Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (94 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-০৮-২০১৪

আবারো গাজায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণ

জাকিয়া সুলতানা


আবারো গাজায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণ

গাজা, ৮ আগষ্ট- তিন দিনের অস্ত্রবিরতি শেষে আবারো গাজায় হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। প্রায় দুই হাজার নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যা করার পর তিন দিন বিরতি দিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে ফের গাজায় গোলা বর্ষণ শুরু করে নেতানিয়াহুর সেনারা। হামাস রকেট ছুঁড়েছে এই অজুহাতে একের পর এক ইসরাইলি গোলা পড়তে শুরু করে গাজার পবিত্র মাটিতে। এর মধ্যদিয়ে ইসরাইল পুরোনো চেহারায় ফিরে আসে। আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরাইল তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি শেষ হয় শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায়। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই মারমুখি অবস্থান নেয় ইসরাইল।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করছে, শুক্রবার সকাল থেকে গাজার জঙ্গিরা ১০টি রকেট ছুঁড়েছে। আশকেলোন শহরে আয়রন ডোম ব্যবহার করে একটি রকেট প্রতিহত করা হয়েছে। বাকিগুলো উন্মক্ত স্থানে পড়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে গত মাস ধরে শুরু হওয়া সহিংসতায় মিশরের মধ্যস্থতায় এই প্রথমবার তিনদিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এর আগে একাধিক যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়া হলেও, সবই ভেস্তে যায়। মিশরের মধ্যস্থায় গাজায় তিনদিনের যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদী করতে কাজ করছিল আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিক টনি ব্লেয়ার ও জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রচেষ্টা সমন্বয়কারী রবার্ট সেরিও গাজায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন। তবে কার্যত কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।

ইসরাইলি বাহিনী এতোটাই আগ্রাসী যে তারা জাতিসংঘের শরনার্থী শিবিরেও হামলা চালাতে পিছপা হচ্ছে না। ইসরাইলি একাধিক হামলায় জাতিসংঘের শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া কয়েকশ’ ফিলিস্তিনি ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। অথচ বাড়ি-ঘর ছেড়ে শুধুমাত্র প্রাণে বাঁচার আশায় এবং জাতিসংঘের শরনার্থী শিবিরকে নিরাপদ মনে করে তারা সেসব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলো। শরনার্থী শিবিরগুলোর পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবত যে ওইসব জায়গায় এমন অনেক শিশু রয়েছে যাদের মা-বাবা বা অভিভাবক কিংবা পরিবারের বড় কোনো সদস্যই জীবিত নেই।

ইসরাইলের  এ হামলাকে বার বার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলা হলেও, তাতে যেনো তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তবে ফিলিস্তিনের এমন পরিস্থিতিতে কার্যদ কোনো ভূমিকাই দেখা যায়নি আবর বিশ্বের। মুসলিম বিশ্বের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) মহাসচিব আয়াদ আমিন আবদুল্লাহ মাদানি এই কথা স্বীকার করে বলেন, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলা বন্ধে আরব রাষ্ট্রগুলো কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

আবদুল্লাহ মাদানি দাবি করেন, ১৯৬৭ সালে সিনাই মরুভূমি, জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি বাহিনীর প্রবেশ আরবদের পরাজয় ডেকে আনে। আরবরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার কথা ভাবতেও পারে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো কিছু করার মতো অবস্থায় নেই।

এদিকে তিনদিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজা ছেড়েছে আগ্রাসী ইসরাইলি বাহিনী। লোকজন ফিরতে শুরু করেছেন আপন ঠিকানায়। কিন্তু ঘরবাড়ি কোথায়। চারদিকে কেবলই ধ্বংসস্তূপ। আবার কীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেবেন, সেই চিন্তা এখন অনেক গাজাবাসীর মনে। অনেকেই আবার শরনার্থী শিবিরে হামলার শিকার হয়ে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকেই হারিয়ে ফিরেছেন নিঃস্ব হয়ে।

মিশরের মধ্যস্থতায় ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পর ইসরাইল গাজা থেকে স্থল বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর উভয় পক্ষকে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে কায়রোতে কূটনীতিকদের জোর প্রচেষ্টা শুরু হয়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার লক্ষ্য হচ্ছে, গাজায় তিন দিনের চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উপায় বের করা।

অবশ্য কায়রোতে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল উভয় পক্ষ প্রতিনিধিদল পাঠালেও তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। মিশরের মধ্যস্থতায় আলোচনায় উভয় পক্ষ যেসব শর্ত দিচ্ছে, তাতে করে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা অনেক কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র মার্ক রেগেভ বলেন, হামাসকে তাদের মিলিশিয়া বাহিনীকে নিরস্ত্র করতে হবে। ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অসামরিকীকরণ। আমাদের অবশ্যই হামাসের পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত হওয়া রুখতে হবে। অবশ্যই গাজা উপত্যকার অসামরিকীকরণ করতে হবে।’

তবে হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন, তারা গাজার মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করার ইসরাইলি দাবি মানবেন না।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আইনজীবীদের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে সাক্ষাৎ করে বলেন, গাজায় অভিযানের সময় ইসরাইল যে যুদ্ধাপরাধ সংঘটন করেছে, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তাই দেশটির বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই।

বড় পরিসরে আলোচনায় বসতে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি। বড় পরিসরে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্র ইস্যুর সমাধান করতে হবে।

এদিকে মিশরের মধ্যস্থতায় তিনদিনের যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার প্রস্তাবে ইসরাইল সম্মত হলেও, রাজী হয়নি হামাস। গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস বলছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি দাবিগুলো মেনে না নেয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে যাবে না। এমনকি দাবি আদায়ের জন্যে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যেতেও প্রস্তুত তারা।

এর আগে দীর্ঘমেয়াদি দাবিগুলো মেনে না নেয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে কায়রোতে থাকা ফিলিস্তিনি মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়ে ছিলেন হামাসের সামরিক শাখা কাসাম বিগ্রেডের এক মুখপাত্র।

এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরাইল। তখন আট দিনের মাথায় মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এবারো মিশর মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছিলো। কিন্তু সফল হয়নি।

হামাসের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর যে অবরোধ রয়েছে তা তুলে নেওয়া, সীমান্ত খুলে দেওয়া, গাজা বন্দর খুলে দেওয়া এবং গাজা পুর্ণগঠনে আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করা।  

প্রায় এক মাসের সংঘর্ষে ফিলিস্তিনে নিহত হয়েছেন আঠারোশ’ মানুষ। জাতিসংঘের হিসাব মতে, ফিলিস্তিনের যে একহাজার ৮০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এর মধ্যে এক হাজার ৩০০ জনই বেসামরিক মানুষ। এর মধ্যে চারশ’র বেশি শিশু।

এদিকে ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতি চলাকালীন প্রথমবারের মত বেসামরিক লোক হতাহত নিয়ে মুখ খুললেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি হামাসকে দোষারোপ করে বলেন সমস্ত সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার জন্য হামাস দায়ী। তারা সাধারণ মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই সবাই বলেছে যে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে এবং তাদের আমরা প্রশংসা করি যারা এটা বলেছে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা হামাসের হামলাকে দায়মুক্ত করতে চাইছে এই বলে যে তারা স্কুল, হাসপাতাল ও মসজিদ থেকে হামলা করছে তাই আমাদের এর জবাব দেওয়া উচিত হবেনা। সেটা অবশ্যই একটা নৈতিক ভুল। কারণ তারা সাধারণ মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’

অপরদিকে ইসরাইল সরকার জানিয়েছে, লড়াইয়ে তাদের ৬৪ জন সেনা ও তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একজন থাইল্যান্ডের নাগরিক। তাদের অভিযানে ৯০০ ফিলিস্তিনি জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইসরাইলের।

ফিলিস্তিন ভূখ-ে ইসরাইলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ৮ জুলাই। ইসরাইলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হামলা শুরু হয়। হামাসই ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করে দেশটি। তবে হামাস তা অস্বীকার করেছে।

পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে- এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ শুরু করে ইসরাইল।

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে