Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৮-২০১৪

অপরাধ ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশ

অপরাধ ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশ

ঢাকা, ০৮ জুলাই- অপরাধী শনাক্ত করতে বাংলাদেশের পুলিশ ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছেন। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ভেহিক্যাল থ্যোফট অ্যান্ড রিকভারি ডাটাবেজ, মেটাল ডিটেক্টর, ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স ক্যামেরা, ডিএনএ টেস্ট, কলটেকিং, ওয়াকিটকি, ইলেকট্রনিক্স ট্রাফিক সাইন বোর্ড, মোবাইল ট্র্যাকিং ইত্যাদি প্রযুক্তি সেবার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এসব সেবা বাস্তবায়নের জন্য কয়েক দফায় পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে পাইলট প্রেজেক্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বলছে, এটি বাস্তবায়ন করা গেলে অপরাধী শনাক্ত, অপরাধপ্রবণতা কমানো, চুরি হওয়া গাড়ি শনাক্ত ও উদ্ধারসহ যানজট কমানো সহজ হয়ে যাবে।

পাইলট প্রজেক্ট শুরু হলো চট্টগ্রামে
প্রযুক্তির ব্যবহারে এসব সেবা বাস্তবায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে গত ৩০ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)তে নতুনভাবে সংযোজন হওয়া প্রযুক্তিনির্ভর এ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) বনজকুমার মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) এ কে এম শহিদুর রহমানসহ নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার বাবুল আক্তার। নগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে নগরীর সাতটি প্রবেশপথসহ ১৭টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে ৫৬টি কোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করেছে নগর পুলিশ। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো নগরীকে কোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সিএমপির। তবে পুরো নগরীতে ক্যামেরা বসাতে আরো তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে বলে জানান পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রুত সেবা দেয়া ও অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণসহ যানজটের ভোগান্তি কমাতে নগর পুলিশের এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নগরবাসীকে সেবা প্রদানে সহায়ক হবে। একই সাথে সিএমপির মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান কমিশনার। নগর পুলিশের উপকমিশনার বাবুল আক্তার বলেন, তিন ধরনের ক্যামেরা আমরা স্থাপন করছি। এর মধ্যে আছে পিটিজেড ক্যামেরা যেটা গাড়ির নম্বর সংরণ করবে। ফেস ডিটেক্টর ক্যামেরা আছে যেগুলো মিটিং-মিছিল, সমাবেশসহ জনসমাগমের চিত্র নিখুঁতভাবে ধারণ করবে।১২০০ টিবিএল ক্যামেরা আছে যেগুলো আশপাশের সব চিত্র ধারণ করবে।


আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে ই-পুলিশ সিস্টেমে যা থাকছে

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ই-পুলিশ সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। গত ৬ বছরে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে প্রকৃত অপরাধী সনাক্ত করতে উন্নত ধরনের মোবাইল ট্র্যাকিং পদ্ধতি বেশ প্রশংসা পেয়েছে। এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক অপরাধীকে ধরতে সক্ষম হয়েছেন আইন-শৃংখলা বাহিনীর লোকজন। বেশ আগে থেকেই বাংলাদেশে সিসিটিভি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তারপরেও তা রাজধানীতে ব্যাপক আকারে ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধীদের নানা কায়দা-কৌশল। দুর্বল রেডিও সিস্টেম, মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি দিয়ে পুলিশ প্রশাসন মোটেই চলতে পারে না। অর্থাৎ পুলিশ প্রশাসন এনালগ সিস্টেম থেকে চলে আসছে ডিজিটাল সিস্টেমে। বলা যেতে পারে, গোটা বিশ্বেই বর্তমানে চলছে ডিজিটাল প্রতিযোগিতা। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপরও। অর্থাৎ দেশ কেন এ থেকে পিছিয়ে থাকবে। পুলিশের ডিজিটাল কার্যক্রম সিথ্রিএস বা কমান্ড কন্ট্রোল এন্ড কমিউনিকেশন সিস্টেম নামেই বেশি পরিচিত। সিসিটিভি'র মাধ্যমে অপরাধের চিত্র চোখে পড়ামাত্র পুলিশ পৌঁছে যাবে ঘটনাস্থলে। প্রাপ্ত ছবি বা চিত্রগুলো রেকর্ড করা হবে যা পরবর্তীতে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এদিকে ট্রাফিক সাইন বোর্ড প্রদর্শন করবে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তাঘাটের যানবাহন চলাচলের দৃশ্য বা অবস্থা। কোনো কারণে যানজট দেখা দিলে ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত সেই স্থানে গিয়ে পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবেন। বাংলাদেশে পরিবহন খাতে প্রচুর দুর্নীতি হয় বলে অভিযোগ নানা মহলের। ট্রাফিক সাইন বোর্ডের মাধ্যমে তা সনাক্ত করে দুর্নীতি-অনিয়ম (রাস্তা-ঘাটের) কম-বেশি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সাধারণ চালকদের ক্ষেত্রে রাস্তাঘাটের নানা অবস্থা জানতে সহজ করবে সাইন বোর্ডগুলো। এতে করে অনেক সময় যানজট এড়াতে তারা বিকল্প পথ বেছে নিতে পারবেন। বর্তমানে যানজট রাজধানীবাসীর শুধু নয় গোটা দেশের মানুষের জন্য চরম বিড়ম্বনার। যানজটের কারণে নগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে করে পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে আশংকাজনক মাত্রায়। এক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জানা গেছে, যানজটের ফলে নগরীতে প্রতিদিন জ্বালানি অপচয় হচ্ছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার। যা দেশের অর্থনীতির জন্যও শুভ নয়।

অপরাধী ধরতে মোবাইল ফোনের ভূমিকা
থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করেই বেশির ভাগ মামলার তদন্ত করে থাকেন। এর মধ্যে মোবাইল ফোন অন্যতম। খুন, ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই, চুরিসহ গুরুতর সব অপরাধের তদন্তকাজে তারা প্রযুক্তির ব্যবহার করে থাকেন। এসব মামলার আসামিদের গ্রেফতার এবং শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়ে থাকে মোবাইল ট্রাকার। সন্দেহভাজন আসামি ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মোবাইল ফোন শনাক্ত করার পর তা রেকর্ড করে গতিবিধি এবং কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে ওই সন্দেহভাজনকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়ে থাকে। এর আগেই তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের কললিস্ট সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের তালিকা করে থাকে।

যেভাবে ট্র্যাকিং করে অপরাধী ধরা হয়
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করা এখন খুব কঠিন কাজ নয়। যে এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে নির্ধারিত সে এলাকায় মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমেই ঘটনার সময়ে থাকা মোবাইল ফোনগুলো চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। এরপর এসব মোবাইল নম্বরগুলো সংগ্রহ করে তাদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়। এসব নম্বর থেকে সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বরগুলো চিহ্নিত করে চলে তদন্তের কাজ। তবে কেউ মোবাইল ফোন থেকে সিম পরিবর্তন করলেও ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর দিয়ে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা সম্ভব। তবে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সন্দেহভাজন মোবাইল ফোনটি ব্যবহার বন্ধ থাকলে অপরাধীকে খুঁজে পেতে সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির নিকটাত্মীয় কিংবা বন্ধুদের মোবাইল ফোনের ওপর নজরদারি চলে। দীর্ঘদিন পরে হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিকটাত্মীয় কিংবা বন্ধুদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করামাত্রই তাকে শনাক্ত করা হয়। এরপরই চলে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের কাজ। এছাড়া একটি অপরাধ সংগঠনের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে যেসব ব্যক্তি থাকেন পার্শ্ববর্তী টাওয়ার থেকে তাদের মোবাইল ফোন নম্বরগুলো সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত পরিচয় সংগ্রহ ছাড়াও তাদের গতিবিধি মনিটরিং করা হয়। এতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। পুলিশ বলছে, যে কোনো ঘটনা তদন্তে পুলিশ মোবাইল ট্রাকারকে বর্তমানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এ খবর এখন অপরাধীদের কাছেও পৌঁছে গেছে। এর ফলে যাদের এ সম্পর্কে ধারণা রয়েছে তারা অপরাধ সংঘটনের পরপরই মোবাইল ফোনটি ফেলে দিচ্ছে অথবা ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দিচ্ছে। এ কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধের মোটিভ উদ্ধারেও বিলম্ব হচ্ছে।

আসছে ড্রোন
এদিকে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নজরদারির উপকরণ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ওই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গত ২২ জানুয়ারি ডিএমপি সদর দপ্তরে দেশের ৪ উদ্ভাবকের তৈরি করা একটি ড্রোন পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয়। সদর দপ্তরের সামনের বাগানে দূর নিয়ন্ত্রিত চার পাখাওয়ালা সরাসরি মাটি থেকে উড়তে ও নামতে সক্ষম ওই ড্রোনটির (কোয়াড কপ্টার) পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন দেখেন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের চার যুবকের গড়ে তোলা কোম্পানি অ্যারো রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ এই ড্রোনটি বানিয়েছে। বুয়েট থেকে পাশ করা খায়রুজ্জামান বিপ্লব, শাহনেওয়াজ ভুঁইয়া, আজিজুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই কোম্পানির উদ্যোক্তা। ১০ মিনিটের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন দেখার পরে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য ডিএমপিতে অনেকগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ আমরা সংযুক্ত করেছি। কিছুদিন আগে মোবাইল কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার যুক্ত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা ডিএমপিতে চারটি ড্রোন যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই ধরনের কোয়াটো কপ্টার ডিএমপিতে প্রয়োজন রয়েছে।’ এদিকে ড্রোনের উদ্যোক্তারা জানান, ডিএমপিতে প্রদর্শিত যানটির নাম তাঁরা দিয়েছেন বাংলা ড্রোন। এতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি শক্তির উত্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান অবস্থায় বাংলা ড্রোন একটানা সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট আকাশে উড়তে পারে। এটির ওজন প্রায় দেড় কেজি। এটি আরো এক কেজি পরিমাণ ওজন বহন করতে পারে। তবে ডিএমপির চাহিদা অনুযায়ী আরো উন্নত বৈশিষ্ট্যের যান বানানো সম্ভব। আর ঘুড়ি-১ নামে আরেকটি কোয়াড কপ্টার নির্মাণাধীন আছে। এটি সর্বোচ্চ তিন কেজি ওজন বহন করতে পারবে। এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এ দেশীয় উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করাও একটা অন্যতম লক্ষ্য।’ দেশীয় প্রযু্ক্তিতে তৈরি করা মোবাইল কমান্ড সেন্টারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি তৈরি করতে বিদেশের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ খরচ হয়েছে। আমরা নিচ থেকে দেখেছি, এবার উপর থেকে দেখতে চাই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’ এর আগে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বর্ষবরণের নিরাপত্তা মহড়ায় প্রথমবারের মতো একটি বোমা অপসারণকারী রোবটের ব্যবহার করে ডিএমপি। সম্প্রতি যুক্ত হয় মোবাইল কন্ট্রোল।

ট্রিপল নাইন আরও সক্রিয় হচ্ছে
পুলিশের ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় অপর সুবিধা হচ্ছে কলটেকিং। বেশ আগে থেকেই কল টেকিং সুবিধা কম-বেশি পাওয়া যাচ্ছে ৯৯৯ (ট্রিপল নাইন) নম্বর টিপে। বলা হয়েছিল এই নম্বর চাপলে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যাবে পুলিশের লোকজন। তবে বর্তমানে এই কার্যক্রমকে আরও অ্যাকটিভ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। উল্লিখিত নাম্বারে কল দিলে পুলিশ কলকাঠীর নানা অসুবিধা দ্রুত জেনে পৌঁছে যাবে জায়গা মতো। আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে এটা একটা ভাল পদক্ষেপ বলা যায়। অটোমেটিক ভ্যাসেল লোকেশন সিস্টেম হচ্ছে সিথ্রিএস-এর আরও একটি অত্যাধুনিক কার্যকরি অংশ, যার মাধ্যমে কিছু জরুরি যন্ত্রপাতি লাগানো হবে পুলিশের গাড়িতে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অনেক বিষয় সম্বন্ধে অবহিত হওয়া যাবে। কোনো ধরনের ঘটনা বা অপরাধের সংবাদ/ তথ্য পাওয়া মাত্র উক্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিকটবর্তী পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে দ্রুত পাঠানো যাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এসবের পাশাপাশি থাকছে অত্যাধুনিক ওয়াকিটকি। এর প্রত্যেকটিতে থাকবে নিজস্ব কোড নম্বর। এর মাধ্যমে প্রদান করা যাবে ওয়ান-টু-ওয়ান ম্যাসেজ। একজন অপরজনের ম্যাসেজ শুনতে পারবেন না। রয়েছে একসঙ্গে কয়েকজনের সাথে কথা বলার আধুনিক সুবিধা। একই ম্যাসেজ সবার কাছেও পাঠানো যাবে। এসবের সংযোগ থাকবে সংশ্লিষ্ট সকল জায়গার সাথে তবে একথা বলা যায় যে, অতীতে আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে যান্ত্রিক নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এসবে তেমন সফলতা আসেনি, বেশির ভাগ প্রকৃত অপরাধীরা থেকে গেছে ধরাছোয়ার বাইরে। আশা করি এবার তা কমবেশি কাজে আসবে। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়বে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে