব সবসময় ঘিরে রাখে আমাদের। তবে এমন এক একটা দিন থাকলে উদযাপনের জন্য সুবিধা হয়। সে কারনেই হয়তো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বাবা দিবস , মা দিবস দিনগুলোর  উৎপত্তি।

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে