Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৩ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-৩০-২০১৪

আসামের বাঙালিদের বিরুদ্ধে আলফার হুমকি

আসামের বাঙালিদের বিরুদ্ধে আলফার হুমকি

গৌহাটি, ৩০ জুলাই- ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার হুমকি দিয়েছে।

পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন আলফার যে অংশ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিরোধিতা করছে, তাদের মুখপত্রের সাম্প্রতিকতম সংখ্যায় এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদকীয় কলমে লেখা হয়েছে যে হিন্দু বা মুসলমান, কোন ‘অনুপ্রবেশকারীকেই’ আলফা মেনে নেবে না, আর রক্তপাতের জন্য দায়ী থাকবে বিজেপি আর কংগ্রেস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন আলফার শক্তি অনেকটাই কমে গেলেও এ ধরনের হুমকি বাস্তবায়িত করার ক্ষমতা এখনও তাদের রয়েছে।

আলফার সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের মুখপত্র স্বাধীনতা-র সর্বশেষ সংখ্যায় লেখা হয়েছে, সমস্ত কথিত অবৈধ বিদেশীদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরবে আলফা।

ওই পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে যে একদিকে বিজেপি যেমন বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দুদের শরণার্থী বলে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে আসামের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈও বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলমানদের নিয়ে রাজনীতি করছেন।

দুটি দলই নিজেদের ভোট ব্যাঙ্কের কথা ভেবে এটাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে স্বাধীনতা-র সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়।

আলফার মতে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান বা মায়ানমার – সব দেশে থেকেই আসামে আসা ‘অবৈধ’ বসবাসকারীর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়ার সময় এসে গেছে।

আলফার কর্মকাণ্ডের ওপরে দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখেন প্রাক্তন সাংবাদিক ও লেখক রাজীব ভট্টাচার্যি।

তিনি বলছিলেন, আলফার জনসমর্থন হারানোর একটা বড় কারণ হল কথিত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে তারা স্পষ্ট কোনও অবস্থান কখনই নেয় নি।

“কর্মী, অর্থের যোগান আর অস্ত্র, সব দিক থেকেই পরেশ বড়ুয়া যথেষ্ট শক্তি হারিয়েছেন,” বললেন মি. ভট্টাচার্যি।

“আলফার সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়া এখন সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন,” তিনি বলেন।

সম্প্রতি আসাম সরকার কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে, যে বাংলাদেশ থেকে যেসব মানুষ ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে চলে এসেছেন, তাদের যেন আশ্রয় দেওয়া হয়।

“এই সুযোগটাকেই আলফা কাজে লাগাতে চাইছে সমর্থন বাড়ানোর জন্য,” বলছিলেন মি. ভট্টাচার্যি।

মি. ভট্টাচার্যি প্রায় চার মাস ধরে মায়ানমারে আলফার শিবিরগুলিতে ঘুরে এসেছেন, পরেশ বড়ুয়ার সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন।

তাই এই হুমকি বাস্তবায়িত করার মতো ক্ষমতা আলফার রয়েছে কি না, সেটা জানতে চেয়েছিলাম রাজীব ভট্টাচার্যির কাছে।

মি. ভট্টাচার্যি বলছিলেন, দশ বছর আগেও আলফার সঙ্গে যত কর্মী বা অস্ত্র ছিল, তা এখন নেই ঠিকই, কিন্তু এটা ধরে নিলে ভুল হবে যে সশস্ত্র হামলা করার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে তারা।

“দশ বছর আগের হামলাগুলির মতো তীব্রতা হয়তো থাকবে না, কিন্তু পরেশ বড়ুয়ার হামলা চালানোর ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে, এটা ধরে নেওয়া সঠিক হবে না,” তিনি বলেন।

বাঙালিদের মনে ভয়
বাংলাদেশ থেকে আসামে চলে আসা হিন্দু ও মুসলমানদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি নামের একটি সংগঠন।

তারা বলছে, আলফার শক্তিক্ষয় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের এই সর্বশেষ হুমকির ফলে আসামের হিন্দু আর মুসলমান, উভয় ধর্মের মানুষই ভয় পাচ্ছেন।

ওই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হাফিজ রশিদ চৌধুরী বলছেন, আসামে বাংলাভাষী মুসলমানরা দলবদ্ধভাবে থাকে, কিন্তু বাঙালি হিন্দুরা বিভিন্ন জেলাতেই বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করেন। তাই আলফার এই হুমকির পরে তাঁদের ভীত হওয়ার কারণ আছে।

তিনি জানান যে তাদের শাখা সংগঠনগুলিকে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে তারা যেন বাংলাভাষীদের সাহস যোগায়। তবে তিনি আশা করছেন সেটার প্রয়োজন হবে না।

“আমাদের আশা আসামের সাধারণ মানুষ, যারা আইনের শাসন মেনে চলেন, তারা আমাদের পাশেই দাঁড়াবেন,” মি: চৌধুরী বলেন।

রাজীব ভট্টাচার্যির মতোই, মি: চৌধুরীও বলছিলেন শক্তিক্ষয় হওয়ার পরে এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে আলফা।

একদিকে যেমন সশস্ত্র হামলা হুমকি দিয়েছে আলফা, তেমনই আসামে যেসব রাজনৈতিক সংগঠন সরকারী প্রস্তাবের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছে, তাদের প্রতিও কটাক্ষ করা হয়েছে।

তাদের মুখপত্র স্বাধীনতা পত্রিকাটিতে লেখা হয়েছে, যে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে দাবী আদায় সম্ভব নয়। এই আশা করাও ভুল।

পত্রিকাটিতে অভিযোগ করা হয়, যে স্থানীয় মানুষরা নিজের জায়গাতেই একরকম বিদেশী হয়ে যাচ্ছে।–বিবিসি।

আসাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে