Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ , ১ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১০-২০১৪

সাত গোল! কিন্তু কেন?

সাত গোল! কিন্তু কেন?

ব্রাসিলিয়া, ১০ জুলাই- ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতা! ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত। গোল-আগুনে পুড়ে ছাই। অসহায় আত্মসমর্পণ। স্বাগতিক দলকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এভাবে খুবলে খাওয়ার নজির নেই বললেই চলে। তার ওপর আবার ভুক্তভোগী দলটার নাম ব্রাজিল। যাদের রয়েছে বর্ণিল এক ফুটবল ইতিহাস।

নিজেদের এমন জয়ে জার্মানিও যারপরনাই হতবাক। এতটা একপেশে ম্যাচ হবে বলে আশাও করেননি জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। স্কলারি অনুধাবন করতে পেরেছেন তিন গোলের পর। কী কারণে এমনভাবে ব্যর্থ হল ব্রাজিল?

সিলভা নেই, রক্ষণ নেই: ব্রাজিলের রক্ষণ নিয়ে অধিনায়ক সিলভা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বেশ বড়াই করেছিলেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচ থেকেই ব্রাজিল ভক্তদের মনে রক্ষণ নিয়ে শঙ্কা জাগতে থাকে। মার্সেলো, দানি আলভেজ, ডেভিড লুইজ থাকলেও মূলত সিলভা এদের মধ্যমণি। সবাইকে একসুতোয় গাঁথতে তার জুড়ি নেই। সেমিফাইনালে হলুদ কার্ড সংক্রান্ত আইনের বলি হয়ে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। কর্নার থেকে মুলার যে গোলটি করেছেন তা ছিল অসতর্কতার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। মুলারের মতো গোল-স্কোরার এভাবে সবার পিছনে একাএকা ওত পেতে থাকবেন, আর তা কেউ দেখবেন না, এটা মানতে কষ্ট হয়। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সতর্ক করার কাজটা মূলত সিলভাই করে থাকেন। এক্ষেত্রে সিজারও দায় এড়াতে পারেন না। কর্নার কিকের সময়, কিংবা কাউন্টার অ্যাটাকের পূর্বাভাস দেখা দিলে সাধারণত প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের মার্ক করতে গলা ফাটান গোল-রক্ষকরা। সিজার কেন মুলারকে দেখলেন না, সে প্রশ্নের উত্তর তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

এরপর ক্লোজা সিজারের গায়ে লাগা ফিরতি বল কীভাবে সবার আগে লুফে নিলেন, মিলছে না সে প্রশ্নের উত্তরও। এভাবে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে ভুলের মহড়া। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম গোলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রক্ষণভাগে বল ফেলে মিডফিল্ডে দাঁড়িয়ে আছেন ডিফেন্ডাররা! আর গোলগুলো এত দ্রুত হয় যে ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে উঠতেও সময় লেগেছে। আর এতেই প্রমাণিত হয়, লুইজরা খেলায় শতভাগ মনোযোগ দিতে পারেননি অথবা দেননি।

এরপর ষষ্ঠ গোলের ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম দৃশ্য চোখে পড়ে। রাইট ফ্লাঙ্ক দিয়ে নিচু হয়ে আসা ক্রস ব্রাজিলিয়ানরা চেয়ে চেয়ে দেখছিলেন, সবাইকে ফাঁকি দিয়ে আলতোভাবে বল পায়ে ফেলেন আন্দ্রে শুরলে। উপহার পাওয়া ক্রসকে গোলে পরিণত করতে কোনো রকম ভুল করেননি তিনি। সপ্তম গোলের সময় ডি বক্সের চারপাশ বেশ ফাঁকা ছিল। ডিফেন্ডারও তখন ছন্নছাড়া। সিজার বলের দিকে ছুটে এসেও নাগাল পাননি। হতাশায় বারের নিচে শুধু চিৎকার করে যান তিনি।

নেইমার নেই তো কেউ নেই: বয়সে তরুণ হলেও দলের ভার বইতে হয় তাকেই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ইনজুরিতে পড়ে সেমিতে খেলা হয়নি তার। মাঠে থাকলে কখনো তিনি প্লে-মেকার আবার কখনো গোলের উৎস। এছাড়া নেইমার থাকলে মাঝমাঠ, রক্ষণভাগের কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। মাঠ বড় করে খেলতে সুবিধা হয়। নেইমার না থাকায় মানসিক প্রভাব পড়েছে দলের ওপর। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ছেলেদের হাতে নেইমারের জার্সি ধরিয়ে দিয়েছিলেন স্কলারি। মনে হয় এ কারণে খেলোয়াড়দের মাথার ভেতর ‘নেইমার নেই’ শব্দটা আরো বেশি করে গেঁথে গিয়েছিল। অস্কার সান্ত্বনার একমাত্র গোলটি করলেও ফরওয়ার্ডে তার প্রতিটি পদচারণ ছিল দৃষ্টিকটু।

জার্মানি আহামরি ভালো খেলেছে, তাই ব্রাজিল হেরেছে-গতকালের ম্যাচের পর এটাও বলা যাচ্ছে না। স্কলারির কী পরিকল্পনা ছিল তা মোটেও বুঝে ওঠা যায়নি। তবে প্রথম তিন-চার মিনিট থেকে বোঝা গেছে জার্মানিকে প্রথম থেকে চেপে ধরতে চেয়েছিল ব্রাজিল। এজন্য একসাথে আক্রমণে যেতে দেখা গেছে তাদের। কিন্তু বল জার্মানরা নিয়ে নিলে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নিচে ফুটবলের ভাষায় যাকে বলে আপ থেকে ডাউনে নামতে সমস্যা দেখা গেছে মারাত্মকভাবে। ম্যাচ শেষে শুধু এতটুকু মনে হয়েছে- জার্মানির নিজস্ব গেম-প্লান কাজে লাগানোর আগেই যা হওয়ার তা হয়ে গেছে!

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে