Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৬-২০১২

‘ভাষা বিকৃতি’ বন্ধে সব রেডিও-টিভির প্রতি হাইকোর্টের রুল

‘ভাষা বিকৃতি’ বন্ধে সব রেডিও-টিভির প্রতি হাইকোর্টের রুল
ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি: সংবাদমাধ্যমে ‘বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধে’ বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জমানকে প্রধান করে একটি কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট বিভাগ। বৃহস্পতিবার বিভাগের একটি বেঞ্চ স্বউদ্যোগে (সুয়োমোটো) এ নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বেতার ও টেলিভিশনে ‘বিকৃত বাংলা উচ্চারণে’ অনুষ্ঠান প্রচার ও ‘ভাষা দূষণ’ বন্ধ করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে সরকার ও সব বেসরকারী বেতার ও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় সব আদেশই ইংরেজি ভাষায় দেয়া হলেও আদালত এ আদেশটি দিয়েছেন বাংলা ভাষায়। আদেশে আদালত বলেন, “আমরা আদেশ জারি করছি যে, বাংলা ভাষার পবিত্রতা রক্ষা করতে সর্বোতভাবে চেষ্টা করতে হবে। এই ভাষার প্রতি আর কোনো আঘাত যাতে না আসে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।”

বিকৃত বাংলা উচ্চারণে অনুষ্ঠান প্রচার ও ইংরেজি কিম্বা অন্যান্য ভাষা মিশিষে ভাষা দূষন বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না; সে মর্মে সংস্কৃতি সচিব, তথ্য সচিব, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসির চেয়ারম্যান, সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কর্মকর্তা; রেডিও টুডে, রেডিও এবিসি ও রেডিও ফুর্তির প্রধান কর্মকর্তার প্রতি রুল জারি করেছে আদালত। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে হবে।

সংবাদ মাধ্যমে বাংলা ভাষার বিকৃত করে উচ্চারণ বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলোতে লেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখা এক নিবন্ধের অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করে রকিবউদ্দিন আহমেদ ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন। রকিবউদ্দিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও বর্তমানে পেশায় সরকারি কর্মকর্তা।
 
বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ আবেদনটির শুনানি শেষে আদেশ দেন যে, বাংলা ভাষার দূষণ, বিকৃত উচ্চারণ, ভিন্ন ভাষার সুরে বাংলা উচ্চারণ, সঠিক শব্দ চয়ন না করা এবং বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি করতে হবে।
 
এসব বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে ২০ মার্চের মধ্যে আদালতে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে।

এই কমিটিতে কে কে থাকবেন, তা নির্ধারণে চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয় আনিসুজ্জামানকে। তবে আদালত কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কবি নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ ও সৈয়দ শামসুল হকের নাম প্রস্তাব করেছেন। আদালত বলেন, “তাদের কমিটিতে রাখা যেতে পারে।”

শুনানিতে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান ও মুরাদ রেজা, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বক্তব্য রাখেন।

আদালতের আদেশে যা আছে
শুনানি শেষে আদেশে আদালত বলেন, “রকিবউদ্দিন আহমেদ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বাংলা ভাষায় দূষণ প্রক্রিয়ায় ব্যথিত হয়ে, চিন্তিত হয়ে, এটা রোধকল্পে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি উপসম্পাদকীয় আমাদের নজরে এনেছেন, যাতে বলা হয়েছে, ভাষা দূষণ নদী দূষণের মতোই ভয়ঙ্কর।’’

“এই ভাষা বঙ্গবন্ধুর ভাষা, রবীন্দ্রনাথের ভাষা, শরৎচন্দ্রের ভাষা, জীবনানন্দের ভাষা, বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষা, আলাওলের ভাষা, সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষা, লালনের ভাষা, হাসন রাজার ভাষা, শাহ আব্দুল করিমের ভাষা, জসীম উদ্দীনের ভাষা ও কায়কোবাদের ভাষা।’’

“এই ভাষার ওপর আজ বলাৎকার চলছে। আমাদের জাতি সত্ত্বার অস্তিত্ত্ব রক্ষার জন্যই অনতিবিলম্বে এটা রোধ করতে হবে। বাংলা আজ কেবল বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার ভাষা নয়, এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ভাষা।”

“এ ভাষার জন্য রফিক-জব্বার শহীদ হয়েছেন, ভাষা দিবস আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ ভাষাতে রবীন্দ্রনাথ প্রথম এশীয় হিসাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এ ভাষা চর্চার কারণে আজ লন্ডনে শেক্সপিয়র জাদুঘরে তার ভাষ্কর্য স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন দেশে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, লালন ও হাসন রাজার ওপর গবেষণা হচ্ছে।”

“বিশ্বের নানা দেশ থেকে ভাষা বিশেষজ্ঞরা এদেশে এসে এ ভাষার প্রাচুর্য অনুসন্ধান করছেন। এই ভাষায় বঙ্গবন্ধু প্রথম জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন, যা সে সময় বিশ্ব নেতাদের মুগ্ধ করেছিলো।”

“পৃথিবীতে বাংলাই একমাত্র ভাষা যার জন্য মানুষ রক্ত দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম দৃষ্টান্ত আর দ্বিতীয়টি নেই। সুতরাং এ ভাষার পবিত্রতা আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে।”

‘ধর্মান্ধতার বশবর্তী হয়ে যারা বাংলা ভাষার ওপর একসময় আক্রমণ করেছিল’ তাদের সেই চেষ্টা এখনো চলছে উল্লেখ করে আদালতের আদেশে বলেন, “তাদের অগ্রযাত্রা আমরা চলতে দিতে পারি না।”

 মামলার পরবর্তী শুনানিতে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার আকতার ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সদরুল আমিন, লেখক সৈয়দ শামসুল হক ও সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের বক্তব্য শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে