Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৬-২০১২

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সংসদে প্রস্তাব পাস

সাজিদুল হক সাজু, ইশতিয়াক হুসাইন


যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সংসদে প্রস্তাব পাস
মহাজোটের সংসদ সদস্যদের তুমুল হৈ-চৈ ও তীব্র দাবির মুখে জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাদীদের বিচার বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের শিরোনাম হলো- ‘সংসদের অভিমত এই যে, সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্তে আলোকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য যারা বাধাগ্রস্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত বিধি বিধান গ্রহণ করা হোক।’

ওই সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর ১০ জন সংসদ সদস্যের দেওয়া সংশোধনীও গ্রহণ করা হয়। ওই ১০জন মূল প্রস্তাবের আগে ‘অবিলম্বে’ শব্দটি সংযোজন করার প্রস্তাব করেন।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি সদস্য দিবসে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি উত্থাপন করা হলেও আলোচনা স্থগিত ছিলো।

এ প্রস্তাবটি গ্রহণ করা না করা নিয়ে মহাজোটের সংসদ সদস্যরা তুমুল হৈ-চৈ করেন।

এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরে স্পিকার আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট এসে পরিস্থিতি সামলান।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও চিফ হুইপ আব্দুস শহীদও পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হন। এসময় আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম কথা বলতে গেলে তাকে থামিয়ে দেন সংসদ সদস্যরা।

দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে শুরু করার জন্য ডেপুটি স্পিকার বেনজীর আহমেদকে ফ্লোর দেন। এরপর বেনজীর তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের পক্ষে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে যেভাবে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছে তাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এতে কোন না কোন ভাবে বিচার বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

এর আগে তিনি বলেন, রাজাকার-আলবদর-আলশামসের প্রধান নেতা এখন কারাগারে। এরা এখন দেশের অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টায় আছে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছেন খালেদা জিয়া।  রোডমার্চে সিলেটে গিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের যুদ্ধাপরাধী বলা যাবে না।’
 
বেনজীর তার বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্তকারীদের আইনের আওতায় আনতে যুক্তি তুলে ধরেন।

বেনজীরের প্রস্তাব সমর্থন করেন মোট ১০ জন সংসদ সদস্য। তারা হলেন- মো. শহীদুজ্জামান সরকার (নওগা-২), মো. ইসরাফিল আলম (নওগা-৬), অপু উকিল (মহিলা আসন -২), মো. মুজিবুল হক (কিশোরগঞ্জ-৩), সানজিদা খানম (ঢাকা-৪), ফরিদুন্নাহার লাইলী (মহিলা আসন-১৮), মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন (ঢাকা-৭), নাজমা আক্তার (মহিলা আসন-১৩), মো. আব্দুর রহমান (ফরিদপুর-১), গোলাম দস্তগীর গাজী (নারায়ণগঞ্জ-১)।

এদের মধ্যে বক্তব্য দেন, শহীদুজ্জামান সরকার, ইসরাফিল আলম, মুজিবুল হক চুন্নু, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, গোলাম দস্তগীর গাজী, নাজমা আক্তার।

তাদের বক্তব্যের পরে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বক্তব্য দিতে ওঠেন।

তিনি যুদ্ধপরাধীদের বিচারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বচনী ইশতেহারে ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো হবে। এ সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিধি মেনে আরেকটি ট্রাইবুনাল করছি। কেউ কেউ এ ট্রাইবুনাল বন্ধ করার কথা বলছেন। কেউ কেউ বলছে এদের নাম উল্লেখ করে বলছে এদের ছেড়ে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে যারা কথা বলছে প্রচলিত আইনেই তাদের বিচার হতে পারে। সরকার আপাতত নমনীয় রয়েছে। তবে এ নমনীয় ভাব থাকবে না। শিগগিরই এদের প্রচলিত আইনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’

এরপর কামরুল বেনজীর আহমেদকে তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।

এরপর ডেপুটি স্পিকার বেনজীরকে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে আপনি আপনার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে পারেন।’

পরে বেনজীরকে ফ্লোর দিলে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী যেভাবে বলেছেন তাতে আমি আশ্বস্ত। আমি আমার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করছি।’

এরপর ডিপুটি স্পিকার বিষয়টি ভোটে দিলে সংসদে উপস্থিত সদস্যরা হইচই করে ওঠেন। তারা এসময় ভোটে না গিয়ে প্রস্তাবটি গ্রহণ করার দাবি জানান।

এসময় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজলে রাব্বি মিয়া পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাড়িয়ে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলেও তাকে ফ্লোর দেননি ডেপুটি স্পিকার। অবশ্য কয়েক মিনিট পরেই তাকে ফ্লোর দেওয়া হয়।

ফজলে রাব্বি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্য সারা জাতি আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছিলো। বেনজীর আহমেদের প্রস্তাবটি সুন্দর ছিলো। আজ এ প্রস্তাব যদি গ্রহণ করা না হয় তবে ওরা (যুদ্ধাপরাধীরা) লাভবান হবে। এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাব ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।’

তার এ বক্তব্যের পরপরই হইচই শুরু করেন। মুজিবুল হক চুন্নু, মুহিবুর রহমান মানিক, বীর বাহাদুর উশৈ সিং-কে  এসময় বেশ উত্তেজিত দেখা যায়।

এসময় চিফ হুইপ দাঁড়ালেও তাকে ফ্লোর দেননি ডেপুটি স্পিকার। পরে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এটা প্রত্যাহার না করে স্থগিত করেন।’

এরপরে আবারো হট্টগোল শুরু হয়। পুরো সময় জুড়ে চিফ হুইপ ও হুইপ আসম ফিরোজ অন্যদেরকে থামানোর চেষ্টা করেন।

পরে আইন প্রতিমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বলেন, ‘হাউজের সেন্টিমেন্টের সঙ্গে আমি একমত।’

এরপরে তিনি কথা বলতে গেলেও হট্টগালের কারণে পারেন নি। এসময় চিফ হুইপকে মাইক দেওয়া হয়। তিনি সকলকে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এ সময় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, এ প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাব উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য নিজেই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করার কথা বলেছেন। এখন এটি গ্রহণ বা প্রত্যাহার করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ স্পিকারের।

এ সময় আবারও ফজলে রাব্বিসহ সকল সংসদ সদস্যরা একযোগে দাঁড়িয়ে এর বিরোধীতা করেন। তীব্র হৈ-চৈ, বাক-বিত-ার মধ্যে ৫টা ৪০ মিনিটে স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট প্রবেশ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বেশিরভাগ সদস্যই প্রস্তাব উত্থাপনকারী বেনজীর আহমদকে তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার না করার জন্য চাপ দেন।

তীব্র হৈ-চৈ’র মধ্যে স্পিকার সভাপতির আসনে বসেই সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার নাকি গৃহীত হবে- এ নিয়ে ভোটাভুটির প্রস্তাব দিলে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তা সমর্থন জানান।

এসময় প্রবীন সংসদ সদস্য মারুফ সাকলান এক প্রকার নেচেই ওঠেন।

স্পিকার বলেন, মন্ত্রী বললেও প্রস্তাবটি আমি ভোটে দেব। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে যদি প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন তবে গৃহীত হবে, আর প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দিলে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার হবে। এ নিয়ে প্রতিবাদের কিছু নেই।
 
এ সময় স্পিকার প্রস্তাব উত্থাপনকারী বেনজীর আহমদকে ফ্লোর দিয়ে জানতে চান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নিতে চান কীনা।

জবাবে বেনজীর আহমদ বলেন, আমি প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নিতে চাই না। আমি যে প্রস্তাবটি এই মহান সংসদে এনেছি তা দেশের মানুষের ৪০ বছরের পুঞ্জীভূত দুঃখ-বেদনার বহির্প্রকাশ। এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করার জন্য আমি মহান সংসদে দাবি রাখছি।

এ পর্যায়ে প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়।

গগণবিদারী ‘হ্যাঁ’ সূচক ধ্বনিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। এমনকি প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের অনুরোধকারী আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামও ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে