Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (58 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-২৭-২০১৪

গাজার মুসলমানরা এখন গির্জাতেই নামাজ আদায় করছেন

গাজার মুসলমানরা এখন গির্জাতেই নামাজ আদায় করছেন

গাজা, ২৭ জুলাই- প্রাণভয়ে ওরা আশ্রয় নিয়েছে একটি গির্জায়। ইসরায়েলি হামলা থেকে অন্তত গির্জাটিকে নিরাপদ ভাবছে তারা। সেখানেই ছোট পরিসরে একসঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দাঁড়ায় ওরা। তাদের সেজদা বরাবর কিবলামুখে রয়েছে যিশুখ্রিস্টের একটি মূর্তি। কিন্তু সেটাকে তারা গ্রাহ্য করে না। ইসরায়েলের নৃশংতার বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে প্রার্থনায় রত থাকে নিরুপায় এই ফিলিস্তিনিরা।

ইসরায়েলি হামলায় তাড়া খেয়ে গাজার এই গির্জায় আশ্রয় নেওয়া মাহমুদ খালাফের (২৭) কাছে বিষয়টি শুরুর দিকে বিভ্রান্তিকর লাগলেও এখন সয়ে গেছে। গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর এই গির্জায় আশ্রয় নেওয়া ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা ছিল না।

গির্জায় গিয়ে নামাজ পড়তে হবে- এমন ভাবনা খালাফের দুঃস্বপ্নেও কখনো আসেনি। বললেন, 'ওরা আমাদের নামাজ পড়তে দেয়। এ ঘটনার পর খ্রিস্টানদের সম্পর্কে আমার ভাবনাই পাল্টে গেছে। আমি আগে তাদের কাউকে সেভাবে চিনতাম না। তবে এখন তারাই আমাদের ভাই। গত রাতে আমরা সবাই (আশ্রয় নেওয়া মুসলমান) একসঙ্গে নামাজ পড়েছি। মুসলমান আর খ্রিস্টানদের মধ্যে সৌহার্দ্য ক্রমেই বাড়ছে।'

গাজা সিটির এই গির্জার নাম সেইন্ট পরফিরিয়াস চার্চ। এই গির্জার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন খ্রিস্টানদের সম্ভাষণ 'মারহাবান' কানে আসে, ঠিক তেমনি শোনা যায় মুসলমানদের 'আসসালামু আলাইকুম'। দুই সপ্তাহ ধরে এটাই হয়ে উঠেছে গাজার উৎপীড়িত, বাস্তুচ্যুত, প্রাণভয়ে ছুটে বেড়ানো অন্তত ৫০০ ফিলিস্তিনির আশ্রয়।

খালাফ আরো বলেন, 'খ্রিস্টানরা আমাদের গ্রহণ করেছে। তারা আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।' তিনি বললেন, 'খ্রিস্টানরা অবধারিতভাবেই রোজা রাখে না। তবে তারা দিনের বেলায় আমাদের সামনে পানাহার থেকে বিরত থাকে। আমাদের সামনে ধূমপান করে না, এমনকি পানিও পান করে না।'

গাজায় ইসরায়েলের দানবীয় হামলায় সহস্রাধিক লোক নিহত হয়েছে। তাদের অন্তত ৮০ শতাংশই নিরীহ মানুষ। খালাফ বললেন, 'আমি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তবে রোজার মধ্যেও আমি গাজাকে জ্বলতে দেখছি। আমি রোজা রাখতে পারছি না। যুদ্ধ আমাকে ভীত, আতঙ্কিত করে তুলেছে।'

রমজানও প্রায় শেষ দিকে। সামনে ঈদ। তবে অবিরাম বোমাবর্ষণ, শত শত মৃত্যু, হাজারো গৃহহীনকে নিয়ে গাজায় ঈদের খুশি কি আসবে? গির্জাটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন সাবরিন আল-জায়ারা। এই মুসলিম নারী বললেন, 'খ্রিস্টান আর মুসলমানরা এবার একসঙ্গেই ঈদের আনন্দ করতে পারত। তবে এ বছর ঈদুল ফিতর তো আর রোজা ভাঙার উৎসব নয়। এবারের এই উৎসব শহীদদের।' ১৭ লাখ মানুষের গাজায় খ্রিস্টান আছে হাজার দেড়েক। খ্রিস্টান স্বেচ্ছাসেবী তওফিক খাদের বলেন, 'যিশু বলেছেন, শুধু পরিবার নয়, প্রতিবেশী, সহকর্মী- মুসলমান, শিয়া, হিন্দু, ইহুদি- সবাইকে ভালোবাসো। সূত্র : এএফপি।

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে