Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৩ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (134 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১৪-২০১৪

যে ১০ কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই বিশ্বকাপ

সামিউল আজিজ


যে ১০ কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপটা যেন ধূমকেতুর মতো। অনেক বছরের প্রতীক্ষার পর আসে, ধূমকেতুর মতো চোখের পলকে চলেও যায়। এই আসা-যাওয়ার মাঝে সারা মাস মাতিয়ে রাখে পুরো বিশ্বকে। তবে পাখি উড়ে গেলে যেমন পালক রেখে যায়, বিশ্বকাপের মহোত্সব সাঙ্গ হলেও থেকে যায় ফুটবলীয় রোমাঞ্চ ও দারুণ সব ঘটন-অঘটনের ঘনঘটা। সদ্য শেষ হওয়া ব্রাজিল বিশ্বকাপকে মনে রাখার মতো ১০টি কারণে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন এখনই—


এক
সুয়ারেজের কামড়কামড়-কাণ্ড: ইতালির কিয়েলিনির ঘাড়ে কামড় দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ হন উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ। অথচ আগের ম্যাচেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দলকে জিতিয়ে তিনি হতে চলেছিলেন বিশ্বকাপের নায়কদের একজন। সুয়ারেজের এই কামড়-কাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এখনো থামেনি পত্রিকা আর ফেসবুক-টুইটারে।

দুই
সোনার ছেলে হামেস: হামেস রদ্রিগেজ—কলম্বিয়ান এই তরুণ নিঃসন্দেহে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। প্রথমবারের মতো কলম্বিয়াকে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই তোলেননি, ছয় গোল করে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপেই জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন বুট।  
তিন
মেসির অপূর্ণতা: জেতা সম্ভব ফুটবলের এমন সব শিরোপাই দখলে। আসল ট্রফিটাই যেন এখনো অধরা—স্বপ্নের বিশ্বকাপ। স্বপ্ন পূরণের মিশনে নামা মেসিকে থামতে হলো লক্ষ্য থেকে মাত্র এক পা দূরে। ২৪ বছর পর দলকে ফাইনালে তুলেও কাপটা ছুঁতে পারলেন না।

চার

দুই হাতের জাদু: শুধু বলে লাথি মেরে গোল করাই ফুটবল না। দু হাতের কারুকার্যেও থাকতে পারে দারুণ ফুটবলীয় সৌন্দর্য, তা প্রমাণ করেছেন এবারের গোলকিপাররা। গোলকিপারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখবে অনেক দিন।

পাঁচ

সাম্যের জয়গান: ছোট দল ও বড় দলের সংজ্ঞাকে বদলে দিয়েছে এবারের বিশ্বকাপ। চিলি, কোস্টারিকা, কলম্বিয়া, আলজেরিয়া ও অন্য ছোট দলগুলো বড় দলের সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করেছে। ম্যাচগুলোও ছিল ‘কেহ কারে নাহি জিনে সমানে সমান’। যা বিশ্বকাপকে করেছে দারুণ উপভোগ্য।

ছয়

গোলবন্যার বিশ্বকাপ: এবারের বিশ্বকাপ উপভোগ্য হওয়ার আরেকটি কারণ গোলবন্যা। এই বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে গোল হয়েছে ১৭১টি, যেটি এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের যৌথ রেকর্ড। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে এতগুলো গোল হয়েছিল। দ্বিতীয় রাউন্ডে অবশ্য গোল কমতে শুরু করে। টানটান উত্তেজনার এক্সট্রা টাইম আর কয়েকটি পেনাল্টি শ্যুট আউটও দেখেছে এবারের বিশ্বকাপ।

সাত

ব্রাজিলের জার্মান-লজ্জা: ৬৪ বছর আগে মারাকানায় উরুগুয়ের কাছে হেরে সেবারের স্বাগতিক ব্রাজিল জন্ম দিয়েছিল ‘মারাকানাজো’র। এত বছর পর আবারো স্বাগতিকদেরকে শোকে ভাসালো জার্মানি। মিনেইরোর মাঠে ৭-১ গোলে হারের এই লজ্জা এবার অভিহিত হয়েছে ‘মিনেইরোজো’ নামে!

 

আট

উড়ল নতুনের কেতন: ব্রাজিল বিশ্বকাপেই প্রথম গোললাইন প্রযুক্তি ও কুলিং ব্রেক দেখেছে বিশ্ব। দেখেছে ম্যাজিক স্প্রের ব্যবহার। ফুটবলের আধুনিকায়নের মাইলফলক হয়ে থাকবে এই বিশ্বকাপ।

 

চোটের পর মাঠে শুয়ে নেইমার

নয়

নেইমারের ইনজুরি: সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চলছিলেন ব্রাজিলকে। কিন্তু শেষ আটে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জুনিগার বিধ্বংসী ট্যাকলে মেরুদণ্ডের হার ভেঙে গেল বার্সেলোনা তারকার। ফলাফল—বিশ্বকাপটাই শেষ হয়ে গেল তাঁর। শুধু নেইমারের নয়, কার্যত তখন বিশ্বকাপটা শেষ হয়েছিল ব্রাজিলেরই।

দশ

ক্ষমতার পালাবদল: টুর্নামেন্টের আগে ফেবারিটদের তালিকায় শীর্ষস্থানটি দখল করে রেখেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে গত ছয় বছর ফুটবল বিশ্বের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকা দেল বক্সের দল হল্যান্ডের কাছে হারলো পাঁচ গোল খেয়ে। তারপর চিলির কাছে হেরে গ্রুপ রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়ে হয়তো সমাপ্তি টেনে দিল টিকিটাকার স্বর্ণযুগের। শিরোপা জিতে নিল একক সুপারস্টারহীন দল জার্মানি। গত বছর বায়ার্ন মিউনিখ যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতে, তখনই বলাবলি হচ্ছিল, বিশ্ব ফুটবলের ভরকেন্দ্র স্পেন থেকে সরে গিয়ে হয়তো জার্মানদের করতলে যাচ্ছে। নতুন যুগ শুরুর ঘোষণাটা বিশ্বকাপ জিতেই দিয়ে দিল জার্মানি।

এই ১০টি ছাড়া আর কী কী কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে আপনার বিশ্বকাপ? প্রিয় পাঠক, মন্তব্য করে জানাতে পারেন আপনার হিসাবে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি। সেটি হতে পারে ব্যক্তিগত কোনো স্মৃতিও।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে